ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গাসা জেলায় হিমবাহ সৃষ্ট শিনতাফু হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার ফলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ভুটান সরকার। উজানের এই পানি ভাটির দিকে নেমে আসায় বাংলাদেশেও নদী বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই হ্রদ ভাঙার ফলে মো ছু নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘গাসা ছাচু’র সমস্ত স্থাপনা পানির তোড়ে ভেসে গেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের আগেভাগেই সরিয়ে নেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। শিনতাফু হ্রদটি ভুটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের মধ্যে অন্যতম। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের আগস্টেও একই এলাকায় হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছিল, সেবারও মো ছু নদীর গতিপথ বদলে গাসা ছাচু এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
বন্যার পানি বর্তমানে পুনাখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের স্রিগাং এলাকা অতিক্রম করেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের নিচু এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সংকোশ নদী যা আসাম হয়ে ব্রহ্মপুত্রে মিশেছে, তার তীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়। তাই উজানের এই বন্যার পানি ভাটিতে নেমে এলে বাংলাদেশের নদ-নদীতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি বা তীব্রতা কতটা হবে, তা মূলত নদীর পানির প্রবাহ, পানির পরিমাণ এবং উজান থেকে আসা পানির গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















