ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হাঁটুর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন কতটা কার্যকর?

দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা বিভিন্ন ইনজেকশন নিয়েও হাঁটুর ব্যথা নিয়ন্ত্রণে না এলে চিকিৎসকরা হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি এড়াতে বা অস্ত্রোপচারের সময়কে পিছিয়ে দিতে অনেক সময় ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন’ (আরএফএ) নামক পদ্ধতিটি একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি মূলত ব্যথানাশক একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া, যা নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

আরএফএ পদ্ধতিতে বিশেষ ধরণের সুচ ব্যবহার করে হাঁটুর ব্যথা বহনকারী স্নায়ুগুলোর নির্দিষ্ট স্থানে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ প্রয়োগ করা হয়। হাঁটুর ক্ষেত্রে সাধারণত জেনিকুলার নার্ভের নির্দিষ্ট শাখাকে লক্ষ্য করে এই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ওই স্নায়ুগুলোর ব্যথা পরিবহনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, ফলে রোগী ব্যথা থেকে স্বস্তি বোধ করেন।

দীর্ঘদিনের অস্টিওআর্থ্রাইটিসে যারা ভুগছেন অথচ প্রচলিত চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ফল পাচ্ছেন না, তাদের ক্ষেত্রে এটি একটি বিবেচ্য চিকিৎসা। এছাড়া বয়স্ক বা শারীরিক জটিলতার কারণে যাদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা ঝুঁকিপূর্ণ, সেই রোগীদের জন্য এই পদ্ধতিটি অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

মনে রাখা জরুরি যে, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন কোনোভাবেই হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টকে পুরোপুরি সারিয়ে তোলে না। এটি হাঁটু প্রতিস্থাপনের বিকল্প নয়, বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো রোগীর কষ্ট লাঘব করা এবং হাঁটাচলাসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এই পদ্ধতির মাধ্যমে সেটিকে কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

আরএফএ কোনো বড় অস্ত্রোপচার নয়, তাই চিকিৎসা শেষে রোগী দ্রুত নিজের স্বাভাবিক কাজে ফিরে যেতে পারেন। তবে এর ফলাফল সব রোগীর ক্ষেত্রে সমান হয় না; শারীরিক অবস্থা ও রোগের মাত্রাভেদে ব্যথামুক্ত হওয়ার হার ভিন্ন হতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই মাত্রার ব্যথা উপশম নাও পাওয়া যেতে পারে।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন বয়স, রোগের তীব্রতা এবং রোগীর শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাই হাঁটুর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আধুনিক ব্যথা চিকিৎসার সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি।

আপলোডকারীর তথ্য

আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ

হাঁটুর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন কতটা কার্যকর?

আপডেট সময় ০৪:৪৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা বিভিন্ন ইনজেকশন নিয়েও হাঁটুর ব্যথা নিয়ন্ত্রণে না এলে চিকিৎসকরা হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি এড়াতে বা অস্ত্রোপচারের সময়কে পিছিয়ে দিতে অনেক সময় ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন’ (আরএফএ) নামক পদ্ধতিটি একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি মূলত ব্যথানাশক একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া, যা নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

আরএফএ পদ্ধতিতে বিশেষ ধরণের সুচ ব্যবহার করে হাঁটুর ব্যথা বহনকারী স্নায়ুগুলোর নির্দিষ্ট স্থানে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ প্রয়োগ করা হয়। হাঁটুর ক্ষেত্রে সাধারণত জেনিকুলার নার্ভের নির্দিষ্ট শাখাকে লক্ষ্য করে এই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ওই স্নায়ুগুলোর ব্যথা পরিবহনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, ফলে রোগী ব্যথা থেকে স্বস্তি বোধ করেন।

দীর্ঘদিনের অস্টিওআর্থ্রাইটিসে যারা ভুগছেন অথচ প্রচলিত চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ফল পাচ্ছেন না, তাদের ক্ষেত্রে এটি একটি বিবেচ্য চিকিৎসা। এছাড়া বয়স্ক বা শারীরিক জটিলতার কারণে যাদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা ঝুঁকিপূর্ণ, সেই রোগীদের জন্য এই পদ্ধতিটি অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

মনে রাখা জরুরি যে, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন কোনোভাবেই হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টকে পুরোপুরি সারিয়ে তোলে না। এটি হাঁটু প্রতিস্থাপনের বিকল্প নয়, বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো রোগীর কষ্ট লাঘব করা এবং হাঁটাচলাসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এই পদ্ধতির মাধ্যমে সেটিকে কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

আরএফএ কোনো বড় অস্ত্রোপচার নয়, তাই চিকিৎসা শেষে রোগী দ্রুত নিজের স্বাভাবিক কাজে ফিরে যেতে পারেন। তবে এর ফলাফল সব রোগীর ক্ষেত্রে সমান হয় না; শারীরিক অবস্থা ও রোগের মাত্রাভেদে ব্যথামুক্ত হওয়ার হার ভিন্ন হতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই মাত্রার ব্যথা উপশম নাও পাওয়া যেতে পারে।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন বয়স, রোগের তীব্রতা এবং রোগীর শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাই হাঁটুর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আধুনিক ব্যথা চিকিৎসার সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি।