ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সন্তান প্রসবের আগে ও পরে সিজারিয়ান মায়ের যত্ন

আকাশ আইসিটি ডেস্ক: 

বর্তমানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সিজারের সাহায্য নবজাতকের জন্ম দিয়ে থাকেন অনেক মা।সিজার পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিলে চার দিনের মতো হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। তবে সিজারের পর কী হয়, তার ব্যাপারে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। এছাড়া একজন সিজারিয়ান মায়ের যত্ন সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানি না।

সন্তান প্রসবের আগে ও পরে সিজারিয়ান মায়ের যত্ন সম্পর্কে জানা জরুরি। আসুন জেনে নেই সন্তান প্রসবের পরে সিজারিয়ান মায়ের যত্ন সম্পর্কে।

যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত

অনেক মা-ই জানেন না যে সিজার করানোর পরেও যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত হয়। তবে এই রক্তপাতের পরিমাণ হবে সীমিত। খুব বেশি রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্গন্ধ এবং গাড় রঙের রক্ত নির্গত হচ্ছে কিনা, এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, এগুলো সংক্রমণের লক্ষণ।

পা ফুলে যাওয়া

সিজার করানোর পরে আরেকটি সমস্যায় মেয়েদের ভুগতে দেখা যায় তা হলো পা ফুলে যাওয়া। এক্ষেত্রে ঘুমানোর সময়ে বা শুয়ে থাকার সময়ে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা একটু উঁচু করে রাখতে হবে। তাহলে পা ফোলা কমে যাবে।

স্তন্যপান

সিজার করানোর পর অনেক মা-ই সন্তানকে স্তন্যপান করান না। সিজার করানোর পর তিন দিনের মধ্যে স্তন্যপান না করালেও এ সময়ে স্তনে ব্যথা হতে পারে। সমস্যার সমাধানে তোয়ালে গরম করে সেঁক দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও শিশুকে স্তন্যপান না করালেও তা বের করে ফেলে দিতে হবে বা রেখে দিতে হবে।

আরেকটি ব্যাপার যা অনেক মা-ই জানেন না, তা হলো বুকের দুধ ফিডারে রেখে খাওয়ানো। মায়ের দুধ ফিডারে করে ফ্রিজে রেখে দিলে তা বাচ্চাকে দেয়া যাবে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ঠাণ্ডা দুধ তো অবশ্যই বাচ্চাকে দেয়া যাবে না। কিন্তু দুধের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তা শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে।

ক্যাথেটার

সিজার করানোর পর একটি ক্যাথেটার ব্যবহার করা হতে পারে তার শরীরে। এটা শুধু প্রথম দিনেই রাখা হয়। পরের দিন খুলে ফেলা হয়।

সেলাইয়ের দাগ

সেলাইয়ের দাগটা থেকে যায় অনেক বছর পর্যন্ত। তবে তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটাই হালকা হয়ে যায়, আগের মতো ফুলেও থাকে না। অস্ত্রোপচারের পর এই কাটা দাগ শুকাতে দিতে হবে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ। পুরো শুকিয়ে গেলে তার পরেই কেবল দাগ দূর করার জন্য তেল মালিশ বা দাগ দূর করার ক্রিম লাগানো যেতে পারে।

অস্ত্রোপচারের পর প্রস্রাবের সমস্যা

অনেকেই সিজার করার পর প্রস্রাবের সময় ভয় পান। মনে রাখবেন, এ সময় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিত্সকের পরামর্শ মতো, কিছু ওষুধ দেবেন যা সহজে প্রস্রাবে সাহায্য করবে।

শরীরে কাঁপুনি

অ্যানেসথেসিয়ার প্রভাব কেটে যাওয়ার সময়ে অনেকের শরীরে কাঁপুনি দেখা যায়। শরীরের নিম্নভাগে, বিশেষ করে পায়ে অসাড়তা অনুভব হতে পারে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই অনুভূতি কেটে যাওয়াটাই কথা।

রক্তপাত

প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম না দিলেও রক্তপাত হবেই। একে বলা হয় পোস্টপারটাম ব্লিডিং। এটা খুব বেশি হলে ছয় সপ্তাহের মতো স্থায়ী হতে পারে।

ভারি কাজ নিষেধ

সিজার করার পর প্রথম ২-৩ সপ্তাহ শিশুর চেয়ে ভারি কিছু। সিজারের পর অন্তত ৪-৬ সপ্তাহ ক্লান্তিকর সব রকম শরীরচর্চা বন্ধ রাখতে হবে। এই সময় বন্ধ রাখতে হবে শারীরিক (যৌন) সম্পর্কও।

হাঁটাচলা

সিজারের পর রক্ত জমাট বাঁধার ভয় থাকে। তাই সাবধানে হালকা হাঁটাচলার অভ্যাস করাটা ভালো।

হাঁচি-কাশি

সিজারের পর হাঁচি-কাশি দিতে গেলে পেটে ব্যথা লাগতে পারে। এ সময়ে পেটের ওপর বালিশ চেপে ধরে রাখলে ব্যথা কম হবে। অনেকেই এ সময়ে বেল্ট পরে থাকেন। এই বেল্টও ব্যথা কমাতে সহায়ক। প্রথম সপ্তাহে এই সমস্যা বেশি হবে, পরে কমে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সন্তান প্রসবের আগে ও পরে সিজারিয়ান মায়ের যত্ন

আপডেট সময় ১১:১৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮

আকাশ আইসিটি ডেস্ক: 

বর্তমানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সিজারের সাহায্য নবজাতকের জন্ম দিয়ে থাকেন অনেক মা।সিজার পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিলে চার দিনের মতো হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। তবে সিজারের পর কী হয়, তার ব্যাপারে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। এছাড়া একজন সিজারিয়ান মায়ের যত্ন সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানি না।

সন্তান প্রসবের আগে ও পরে সিজারিয়ান মায়ের যত্ন সম্পর্কে জানা জরুরি। আসুন জেনে নেই সন্তান প্রসবের পরে সিজারিয়ান মায়ের যত্ন সম্পর্কে।

যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত

অনেক মা-ই জানেন না যে সিজার করানোর পরেও যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত হয়। তবে এই রক্তপাতের পরিমাণ হবে সীমিত। খুব বেশি রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্গন্ধ এবং গাড় রঙের রক্ত নির্গত হচ্ছে কিনা, এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, এগুলো সংক্রমণের লক্ষণ।

পা ফুলে যাওয়া

সিজার করানোর পরে আরেকটি সমস্যায় মেয়েদের ভুগতে দেখা যায় তা হলো পা ফুলে যাওয়া। এক্ষেত্রে ঘুমানোর সময়ে বা শুয়ে থাকার সময়ে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা একটু উঁচু করে রাখতে হবে। তাহলে পা ফোলা কমে যাবে।

স্তন্যপান

সিজার করানোর পর অনেক মা-ই সন্তানকে স্তন্যপান করান না। সিজার করানোর পর তিন দিনের মধ্যে স্তন্যপান না করালেও এ সময়ে স্তনে ব্যথা হতে পারে। সমস্যার সমাধানে তোয়ালে গরম করে সেঁক দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও শিশুকে স্তন্যপান না করালেও তা বের করে ফেলে দিতে হবে বা রেখে দিতে হবে।

আরেকটি ব্যাপার যা অনেক মা-ই জানেন না, তা হলো বুকের দুধ ফিডারে রেখে খাওয়ানো। মায়ের দুধ ফিডারে করে ফ্রিজে রেখে দিলে তা বাচ্চাকে দেয়া যাবে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ঠাণ্ডা দুধ তো অবশ্যই বাচ্চাকে দেয়া যাবে না। কিন্তু দুধের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তা শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে।

ক্যাথেটার

সিজার করানোর পর একটি ক্যাথেটার ব্যবহার করা হতে পারে তার শরীরে। এটা শুধু প্রথম দিনেই রাখা হয়। পরের দিন খুলে ফেলা হয়।

সেলাইয়ের দাগ

সেলাইয়ের দাগটা থেকে যায় অনেক বছর পর্যন্ত। তবে তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটাই হালকা হয়ে যায়, আগের মতো ফুলেও থাকে না। অস্ত্রোপচারের পর এই কাটা দাগ শুকাতে দিতে হবে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ। পুরো শুকিয়ে গেলে তার পরেই কেবল দাগ দূর করার জন্য তেল মালিশ বা দাগ দূর করার ক্রিম লাগানো যেতে পারে।

অস্ত্রোপচারের পর প্রস্রাবের সমস্যা

অনেকেই সিজার করার পর প্রস্রাবের সময় ভয় পান। মনে রাখবেন, এ সময় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিত্সকের পরামর্শ মতো, কিছু ওষুধ দেবেন যা সহজে প্রস্রাবে সাহায্য করবে।

শরীরে কাঁপুনি

অ্যানেসথেসিয়ার প্রভাব কেটে যাওয়ার সময়ে অনেকের শরীরে কাঁপুনি দেখা যায়। শরীরের নিম্নভাগে, বিশেষ করে পায়ে অসাড়তা অনুভব হতে পারে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই অনুভূতি কেটে যাওয়াটাই কথা।

রক্তপাত

প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম না দিলেও রক্তপাত হবেই। একে বলা হয় পোস্টপারটাম ব্লিডিং। এটা খুব বেশি হলে ছয় সপ্তাহের মতো স্থায়ী হতে পারে।

ভারি কাজ নিষেধ

সিজার করার পর প্রথম ২-৩ সপ্তাহ শিশুর চেয়ে ভারি কিছু। সিজারের পর অন্তত ৪-৬ সপ্তাহ ক্লান্তিকর সব রকম শরীরচর্চা বন্ধ রাখতে হবে। এই সময় বন্ধ রাখতে হবে শারীরিক (যৌন) সম্পর্কও।

হাঁটাচলা

সিজারের পর রক্ত জমাট বাঁধার ভয় থাকে। তাই সাবধানে হালকা হাঁটাচলার অভ্যাস করাটা ভালো।

হাঁচি-কাশি

সিজারের পর হাঁচি-কাশি দিতে গেলে পেটে ব্যথা লাগতে পারে। এ সময়ে পেটের ওপর বালিশ চেপে ধরে রাখলে ব্যথা কম হবে। অনেকেই এ সময়ে বেল্ট পরে থাকেন। এই বেল্টও ব্যথা কমাতে সহায়ক। প্রথম সপ্তাহে এই সমস্যা বেশি হবে, পরে কমে যাবে।