ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শীত শীত লাগলেও হতে পারে করোনা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শুধু সর্দি, কাশি, জ্বর, গলাব্যথা বা শ্বাসকষ্টই নয়। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের রোগীর দেহে আরও কয়েকটি ‘সাধারণ’ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংস্থা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- মাথাব্যথা, যখন-তখন শীতের অনুভূতি, প্রবল শীত বোধ থেকে দেহে কাঁপুনি ধরা এবং দেহের বিভিন্ন মাংসপেশিতে ব্যথা।

মার্কিন মুলুকে তো বটেই ইংল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই লক্ষণগুলো নানা বয়সের করোনা আক্রান্তদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বলে নিজেদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে সিডিসি।

এদিকে, এই একই ধরণের লক্ষণ দেখা গেছে দিল্লির সরকারি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল এইমসের বেশ কয়েকজন রোগীর মধ্যেও, যারা করোনার ‘আদর্শ’ লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসেননি। পরে তাদের দেহে সংক্রমণ মিলেছে।
ওই হাসপাতালের সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক নাজনিন নাহার বেগম নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, ‘এখানে এমন অনেক রোগী দেখা গেছে, যাদের মধ্যে করোনার কপি বুক লক্ষণ ছিল না। তাদের মধ্যে অনেকেই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন না। তার বদলে তারা মাথা ব্যথা, শীত বোধ করা এবং সারা গায়ের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাথার কথা বলেন। এই ধরনের রোগের উপসর্গ নিয়ে সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না। এখানেও করা হয়নি। কিন্তু অনেকের দেহে এমন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, এটা লক্ষ্য করার পরেই প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন দেখা যায় তারা করোনা পজিটিভ।’

পুরো বিষয়টি যে যথেষ্ট চিন্তার, তা স্পষ্টই জানিয়েছেন বাঙালি চিকিৎসক নাজনিন। তিনি আরও জানান, ‘এই রোগটা সম্পর্কে গোটা বিশ্বই খুব কম জানে। আর আমরা বোধহয় আরও কম। স্বভাবতই কোনো নির্দিষ্ট মডিউল মেনে এই রোগের চিকিৎসা করতে গেলে বারেবারে সমস্যায় পড়তে হতে পারে আমাদের। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, পুরো বিষয়টিতে একটু নমনীয় থাকা ভালো। হটস্পট থেকে আসা কোনো লক্ষণহীন ব্যক্তির অবশ্যই আগে করোনা পরীক্ষা করা দরকার।

একজন আগন্তুকের দেহে কোনো রোগের উপসর্গ দেখে সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে গেলে পরীক্ষা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পন্থা নেই আমাদের কাছে। তাই কপি বুক লক্ষণের বাইরে সিডিসির পরামর্শ অনুযায়ী উপসর্গ সম্পন্ন কোনো ব্যক্তি চোখে পড়লেই তার করোনা পরীক্ষা করা উচিত। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, উল্টো যদি তার করোনা হয়ে থাকে, তাহলে যত দ্রুত ধরা পড়বে, ততই ভালো।’

দিল্লি এইমস হাসপাতালে কর্মরত আরেক চিকিৎসক সায়ন নাথও জানান, তিনি ‘কপি বুক’ করোনা লক্ষণের বাইরে মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা, শীত বোধ করা, প্রবল শীত বোধ থেকে দেহে কাঁপুনি ধরার উপসর্গ সম্পন্ন রোগী দেখেছেন এইমসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হাসপাতালের অপর এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমার মনে হয়, যত দিন যাবে, ততই নতুন নতুন লক্ষণ যুক্ত হবে করোনার লক্ষণ তালিকায়। যতদিন না এই ভাইরাসের সব রহস্যভেদ হবে, ততদিন এই সন্দেহভাজন লক্ষণের তালিকা বাড়তেই থাকলে আমি অবাক হব না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শীত শীত লাগলেও হতে পারে করোনা!

আপডেট সময় ০৫:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শুধু সর্দি, কাশি, জ্বর, গলাব্যথা বা শ্বাসকষ্টই নয়। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের রোগীর দেহে আরও কয়েকটি ‘সাধারণ’ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংস্থা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- মাথাব্যথা, যখন-তখন শীতের অনুভূতি, প্রবল শীত বোধ থেকে দেহে কাঁপুনি ধরা এবং দেহের বিভিন্ন মাংসপেশিতে ব্যথা।

মার্কিন মুলুকে তো বটেই ইংল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই লক্ষণগুলো নানা বয়সের করোনা আক্রান্তদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বলে নিজেদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে সিডিসি।

এদিকে, এই একই ধরণের লক্ষণ দেখা গেছে দিল্লির সরকারি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল এইমসের বেশ কয়েকজন রোগীর মধ্যেও, যারা করোনার ‘আদর্শ’ লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসেননি। পরে তাদের দেহে সংক্রমণ মিলেছে।
ওই হাসপাতালের সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক নাজনিন নাহার বেগম নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, ‘এখানে এমন অনেক রোগী দেখা গেছে, যাদের মধ্যে করোনার কপি বুক লক্ষণ ছিল না। তাদের মধ্যে অনেকেই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন না। তার বদলে তারা মাথা ব্যথা, শীত বোধ করা এবং সারা গায়ের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাথার কথা বলেন। এই ধরনের রোগের উপসর্গ নিয়ে সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না। এখানেও করা হয়নি। কিন্তু অনেকের দেহে এমন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, এটা লক্ষ্য করার পরেই প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন দেখা যায় তারা করোনা পজিটিভ।’

পুরো বিষয়টি যে যথেষ্ট চিন্তার, তা স্পষ্টই জানিয়েছেন বাঙালি চিকিৎসক নাজনিন। তিনি আরও জানান, ‘এই রোগটা সম্পর্কে গোটা বিশ্বই খুব কম জানে। আর আমরা বোধহয় আরও কম। স্বভাবতই কোনো নির্দিষ্ট মডিউল মেনে এই রোগের চিকিৎসা করতে গেলে বারেবারে সমস্যায় পড়তে হতে পারে আমাদের। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, পুরো বিষয়টিতে একটু নমনীয় থাকা ভালো। হটস্পট থেকে আসা কোনো লক্ষণহীন ব্যক্তির অবশ্যই আগে করোনা পরীক্ষা করা দরকার।

একজন আগন্তুকের দেহে কোনো রোগের উপসর্গ দেখে সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে গেলে পরীক্ষা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পন্থা নেই আমাদের কাছে। তাই কপি বুক লক্ষণের বাইরে সিডিসির পরামর্শ অনুযায়ী উপসর্গ সম্পন্ন কোনো ব্যক্তি চোখে পড়লেই তার করোনা পরীক্ষা করা উচিত। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, উল্টো যদি তার করোনা হয়ে থাকে, তাহলে যত দ্রুত ধরা পড়বে, ততই ভালো।’

দিল্লি এইমস হাসপাতালে কর্মরত আরেক চিকিৎসক সায়ন নাথও জানান, তিনি ‘কপি বুক’ করোনা লক্ষণের বাইরে মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা, শীত বোধ করা, প্রবল শীত বোধ থেকে দেহে কাঁপুনি ধরার উপসর্গ সম্পন্ন রোগী দেখেছেন এইমসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হাসপাতালের অপর এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমার মনে হয়, যত দিন যাবে, ততই নতুন নতুন লক্ষণ যুক্ত হবে করোনার লক্ষণ তালিকায়। যতদিন না এই ভাইরাসের সব রহস্যভেদ হবে, ততদিন এই সন্দেহভাজন লক্ষণের তালিকা বাড়তেই থাকলে আমি অবাক হব না।’