ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

৩৬ ঘন্টা ধরে জ্বলছে বাগড়ি বাজারের আগুন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি কলকাতার পাইকারি বাজার বাগড়ি মার্কেটের আগুন। এখনও চার ও পাঁচ তলার বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বলছে। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছে আগুনের হলকা। দমকলের ডিজি জগমোহন জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় লাগবে।

গত শনিবার রাত আড়াইটায় এই বাজারে আগুন আগে। তখন এই বাজারের বিভিন্ন গেট বন্ধ থাকায় দমকল বাহিনী ঢুকতে পারেনি। পরে অবশ্য গেট ভেঙে দমকল বাহিনী ঢুকলেও এই দুদিনে আগুন আয়ত্তে আনতে পারেনি। রবিবার সারা দিন, সারা রাত আগুনের সঙ্গে যুঝেও কাবু করা যায়নি বাগরি মার্কেটের আগুন। সোমবারও চলছে আগুনের সঙ্গে লড়াই।

কলকাতার হাওড়া ব্রিজের কাছে বড় বাজার এলাকায় ক্যানিং স্ট্রিটে এই বাগরি বাজারের অবস্থান। ছয়তলা ভবনে রয়েছে নথিভুক্ত ৯৮৭টি পাইকারি দোকান। এর মধ্যে ৬০০টি ওষুধের দোকান। আটটি ব্লকে রয়েছে এসব দোকান। প্লাস্টিক, চামড়া, খেলনা, কেমিক্যাল ও প্রসাধনীর দোকানও রয়েছে।

আগুন লাগার পর থেকেই শুরু হয়েছিল অবিরাম জলবর্ষণ। এখনও পর্যন্ত সেই জল ঢালার কাজ চলছে নিরন্তর। জল ঢেলে একদিকে যেমন আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে, তেমনই বাড়িটি ভেঙে পড়া আটকাতে জল ছিটিয়ে ঠান্ডা রাখার প্রচেষ্টাও জারি রয়েছে। পাশাপাশি যখনই যেখান থেকে আগুন দেখা যাচ্ছে, হোস পাইপ সেই দিকে ঘুরিয়ে জল ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন দমকল কর্মীরা।

এখন দমকল কর্মীদের মূল লড়াই চার ও পাঁচ তলার আগুনের সঙ্গে। এই দু’টি তলা থেকে এখনও মাঝে মধ্যেই আগুনের শিখা বেরিয়ে আসছে। বিভিন্ন জায়গায় জ্বলছে আগুন। কখনও বাইরেও ভয়ঙ্কর ভাবে আগুন বেরিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ভিতরেও বিভিন্ন পকেটে আগুন রয়েছে বলে মনে করছেন দমকল কর্মীরা।

আপাতত বাগড়ি মার্কেটের এক, দুই এবং তিন তলার আগুন নিয়ন্ত্রণে। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, এই তিনটি তলায় আপাতত বড় কোনও আগুনের উৎস নেই। তবু কাজ করছেন তারা। খোঁজ চলছে আরও কোথায় বিন্দুমাত্র আগুন রয়েছে কিনা।

দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, রাতে তারা আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছিলেন। এমনকি, সোমবার সকালে বাড়ির ছাদে পর্যন্ত উঠে গিয়েছিলেন। কিন্তু চার ও পাঁচ তলা থেকে মাঝে মধ্যেই আগুনের শিখা বেরিয়ে আসায় তারা ঝুঁকি নিতে পারেননি। কিছুক্ষণ কাজ করার পরই নেমে আসতে বাধ্য হন।

আনন্দবাজার জানায়, পূজার আগে কার্যত সর্বস্বান্ত বাগড়ি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। দোকানের জিনিসপত্রের আর কিছুই কার্যত অবশিষ্ট নেই। তবু তার মধ্যেই যেটুকু বাঁচানো যায়, তার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। রাতভর সেই চেষ্টা চলেছে। সকাল হতেই সেই কাজ আরও জোরদার ভাবে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানের ভিতরে ঢুকে আধপোড়া বা সামান্য যা কিছু অবশিষ্ট পাচ্ছেন, তাই বাইরে বের করে আনছেন ব্যবসায়ীরা।

দমকলের ডিজি জগমোহনের দাবি, অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছে বাগড়ি মার্কেটের আগুন। যদিও তিনি জানিয়েছেন, এখনও ভবনের অনেক অংশে ঢোকা যাচ্ছে না। পাশাপাশি চার ও পাঁচ তলায় এখনও যেভাবে জ্বলছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় লাগবে বলেও মনে করছেন তিনি। তবে ‘আরও সময়’ যে কত, তা নির্দিষ্ট করে বলতে চাননি ডিজি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৩৬ ঘন্টা ধরে জ্বলছে বাগড়ি বাজারের আগুন

আপডেট সময় ০৩:২৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি কলকাতার পাইকারি বাজার বাগড়ি মার্কেটের আগুন। এখনও চার ও পাঁচ তলার বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বলছে। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছে আগুনের হলকা। দমকলের ডিজি জগমোহন জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় লাগবে।

গত শনিবার রাত আড়াইটায় এই বাজারে আগুন আগে। তখন এই বাজারের বিভিন্ন গেট বন্ধ থাকায় দমকল বাহিনী ঢুকতে পারেনি। পরে অবশ্য গেট ভেঙে দমকল বাহিনী ঢুকলেও এই দুদিনে আগুন আয়ত্তে আনতে পারেনি। রবিবার সারা দিন, সারা রাত আগুনের সঙ্গে যুঝেও কাবু করা যায়নি বাগরি মার্কেটের আগুন। সোমবারও চলছে আগুনের সঙ্গে লড়াই।

কলকাতার হাওড়া ব্রিজের কাছে বড় বাজার এলাকায় ক্যানিং স্ট্রিটে এই বাগরি বাজারের অবস্থান। ছয়তলা ভবনে রয়েছে নথিভুক্ত ৯৮৭টি পাইকারি দোকান। এর মধ্যে ৬০০টি ওষুধের দোকান। আটটি ব্লকে রয়েছে এসব দোকান। প্লাস্টিক, চামড়া, খেলনা, কেমিক্যাল ও প্রসাধনীর দোকানও রয়েছে।

আগুন লাগার পর থেকেই শুরু হয়েছিল অবিরাম জলবর্ষণ। এখনও পর্যন্ত সেই জল ঢালার কাজ চলছে নিরন্তর। জল ঢেলে একদিকে যেমন আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে, তেমনই বাড়িটি ভেঙে পড়া আটকাতে জল ছিটিয়ে ঠান্ডা রাখার প্রচেষ্টাও জারি রয়েছে। পাশাপাশি যখনই যেখান থেকে আগুন দেখা যাচ্ছে, হোস পাইপ সেই দিকে ঘুরিয়ে জল ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন দমকল কর্মীরা।

এখন দমকল কর্মীদের মূল লড়াই চার ও পাঁচ তলার আগুনের সঙ্গে। এই দু’টি তলা থেকে এখনও মাঝে মধ্যেই আগুনের শিখা বেরিয়ে আসছে। বিভিন্ন জায়গায় জ্বলছে আগুন। কখনও বাইরেও ভয়ঙ্কর ভাবে আগুন বেরিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ভিতরেও বিভিন্ন পকেটে আগুন রয়েছে বলে মনে করছেন দমকল কর্মীরা।

আপাতত বাগড়ি মার্কেটের এক, দুই এবং তিন তলার আগুন নিয়ন্ত্রণে। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, এই তিনটি তলায় আপাতত বড় কোনও আগুনের উৎস নেই। তবু কাজ করছেন তারা। খোঁজ চলছে আরও কোথায় বিন্দুমাত্র আগুন রয়েছে কিনা।

দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, রাতে তারা আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছিলেন। এমনকি, সোমবার সকালে বাড়ির ছাদে পর্যন্ত উঠে গিয়েছিলেন। কিন্তু চার ও পাঁচ তলা থেকে মাঝে মধ্যেই আগুনের শিখা বেরিয়ে আসায় তারা ঝুঁকি নিতে পারেননি। কিছুক্ষণ কাজ করার পরই নেমে আসতে বাধ্য হন।

আনন্দবাজার জানায়, পূজার আগে কার্যত সর্বস্বান্ত বাগড়ি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। দোকানের জিনিসপত্রের আর কিছুই কার্যত অবশিষ্ট নেই। তবু তার মধ্যেই যেটুকু বাঁচানো যায়, তার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। রাতভর সেই চেষ্টা চলেছে। সকাল হতেই সেই কাজ আরও জোরদার ভাবে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানের ভিতরে ঢুকে আধপোড়া বা সামান্য যা কিছু অবশিষ্ট পাচ্ছেন, তাই বাইরে বের করে আনছেন ব্যবসায়ীরা।

দমকলের ডিজি জগমোহনের দাবি, অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছে বাগড়ি মার্কেটের আগুন। যদিও তিনি জানিয়েছেন, এখনও ভবনের অনেক অংশে ঢোকা যাচ্ছে না। পাশাপাশি চার ও পাঁচ তলায় এখনও যেভাবে জ্বলছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় লাগবে বলেও মনে করছেন তিনি। তবে ‘আরও সময়’ যে কত, তা নির্দিষ্ট করে বলতে চাননি ডিজি।