অাকাশ নিউজ ডেস্ক:
মাহমুদা খাতুনের পরিবার সূত্র জানায়, ২০১২ সালে স্থানীয় চক আমহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পায় সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুন। কিন্তু অভাবের সংসারে মাহমুদার পিতা মোস্তফা মিয়াজি আর পারছিলেন না মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ চালাতে। মেয়েকে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন গরীব দিন মুজুর পিতা। কিন্তু মেধাবি মাহমুদার লেখাপড়া নষ্ট হতে দেয়নি তার ছোট ভাই। এরপর মাহমুদা খাতুন ভর্তি হন নাটোর শহেরর রাণী ভবানী সরকারি মহিলা কলেজে। সেখান থেকে ২০১৪সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায় মাহমুদা খাতুন।
আর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে মেধা তালিকায় ১৪তম স্থান অর্জন করে সে। মাহমুদার ভাই হয়রত আলী জানান, চলতি বছর ইসলামী ব্যাংকের উপবৃত্তির টাকা তুলে গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশে বের হন। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবার সাথে তার আর যোগাযোগ হয়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৯ ফ্রেবুয়ারি নাটোর সদর থানায় তার মা আম্বিয়া বেগম জিডি করেন। মাহমুদার মা আম্বিয়া বেগম জানান, তাদের পরিবারে টেলিভিশন থাকলেও ডিসের সংযোগ না থাকায় মেয়ের খবর জানতো না পরিবার। পাশাপাশি জেএমবির সেকেন্ট ইন কমান্ড তালহার সাথে মাহমুদার বিয়ের বিষয়টি তারা অবগত নন বলেও জানান তিনি। তবে মাহমুদা কে বিপথে যারা নিয়ে গেছে তাদের বিচার চান আম্বিয়া বেগম।
এদিকে, স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মাহমুদার বাড়িতে যাওয়ার পর আটকের খবর শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন তার পরিবারের সদস্যরা। একজন মেধাবি ছাত্রী জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে তার পরিবার। মাহমুদার বোন জাকিয়া জানান, তারা ৫ বোন ও ৩ ভাইয়ের মধ্যে মাহমুদা ৭ম। তার পিতা মোস্তফা মিয়াজি রিকশা চালাতেন। বয়সের ভারে সে এখন রিকশা চালাতে পারেন না। এলাকার একটি নার্সারিতে দিনমজুরের কাজ করেন তিনি। জাকিয়া আরও বলেন, “তার বোন বাড়িতে যখন ছিল, নিরিবিলি চুপচাপ থাকতো। বাহিরের কারো সাথে তেমন যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে মাহমুদার আটকের খবরটি তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ” যারা মাহমুদা খাতুনকে বিপদে নিয়ে গেছে তাদের বিচার দাবি করেন তিনি। মাহমুদার পিতা মোস্তফা মিয়াজি বলেন, “অভাবের সংসারে মেয়েকে লেখাপড়ার খরচ দেয়ার মতো আমার সামর্থ ছিল না। মেয়ে নিজে টিউশনি আর উপবৃত্তির টাকা দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে গেছে।
কিন্তু জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত হওয়ার কথা শুনে হতবাক হয়ে পড়েছি। সারা জীবন আওয়ামী লীগ করে এসেছি। মেয়ে যদি সত্যিকারেই জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ে তাহলে তার বিচার দাবি করছি। ” মাহমুদার কোন খোঁজ না পেয়ে মা আম্বিয়া বেগম নাটোর সদর থানায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু মাহমুদা নিখোঁজের ৫মাস হলেও জিডির তদন্ত করেনি নাটোর সদর থানা পুলিশ। সে সময় মাহমুদার মা আম্বিয়া বেগম জিডিতে উল্লেখ করেন, “আমার মেয়ে মোছা. মাহমুদা খাতুন (২০) (মোবাইল নং ০১৭৯৫-০০৫৭৬৩) ঢাকা জগন্নথ কলেজে অর্নাসে পড়ালেখা করে। আমার মেয়ে গত ২৬-০১-১৭ ইং তারিখ সময় আনুমানিক ১০ ঘটিকায় বাড়ি থেকে কলেজে যাবে বলিয়া বাহির হয়।
আমার মেয়ে বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আমার মেয়ের সন্ধানের জন্য তার বান্ধবীদের পাশাপাশি আত্মীয় স্বজন ও সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুজি করিয়া আমার মেয়ের কোন সন্ধান পাই নাই এবং আমার মেয়ে অদ্যাবধি বাড়িতে ফিরে আসেনি। আমার মেয়েকে খোঁজখুজি অব্যাহত রয়েছে। আমার মেয়েকে খুঁজিয়া পাইলে অত্র থানায় অবহিত করবো। বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করা প্রয়োজন। ” পরে জিডিতে মেয়েটির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। সে সময় জিডিটি গ্রহণ করেন নাটোর সদর থানার এএসআই সাহারুল। জিডি নম্বর দেয়া হয় ৯৫১। কিন্তু মাহমুদা খাতুনের পরিবার নিখোঁজের বিষয়ে ডায়েরি করলেও সে জিডি তদন্ত করেনি সদর থানা পুলিশ। গাফিলতির কারণে ফেলে রাখা হয় জিডিটি।
এবিষয়ে মাহমুদার পিতা মোস্তফা মিয়াজি বলেন, “মেয়ে নিখোঁজের পর থানায় ডায়েরি করা হলেও কোন পুলিশ কর্মকর্তা আর সে বিষয়ে তাদের কাছে কিছুই জিজ্ঞাসা করেনি। সে সময় যদি জিডিটি তদন্ত করা হতো মেয়ে হতো আজ বিপদগামী হতো না। ” জিডি তদন্তের বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হন হননি। এ ব্যাপারে নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, “সুমাইয়া বা মাহমুদা খাতুনের নিখোঁজের বিষয়ে তারা অবগত নন। আর জিডি তদন্ত হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ”
বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা গোয়েন্দা সংস্থার এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সময় সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুন জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আটকের পর সুমাইয়া ওরফে মাহমুদার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে এ ধরনের তথ্য পেয়েছে তারা। সরকারের ওই গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুন জঙ্গিগোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হয়। তাছাড়া তার পিতার গরীব হওয়ার সুযোগ নিতে পারে জঙ্গি গোষ্ঠীটি এমনটিও মনে করছেন তারা।
মাহমুদা খাতুনের পরিবার সূত্র জানায়, ২০১২ সালে স্থানীয় চক আমহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পায় সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুন। কিন্তু অভাবের সংসারে মাহমুদার পিতা মোস্তফা মিয়াজি আর পারছিলেন না মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ চালাতে। মেয়েকে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন গরীব দিন মুজুর পিতা। কিন্তু মেধাবি মাহমুদার লেখাপড়া নষ্ট হতে দেয়নি তার ছোট ভাই। এরপর মাহমুদা খাতুন ভর্তি হন নাটোর শহেরর রাণী ভবানী সরকারি মহিলা কলেজে। সেখান থেকে ২০১৪সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায় মাহমুদা খাতুন। আর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে মেধা তালিকায় ১৪তম স্থান অর্জন করে সে। মাহমুদার ভাই হয়রত আলী জানান, চলতি বছর ইসলামী ব্যাংকের উপবৃত্তির টাকা তুলে গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশে বের হন। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবার সাথে তার আর যোগাযোগ হয়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৯ ফ্রেবুয়ারি নাটোর সদর থানায় তার মা আম্বিয়া বেগম জিডি করেন। মাহমুদার মা আম্বিয়া বেগম জানান, তাদের পরিবারে টেলিভিশন থাকলেও ডিসের সংযোগ না থাকায় মেয়ের খবর জানতো না পরিবার। পাশাপাশি জেএমবির সেকেন্ট ইন কমান্ড তালহার সাথে মাহমুদার বিয়ের বিষয়টি তারা অবগত নন বলেও জানান তিনি। তবে মাহমুদা কে বিপথে যারা নিয়ে গেছে তাদের বিচার চান আম্বিয়া বেগম। এদিকে, স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মাহমুদার বাড়িতে যাওয়ার পর আটকের খবর শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন তার পরিবারের সদস্যরা। একজন মেধাবি ছাত্রী জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে তার পরিবার। মাহমুদার বোন জাকিয়া জানান, তারা ৫ বোন ও ৩ ভাইয়ের মধ্যে মাহমুদা ৭ম। তার পিতা মোস্তফা মিয়াজি রিকশা চালাতেন। বয়সের ভারে সে এখন রিকশা চালাতে পারেন না। এলাকার একটি নার্সারিতে দিনমজুরের কাজ করেন তিনি। জাকিয়া আরও বলেন, “তার বোন বাড়িতে যখন ছিল, নিরিবিলি চুপচাপ থাকতো। বাহিরের কারো সাথে তেমন যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে মাহমুদার আটকের খবরটি তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ” যারা মাহমুদা খাতুনকে বিপদে নিয়ে গেছে তাদের বিচার দাবি করেন তিনি। মাহমুদার পিতা মোস্তফা মিয়াজি বলেন, “অভাবের সংসারে মেয়েকে লেখাপড়ার খরচ দেয়ার মতো আমার সামর্থ ছিল না। মেয়ে নিজে টিউশনি আর উপবৃত্তির টাকা দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে গেছে। কিন্তু জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত হওয়ার কথা শুনে হতবাক হয়ে পড়েছি। সারা জীবন আওয়ামী লীগ করে এসেছি। মেয়ে যদি সত্যিকারেই জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ে তাহলে তার বিচার দাবি করছি। ” মাহমুদার কোন খোঁজ না পেয়ে মা আম্বিয়া বেগম নাটোর সদর থানায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু মাহমুদা নিখোঁজের ৫মাস হলেও জিডির তদন্ত করেনি নাটোর সদর থানা পুলিশ। সে সময় মাহমুদার মা আম্বিয়া বেগম জিডিতে উল্লেখ করেন, “আমার মেয়ে মোছা. মাহমুদা খাতুন (২০) (মোবাইল নং ০১৭৯৫-০০৫৭৬৩) ঢাকা জগন্নথ কলেজে অর্নাসে পড়ালেখা করে। আমার মেয়ে গত ২৬-০১-১৭ ইং তারিখ সময় আনুমানিক ১০ ঘটিকায় বাড়ি থেকে কলেজে যাবে বলিয়া বাহির হয়। আমার মেয়ে বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আমার মেয়ের সন্ধানের জন্য তার বান্ধবীদের পাশাপাশি আত্মীয় স্বজন ও সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুজি করিয়া আমার মেয়ের কোন সন্ধান পাই নাই এবং আমার মেয়ে অদ্যাবধি বাড়িতে ফিরে আসেনি। আমার মেয়েকে খোঁজখুজি অব্যাহত রয়েছে। আমার মেয়েকে খুঁজিয়া পাইলে অত্র থানায় অবহিত করবো। বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করা প্রয়োজন। ” পরে জিডিতে মেয়েটির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। সে সময় জিডিটি গ্রহণ করেন নাটোর সদর থানার এএসআই সাহারুল। জিডি নম্বর দেয়া হয় ৯৫১। কিন্তু মাহমুদা খাতুনের পরিবার নিখোঁজের বিষয়ে ডায়েরি করলেও সে জিডি তদন্ত করেনি সদর থানা পুলিশ। গাফিলতির কারণে ফেলে রাখা হয় জিডিটি। এবিষয়ে মাহমুদার পিতা মোস্তফা মিয়াজি বলেন, “মেয়ে নিখোঁজের পর থানায় ডায়েরি করা হলেও কোন পুলিশ কর্মকর্তা আর সে বিষয়ে তাদের কাছে কিছুই জিজ্ঞাসা করেনি। সে সময় যদি জিডিটি তদন্ত করা হতো মেয়ে হতো আজ বিপদগামী হতো না। ” জিডি তদন্তের বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হন হননি। এ ব্যাপারে নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, “সুমাইয়া বা মাহমুদা খাতুনের নিখোঁজের বিষয়ে তারা অবগত নন। আর জিডি তদন্ত হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ” বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা গোয়েন্দা সংস্থার এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সময় সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুন জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আটকের পর সুমাইয়া ওরফে মাহমুদার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে এ ধরনের তথ্য পেয়েছে তারা। সরকারের ওই গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুন জঙ্গিগোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হয়। তাছাড়া তার পিতার গরীব হওয়ার সুযোগ নিতে পারে জঙ্গি গোষ্ঠীটি এমনটিও মনে করছেন তারা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























