ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

রায় খতিয়ে দেখার এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রপতির: আইনমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে প্রধান বিচারপতির দেওয়া রায় খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আর সে ক্ষমতা আছে কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতির। রবিবার দুপুরে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে ‘সাগর-রুনি মিলানায়াতনে’ অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘ষোড়শ সংশোধনীর ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনও একক ব্যক্তির চেষ্টায় হয়নি’, প্রধান বিচারপতির এ মন্তব্য ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই মন্তব্য বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত করার সামিল। যে মামলার রায়, সেই মামলার পর্যবেক্ষণে এই ধরনের মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক।’’

যিনি এমন মন্তব্য করেছেন তার এই আচরণ অসদাচারণের পর্যায়ে পড়ে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির দেওয়া রায় খাতিয়ে দেখবার অবকাশ আছে এবং এর এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রপতির।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে রিভিউয়ের আবেদন করবে। এই রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা আছে তাও এক্সপাঞ্জ করার আবেদন জানানো হবে। যেহেতু এটি বড় রায় (৭৯৯ পৃষ্ঠা) তাই কোন কোন বিষয় রিভিউ করা হবে সেইগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ শনাক্ত করা হচ্ছে। এর জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিদ্যমান আইন অনুয়ায়ী যদি কোনও রায়ের কোনও শব্দ বা মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করার আবেদন করতে হয় তা রিভিউ আবেদনের সঙ্গে করতে হয়। সেটাই করা হবে।’ এর আগে গত বৃহস্পতিবারও আইনমন্ত্রী এসব কথা জানিয়েছিলেন।

সরকার ‘রিভিউ’ না বক্তব্য ‘এক্সপাঞ্জ’ এর ওপর গুরুত্ব দেবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো এক্সপাঞ্জ করার জন্য রিভিউ করবো।’

এই রায়ের মধ্যে বিচার এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জুডিশিয়াল, লেজিসলেটিভ এবং এক্সকিউটিভ—এই তিনটি বিভাগ হচ্ছে রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পথ চলতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে, সেটি মুখ্য নয়। আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করে এগিয়ে চলাটাই মুখ্য। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে না দেখে তিনটি চেয়ারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। এখানে তিন ব্যক্তি গৌণ, চেয়ারটি মুখ্য। আমরা চেয়ারকে সম্মান করবো, আশপাশে ফিরেও তাকাবো না।’

‘মিট দ্যা রিপোর্টাস’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুরসালীন নোমানী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রায় খতিয়ে দেখার এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রপতির: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৫০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে প্রধান বিচারপতির দেওয়া রায় খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আর সে ক্ষমতা আছে কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতির। রবিবার দুপুরে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে ‘সাগর-রুনি মিলানায়াতনে’ অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘ষোড়শ সংশোধনীর ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনও একক ব্যক্তির চেষ্টায় হয়নি’, প্রধান বিচারপতির এ মন্তব্য ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই মন্তব্য বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত করার সামিল। যে মামলার রায়, সেই মামলার পর্যবেক্ষণে এই ধরনের মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক।’’

যিনি এমন মন্তব্য করেছেন তার এই আচরণ অসদাচারণের পর্যায়ে পড়ে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির দেওয়া রায় খাতিয়ে দেখবার অবকাশ আছে এবং এর এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রপতির।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে রিভিউয়ের আবেদন করবে। এই রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা আছে তাও এক্সপাঞ্জ করার আবেদন জানানো হবে। যেহেতু এটি বড় রায় (৭৯৯ পৃষ্ঠা) তাই কোন কোন বিষয় রিভিউ করা হবে সেইগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ শনাক্ত করা হচ্ছে। এর জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিদ্যমান আইন অনুয়ায়ী যদি কোনও রায়ের কোনও শব্দ বা মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করার আবেদন করতে হয় তা রিভিউ আবেদনের সঙ্গে করতে হয়। সেটাই করা হবে।’ এর আগে গত বৃহস্পতিবারও আইনমন্ত্রী এসব কথা জানিয়েছিলেন।

সরকার ‘রিভিউ’ না বক্তব্য ‘এক্সপাঞ্জ’ এর ওপর গুরুত্ব দেবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো এক্সপাঞ্জ করার জন্য রিভিউ করবো।’

এই রায়ের মধ্যে বিচার এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জুডিশিয়াল, লেজিসলেটিভ এবং এক্সকিউটিভ—এই তিনটি বিভাগ হচ্ছে রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পথ চলতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে, সেটি মুখ্য নয়। আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করে এগিয়ে চলাটাই মুখ্য। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে না দেখে তিনটি চেয়ারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। এখানে তিন ব্যক্তি গৌণ, চেয়ারটি মুখ্য। আমরা চেয়ারকে সম্মান করবো, আশপাশে ফিরেও তাকাবো না।’

‘মিট দ্যা রিপোর্টাস’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুরসালীন নোমানী।