ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

পুলিশকে ফাঁকি দেওয়া নেহা বোরা

ভারতের রাজপথে এখন এক পরিচিত মুখ নেহা বোরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে বিগত কয়েক মাসে ক্ষুব্ধ ‘জেন–জি’ প্রজন্ম যে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, সেই প্রতিবাদী তরুণদের প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছেন ২৯ বছর বয়সী এই বামপন্থী ছাত্রনেত্রী। কয়েক মাস আগেও ছাত্ররাজনীতির বাইরে নেহা বোরার নাম খুব বেশি মানুষ জানতেন না। কিন্তু নেহা আন্দোলনকারীদের ধরতে আসা নিরাপত্তা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার এক বিশেষ কৌশল রপ্ত করেছেন। রাজপথের এই কৌশলী কর্মী আন্দোলনের মাধ্যমে মোদি সরকারের নীতি ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণদের একাংশের কাছে এক আইকনে পরিণত হয়েছেন। পুলিশ ট্রেন ও বাসে আসা আন্দোলনকারীদের দ্রুত আটক করে। এমনকি উড়োজাহাজে রাজধানীতে পৌঁছামাত্র ককরোচ আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উড়োজাহাজ থেকেই আটক করে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ি গ্রামের কৃষক বিদ্রোহ ছিল সেই আন্দোলনের অনুপ্রেরণা। বালাজি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে হতাশ ভারতের উন্নত জীবনের প্রত্যাশী মানুষেরা নেহার মতো নিঃস্বার্থ আন্দোলনকারীদের মধ্যে আশার সন্ধান পেয়েছেন।

গত ১২ অক্টোবর ভারতের প্রধান বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী হাজার হাজার সমর্থককে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে এক পদযাত্রা করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে আদালতে একটি আবেদন জমা দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় মিছিলে সামনে থাকা দুই নারীর কাঁধে হাত রেখে হেঁটেছিলেন রাহুল। ওই দুই নারীর একজন রাহুলের চেয়ে দুই বছরের ছোট বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, যাকে রাহুল নিজের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী বলে অভিহিত করেন। অপরজন ছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা এনে দেওয়া বিপ্লবী ধারার প্রকৃত উত্তরসূরিদের গ্রহণযোগ্যতা অস্বীকার না করলে আপনারা কীভাবে নিজেদের জাতীয়তাবাদের প্রধান প্রবক্তা দাবি করবেন?’।

মোদির ক্ষমতার ওপর নজিরবিহীন চাপ

টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের একের পর এক ঘটনার পর এবার ভোটার তালিকার বিতর্কিত সংশোধনের কারণে অন্তত ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় নিয়ে মোদি সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছেন ক্ষুব্ধ তরুণেরা। এই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা দ্রুতই মোদির ক্ষমতার বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের সংসদ ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায়ও বাম দলগুলো বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। মোদি সরকারের সমর্থকেরা সাধারণত সমালোচক ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ইঙ্গিত করতে ‘দেশবিরোধী’ তকমাটি ব্যবহার করেন।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান ধর্মঘট করলে পুলিশ সহজেই তাঁদের ধরে ফেলে এবং গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে নেহা বোরা ছিপছিপে গড়নের, কালো চুল এবং গম্ভীর ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের অধিকারী। তিনি আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার এড়াতে ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে চতুর কৌশল প্রয়োগ করে সফল হন। অন্যদিকে মোদির হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি বাম রাজনীতিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। এরপর কয়েক মাস আগে যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেহা টানা ২৩ দিন অনশন করেন।

ভিডিও গেম ও ‘গণতন্ত্রের দেবী’ উপাধি

নেহার এই অনন্য রাজপথ কৌশল ও জনপ্রিয়তা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে সফটওয়্যার ডেভেলপাররা তাঁকে কেন্দ্র করে ‘সুপার মারিও’ ধাঁচের এক অভিনব ভিডিও গেম তৈরি করেছেন। সেখানে গেমের প্রধান চরিত্র পুলিশের ব্যারিকেড টপকে ‘গণতন্ত্র পয়েন্ট’ সংগ্রহ করে এবং পুলিশ বাহিনী ও নিরাপত্তা সদস্যদের এড়িয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে সামনে ছুটে চলে।

দিল্লির ২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী নিশিতা নাথ সম্প্রতি সেন্ট্রাল দিল্লিতে বসে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা কি নেহাকে “গণতন্ত্রের দেবী” বলতে পারি?’ তিনি হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনের সময় তৈরি করা প্রতিকৃতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তবে রাজনৈতিক কোনো নেতাকে দেবতার আসনে বসানোর তীব্র বিরোধী নেহা বোরা নিজে কিন্তু এমন উপাধি বা তুলনা একেবারেই পছন্দ করেন না। তিনি ওমর খালিদ ও শারজিল ইমামের মতো মুসলিম রাজনৈতিক বন্দীদের পক্ষেও সব সময় সোচ্চার।

শিক্ষাজীবন ও শিল্পকলার পটভূমি

দিল্লির বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক ধরে শিল্পকলায় পড়াশোনা করেছেন নেহা। তিনি বিশ্বখ্যাত জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) নাট্যকলায় পোস্টডক্টরাল পর্যায়েও কাজ করেছেন। জেএনইউয়ে অধ্যয়নকালেই নেহা সক্রিয়ভাবে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে (আইসা) যোগ দেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জেএনইউর রাজনীতিতে আইসা নিজেদের বড় প্রভাব ধরে রেখেছে। সেখানেই যাবতীয় অপপ্রচারের প্রভাব মুছে গেছে।

নেহা বর্তমানে আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা ককরোচ আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে যন্তর মন্তরে কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। নেহার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা জানান, এই তরুণ বামপন্থী নেত্রী নিজেও খুব সুন্দর গান করতে পারেন এবং চমৎকার ডাফলি বাজাতে পারেন। তখন তথাকথিত “দেশবিরোধীরাও” মানুষ হিসেবে সহানুভূতি পান।’।

কৌশলগত ডিজিটাল আন্দোলন ও গোপন রাজনৈতিক ঐতিহ্য

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর হাজার হাজার তরুণ ছাত্র আন্দোলন ও ঘেরাও কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোদি সরকার পুরো নয়াদিল্লি শহরকে কার্যত অবরুদ্ধ ও কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘিরে ফেলে। সেদিন বিকেলে নেহা কৌশল বদলে ইনস্টাগ্রাম লাইভে আসেন। বিশ্বজুড়ে জেন–জি প্রজন্মের প্রতিবাদের প্রতীক অ্যানিমে ‘ওয়ান পিস’–এর টি–শার্ট পরে তিনি দক্ষিণ দিল্লির এক অভিজাত এলাকা থেকে গোপন বার্তা পৌঁছে দেন। ১০ অক্টোবর পুলিশ তরুণ নেতাদের আগেই আটক করার জন্য তৎপর হবে জেনে আইসার কর্মীরা নেহাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

নেহার রাজপথের রাজনীতির ধরন বুঝতে হলে আইসার ঐতিহাসিক পটভূমির দিকে তাকাতে হবে। ১৯৯০ সালের আগস্টে গঠিত হয় আইসা। এটি মূলত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী–লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন। এই দলটি কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়ন ও আইনি বাধার মুখে গোপনে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিল। পরবর্তীতে তারা ১৯৯০–এর দশকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পুরোপুরি পরিহার করে সংসদীয় মূলধারার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যুক্ত হয়। দলটির উত্থান ঘটে ১৯৬৭ সালে পূর্ব ভারতে শুরু হওয়া মাওবাদী নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বিদ্রোহের ধারায়। কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বর পেরিয়ে তিনি এখন ভারতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৯০–এর দশকে তারা সশস্ত্র পথ ত্যাগ করে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় যুক্ত হয়, যদিও তাদের কিছু ভাঙনধারা এখনো সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পক্ষপাতী।

নেহার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আইসার ২৫ বছর বয়সী আরেক ছাত্রনেতা দানিশ আলী বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে আমাদের মূল দল দীর্ঘদিন গোপনে পরিচালিত হতো। আজ আমরা সেই একই পুরোনো ও কার্যকর কৌশল অনুসরণ করছি, যা নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করে।’ দানিশ আরও যোগ করেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ও আদর্শিক লড়াইয়ে ব্রিটিশদের ফাঁকি দিতে বিপ্লবী ভগত সিং যেসব ঐতিহাসিক প্রতিরোধ কৌশল ব্যবহার করেছিলেন, তাঁদের দল আজ রাজপথে আন্দোলনের ক্ষেত্রে এখনো সেসব কৌশলের ওপর গভীর আস্থা রাখে। ১৯৩১ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ব্রিটিশ শাসকেরা ভগত সিংকে ফাঁসি দিয়েছিল। নেহার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে বিবেচিত নাগরিকত্ব আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক জাগরণ ঘটে।

রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও পরিবারের বিপরীত মেরু

ভারতের উত্তরাখন্ডের খাতিমা নামের এক ছোট্ট শহরে নেহা বোরার জন্ম। তাঁর বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে জম্মু, বেঙ্গালুরু, অমৃতসর এবং ভারতের বিভিন্ন সামরিক ছাউনিঘেরা শহরে।

তবে কৈশোরে পৌঁছানোর পরই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেহার রাজনৈতিক ও সামাজিক মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে বাড়তে থাকে। কারণ, তাঁর বাবা–মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ক্ষমতাসীন বিজেপির সক্রিয় ও কট্টর সমর্থক ছিলেন। একপর্যায়ে মতাদর্শগত তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে পরিবারের সঙ্গে তাঁর একপ্রকার মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। অনশন চলাকালের একটি বিশেষ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে নেহা বোরা পরে বলেন, হাজারো প্রতিবাদী মানুষের ভিড়ের মধ্য থেকে এক আন্দোলনকারী এসে তাঁকে বলেছিলেন, ‘বাইরে এক প্রবীণ নারী নিজেকে আপনার মা বলে পরিচয় দিচ্ছেন এবং কাঁদছেন।’

ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নির্বাচনী সম্ভাবনা

আইসার জ্যেষ্ঠ নেতা ও নেহার রাজনৈতিক পরামর্শক এন সাই বালাজি মত প্রকাশ করেন যে, এই অনশন কর্মসূচি এবং রাজপথের অকুতোভয় লড়াই নেহাকে রাতারাতি জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে পরিচিত করে তুলেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ তাঁর বামপন্থী প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের মেলাতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগের প্রজন্মের অনেক বামপন্থী নেতার বিরুদ্ধে মার্ক্সবাদকে অতিরিক্ত মতবাদনির্ভর, জটিল ও তাত্ত্বিকভাবে প্রয়োগ করার পুরোনো অভিযোগ থাকলেও নেহা হলেন বর্তমান নতুন যুগের এক বাস্তববাদী প্রতিনিধি। তবে নয়াদিল্লিভিত্তিক বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিম আলী মনে করেন, ছাত্রনেতাদের সরাসরি ক্যাম্পাস রাজনীতি থেকে বের করে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার বৃহৎ ও জটিল রাজনীতিতে জয়ী করে নিয়ে আসার মতো শক্ত তৃণমূল ভিত বা সংগঠন আইসার নেই। তিনি আরও বলেন, নেহার মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ নেতাদের মূলধারার সংসদীয় রাজনীতিতে সাফল্য পেতে হলে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের মতো বৃহৎ কোনো জাতীয় প্রগতিশীল দলে যোগ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। অনেক ছাত্রনেতাকে নিজ নিজ বাড়িতে নজরবন্দী করা হয়।

অন্যদিকে তরুণেরা নেহাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণভাবে অনুসরণ করছেন। তরুণ শিক্ষার্থী নিশিতা বলেন, ‘নেহা যেভাবে কথা বলেন, তাঁর স্পষ্ট কণ্ঠের ওঠানামা, বাতাসে উড়তে থাকা চুল—আমার ইনস্টাগ্রাম ফিডজুড়ে এখন শুধুই নেহা।’ মোদিবিরোধী এই আন্দোলন ও নতুন যুগের রাজনীতিতে নেহা বোরা নিজের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও শক্ত এক রাজনৈতিক জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লষকরা।

আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

পুলিশকে ফাঁকি দেওয়া নেহা বোরা

আপডেট সময় ০৯:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের রাজপথে এখন এক পরিচিত মুখ নেহা বোরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে বিগত কয়েক মাসে ক্ষুব্ধ ‘জেন–জি’ প্রজন্ম যে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, সেই প্রতিবাদী তরুণদের প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছেন ২৯ বছর বয়সী এই বামপন্থী ছাত্রনেত্রী। কয়েক মাস আগেও ছাত্ররাজনীতির বাইরে নেহা বোরার নাম খুব বেশি মানুষ জানতেন না। কিন্তু নেহা আন্দোলনকারীদের ধরতে আসা নিরাপত্তা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার এক বিশেষ কৌশল রপ্ত করেছেন। রাজপথের এই কৌশলী কর্মী আন্দোলনের মাধ্যমে মোদি সরকারের নীতি ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণদের একাংশের কাছে এক আইকনে পরিণত হয়েছেন। পুলিশ ট্রেন ও বাসে আসা আন্দোলনকারীদের দ্রুত আটক করে। এমনকি উড়োজাহাজে রাজধানীতে পৌঁছামাত্র ককরোচ আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উড়োজাহাজ থেকেই আটক করে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ি গ্রামের কৃষক বিদ্রোহ ছিল সেই আন্দোলনের অনুপ্রেরণা। বালাজি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে হতাশ ভারতের উন্নত জীবনের প্রত্যাশী মানুষেরা নেহার মতো নিঃস্বার্থ আন্দোলনকারীদের মধ্যে আশার সন্ধান পেয়েছেন।

গত ১২ অক্টোবর ভারতের প্রধান বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী হাজার হাজার সমর্থককে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে এক পদযাত্রা করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে আদালতে একটি আবেদন জমা দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় মিছিলে সামনে থাকা দুই নারীর কাঁধে হাত রেখে হেঁটেছিলেন রাহুল। ওই দুই নারীর একজন রাহুলের চেয়ে দুই বছরের ছোট বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, যাকে রাহুল নিজের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী বলে অভিহিত করেন। অপরজন ছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা এনে দেওয়া বিপ্লবী ধারার প্রকৃত উত্তরসূরিদের গ্রহণযোগ্যতা অস্বীকার না করলে আপনারা কীভাবে নিজেদের জাতীয়তাবাদের প্রধান প্রবক্তা দাবি করবেন?’।

মোদির ক্ষমতার ওপর নজিরবিহীন চাপ

টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের একের পর এক ঘটনার পর এবার ভোটার তালিকার বিতর্কিত সংশোধনের কারণে অন্তত ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় নিয়ে মোদি সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছেন ক্ষুব্ধ তরুণেরা। এই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা দ্রুতই মোদির ক্ষমতার বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের সংসদ ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায়ও বাম দলগুলো বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। মোদি সরকারের সমর্থকেরা সাধারণত সমালোচক ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ইঙ্গিত করতে ‘দেশবিরোধী’ তকমাটি ব্যবহার করেন।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান ধর্মঘট করলে পুলিশ সহজেই তাঁদের ধরে ফেলে এবং গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে নেহা বোরা ছিপছিপে গড়নের, কালো চুল এবং গম্ভীর ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের অধিকারী। তিনি আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার এড়াতে ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে চতুর কৌশল প্রয়োগ করে সফল হন। অন্যদিকে মোদির হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি বাম রাজনীতিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। এরপর কয়েক মাস আগে যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেহা টানা ২৩ দিন অনশন করেন।

ভিডিও গেম ও ‘গণতন্ত্রের দেবী’ উপাধি

নেহার এই অনন্য রাজপথ কৌশল ও জনপ্রিয়তা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে সফটওয়্যার ডেভেলপাররা তাঁকে কেন্দ্র করে ‘সুপার মারিও’ ধাঁচের এক অভিনব ভিডিও গেম তৈরি করেছেন। সেখানে গেমের প্রধান চরিত্র পুলিশের ব্যারিকেড টপকে ‘গণতন্ত্র পয়েন্ট’ সংগ্রহ করে এবং পুলিশ বাহিনী ও নিরাপত্তা সদস্যদের এড়িয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে সামনে ছুটে চলে।

দিল্লির ২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী নিশিতা নাথ সম্প্রতি সেন্ট্রাল দিল্লিতে বসে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা কি নেহাকে “গণতন্ত্রের দেবী” বলতে পারি?’ তিনি হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনের সময় তৈরি করা প্রতিকৃতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তবে রাজনৈতিক কোনো নেতাকে দেবতার আসনে বসানোর তীব্র বিরোধী নেহা বোরা নিজে কিন্তু এমন উপাধি বা তুলনা একেবারেই পছন্দ করেন না। তিনি ওমর খালিদ ও শারজিল ইমামের মতো মুসলিম রাজনৈতিক বন্দীদের পক্ষেও সব সময় সোচ্চার।

শিক্ষাজীবন ও শিল্পকলার পটভূমি

দিল্লির বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক ধরে শিল্পকলায় পড়াশোনা করেছেন নেহা। তিনি বিশ্বখ্যাত জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) নাট্যকলায় পোস্টডক্টরাল পর্যায়েও কাজ করেছেন। জেএনইউয়ে অধ্যয়নকালেই নেহা সক্রিয়ভাবে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে (আইসা) যোগ দেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জেএনইউর রাজনীতিতে আইসা নিজেদের বড় প্রভাব ধরে রেখেছে। সেখানেই যাবতীয় অপপ্রচারের প্রভাব মুছে গেছে।

নেহা বর্তমানে আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা ককরোচ আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে যন্তর মন্তরে কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। নেহার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা জানান, এই তরুণ বামপন্থী নেত্রী নিজেও খুব সুন্দর গান করতে পারেন এবং চমৎকার ডাফলি বাজাতে পারেন। তখন তথাকথিত “দেশবিরোধীরাও” মানুষ হিসেবে সহানুভূতি পান।’।

কৌশলগত ডিজিটাল আন্দোলন ও গোপন রাজনৈতিক ঐতিহ্য

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর হাজার হাজার তরুণ ছাত্র আন্দোলন ও ঘেরাও কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোদি সরকার পুরো নয়াদিল্লি শহরকে কার্যত অবরুদ্ধ ও কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘিরে ফেলে। সেদিন বিকেলে নেহা কৌশল বদলে ইনস্টাগ্রাম লাইভে আসেন। বিশ্বজুড়ে জেন–জি প্রজন্মের প্রতিবাদের প্রতীক অ্যানিমে ‘ওয়ান পিস’–এর টি–শার্ট পরে তিনি দক্ষিণ দিল্লির এক অভিজাত এলাকা থেকে গোপন বার্তা পৌঁছে দেন। ১০ অক্টোবর পুলিশ তরুণ নেতাদের আগেই আটক করার জন্য তৎপর হবে জেনে আইসার কর্মীরা নেহাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

নেহার রাজপথের রাজনীতির ধরন বুঝতে হলে আইসার ঐতিহাসিক পটভূমির দিকে তাকাতে হবে। ১৯৯০ সালের আগস্টে গঠিত হয় আইসা। এটি মূলত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী–লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন। এই দলটি কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়ন ও আইনি বাধার মুখে গোপনে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিল। পরবর্তীতে তারা ১৯৯০–এর দশকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পুরোপুরি পরিহার করে সংসদীয় মূলধারার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যুক্ত হয়। দলটির উত্থান ঘটে ১৯৬৭ সালে পূর্ব ভারতে শুরু হওয়া মাওবাদী নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বিদ্রোহের ধারায়। কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বর পেরিয়ে তিনি এখন ভারতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৯০–এর দশকে তারা সশস্ত্র পথ ত্যাগ করে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় যুক্ত হয়, যদিও তাদের কিছু ভাঙনধারা এখনো সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পক্ষপাতী।

নেহার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আইসার ২৫ বছর বয়সী আরেক ছাত্রনেতা দানিশ আলী বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে আমাদের মূল দল দীর্ঘদিন গোপনে পরিচালিত হতো। আজ আমরা সেই একই পুরোনো ও কার্যকর কৌশল অনুসরণ করছি, যা নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করে।’ দানিশ আরও যোগ করেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ও আদর্শিক লড়াইয়ে ব্রিটিশদের ফাঁকি দিতে বিপ্লবী ভগত সিং যেসব ঐতিহাসিক প্রতিরোধ কৌশল ব্যবহার করেছিলেন, তাঁদের দল আজ রাজপথে আন্দোলনের ক্ষেত্রে এখনো সেসব কৌশলের ওপর গভীর আস্থা রাখে। ১৯৩১ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ব্রিটিশ শাসকেরা ভগত সিংকে ফাঁসি দিয়েছিল। নেহার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে বিবেচিত নাগরিকত্ব আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক জাগরণ ঘটে।

রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও পরিবারের বিপরীত মেরু

ভারতের উত্তরাখন্ডের খাতিমা নামের এক ছোট্ট শহরে নেহা বোরার জন্ম। তাঁর বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে জম্মু, বেঙ্গালুরু, অমৃতসর এবং ভারতের বিভিন্ন সামরিক ছাউনিঘেরা শহরে।

তবে কৈশোরে পৌঁছানোর পরই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেহার রাজনৈতিক ও সামাজিক মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে বাড়তে থাকে। কারণ, তাঁর বাবা–মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ক্ষমতাসীন বিজেপির সক্রিয় ও কট্টর সমর্থক ছিলেন। একপর্যায়ে মতাদর্শগত তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে পরিবারের সঙ্গে তাঁর একপ্রকার মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। অনশন চলাকালের একটি বিশেষ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে নেহা বোরা পরে বলেন, হাজারো প্রতিবাদী মানুষের ভিড়ের মধ্য থেকে এক আন্দোলনকারী এসে তাঁকে বলেছিলেন, ‘বাইরে এক প্রবীণ নারী নিজেকে আপনার মা বলে পরিচয় দিচ্ছেন এবং কাঁদছেন।’

ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নির্বাচনী সম্ভাবনা

আইসার জ্যেষ্ঠ নেতা ও নেহার রাজনৈতিক পরামর্শক এন সাই বালাজি মত প্রকাশ করেন যে, এই অনশন কর্মসূচি এবং রাজপথের অকুতোভয় লড়াই নেহাকে রাতারাতি জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে পরিচিত করে তুলেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ তাঁর বামপন্থী প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের মেলাতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগের প্রজন্মের অনেক বামপন্থী নেতার বিরুদ্ধে মার্ক্সবাদকে অতিরিক্ত মতবাদনির্ভর, জটিল ও তাত্ত্বিকভাবে প্রয়োগ করার পুরোনো অভিযোগ থাকলেও নেহা হলেন বর্তমান নতুন যুগের এক বাস্তববাদী প্রতিনিধি। তবে নয়াদিল্লিভিত্তিক বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিম আলী মনে করেন, ছাত্রনেতাদের সরাসরি ক্যাম্পাস রাজনীতি থেকে বের করে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার বৃহৎ ও জটিল রাজনীতিতে জয়ী করে নিয়ে আসার মতো শক্ত তৃণমূল ভিত বা সংগঠন আইসার নেই। তিনি আরও বলেন, নেহার মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ নেতাদের মূলধারার সংসদীয় রাজনীতিতে সাফল্য পেতে হলে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের মতো বৃহৎ কোনো জাতীয় প্রগতিশীল দলে যোগ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। অনেক ছাত্রনেতাকে নিজ নিজ বাড়িতে নজরবন্দী করা হয়।

অন্যদিকে তরুণেরা নেহাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণভাবে অনুসরণ করছেন। তরুণ শিক্ষার্থী নিশিতা বলেন, ‘নেহা যেভাবে কথা বলেন, তাঁর স্পষ্ট কণ্ঠের ওঠানামা, বাতাসে উড়তে থাকা চুল—আমার ইনস্টাগ্রাম ফিডজুড়ে এখন শুধুই নেহা।’ মোদিবিরোধী এই আন্দোলন ও নতুন যুগের রাজনীতিতে নেহা বোরা নিজের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও শক্ত এক রাজনৈতিক জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লষকরা।