ভারতের রাজনীতিতে বর্তমানে চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা চ্যালেঞ্জের এক অস্থির আবহাওয়া বিরাজ করছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি প্রকাশ্য বিতর্কে বসার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। সেই বিতর্কে বসার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টা সময়ও দিয়েছিলেন। তবে কোনো সাড়া না পেয়ে সম্প্রতি রাহুল গান্ধী লাল গোলাপ হাতে একটি ভিডিও বার্তায় পুনরায় প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, মোদি বিদেশি শক্তির সাহায্যেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকে রয়েছেন। রাহুল সরাসরি বিতর্ক অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে জায়গা ও বিচারক নির্ধারণ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, টেবিলের এক দিকে মোদি এবং অন্য দিকে রাহুল বসবেন, মিডিয়া থাকবে এবং পুরো দেশ সেই বিতর্ক দেখবে। এমনকি তিনি মোহন ভাগবতকে বিচারক মানতেও রাজি ছিলেন। ফলে দুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর নাম করে লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী আরও একটি বার্তা দেন। যদিও কোনো পক্ষই অন্যের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস দেখাচ্ছে না।
ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বিতর্কযোগ্য বিভিন্ন বিষয়ের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তিনি দেশের অর্থনীতি, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্যচুক্তি, মন্ত্রিসভার অগোচরে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আদানির মামলা এবং এপস্টিন ইস্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দেন। রাহুল অভিযোগ করেন, মোদি তাকে দেশদ্রোহী বলে অভিযুক্ত করলেও বিদেশি সংযোগের বিষয়ে কোনো মানহানি মামলা করছেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই বিতর্কের মাধ্যমেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি কীভাবে হয়েছে, কেন হয়েছে, কেন এত দ্রুত চুক্তি হয়েছে, সেই চুক্তির বোঝাপড়া কেন শুধু আপনার সঙ্গেই হয়েছে, মন্ত্রিসভাকে কেন কিছু জানাননি, আদানির মামলা কেন বন্ধ হয়ে গেল, এপস্টিন প্রসঙ্গ—এমন বহ। বিতর্কের সময় ওটা নিয়েও আলোচনা করা যাবে।’।
এই চ্যালেঞ্জের মুখে প্রধানমন্ত্রী নিজে সরাসরি মুখ না খুললেও পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হরিয়ানার এক জনসভায় শাহ রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো রাস্তাঘাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে বরং সংসদে এসে বিতর্কে অংশগ্রহণ করুন। তিনি দাবি করেন, রাহুল চাইলে তারা সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও প্রস্তুত আছেন। তবে শাহর এই চ্যালেঞ্জটি ছিল এসআইআর (SIR) বা ইলেকট্রনিক ভোটিং সংক্রান্ত বিষয়ে।
বিজেপি নেতারা বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন যে, কংগ্রেস বিদেশি মদদে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের আন্দোলনের পেছনে বিদেশি উসকানি রয়েছে। পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন ভারতবিরোধী শক্তির সংশ্লিষ্টতার কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে এবং মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরসের নামও এতে এসেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, বিদেশে গিয়ে গোপনে ভারতবিরোধী শক্তির সঙ্গে বৈঠক করা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে। সেই দলের শীর্ষ নেতারা বহুবার বলেছেন, বিদেশের মদদে কংগ্রেস চলছে। বিদেশে গিয়ে গোপনে কে কাদের সঙ্গে মিটিং করছে, কোন ভারতবিরোধী শক্তি ওদের সমর্থন দিচ্ছে—এসব এখন জলের মতো পরিষ্কার। দেশদ্রোহী আসলে কে, বিদেশি শক্তির সঙ্গে কার যোগাযোগ রয়েছে, কী ধরনের যোগাযোগ রয়েছে, তার প্রমাণ হয়ে যাবে। আপনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝাঁপি খুলেছেন।
পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে অমিত শাহ বলেন, রাহুল এসআইআর নিয়ে যে কারচুপির অভিযোগ তুলছেন, তা ভিত্তিহীন। ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে এসআইআর ছিল না, অথচ সেসব নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের নির্বাচনেও এসআইআর ছিল না, সেখানেও ফলাফল বিজেপির পক্ষে এসেছে। তাই এসআইআরের ওপর দোষ চাপানো বন্ধ করার পরামর্শ দেন তিনি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মোদি–শাহ সরকার সংসদ এড়িয়ে চলে এবং বিদেশ সফর বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকে। অমিত শাহ সেই সংসদকে ব্যবহার করেই রাহুলের প্রতি পাল্টা বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন এবং স্পষ্ট করে দিলেন, রাস্তাঘাটে নৈরাজ্য চালালে বিজেপির কর্মীরা কঠোর জবাব দেবে। ভোট চুরি ও এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ এনে রাহুল বলেছেন, এসব করা হচ্ছে বিজেপিকে জেতানোর জন্য। ২০২৪ সালেও এসআইআর হয়নি। সংসদ চলাকালে দিনের পর দিন সংসদে না যাওয়া, সংসদ চলাকালে বিদেশ সফরে যাওয়া, সংসদে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে মোদির বিরুদ্ধে বিরোধীরা সরব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























