কাতারের শুরা কাউন্সিল তাদের ৫৪তম বার্ষিক অধিবেশনের সমাপনী বৈঠকে নতুন ট্রাফিক আইন এবং সংশোধিত রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আইন সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে। তামিম বিন হামাদ হলে অনুষ্ঠিত এই চূড়ান্ত সভায় স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানেম সভাপতিত্ব করেন। সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পর বিল দুটি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
একটি তাৎপর্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন বছরের ইতি টেনেছে এই অধিবেশন। বিদায়ী বছরে কাউন্সিল মোট ২৩টি খসড়া আইন পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন করেছে। এসব আইনের মূল লক্ষ্য ছিল ‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর সাথে সংগতি রেখে পারিবারিক কল্যাণ, ডিজিটাল মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা এবং উদীয়মান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি একটি দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন বছরের ইতি টানা হয়েছে এই অধিবেশনে।
প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাউন্সিল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও এর সঠিক ব্যবহারের ওপর উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য ‘স্বাস্থ্য, সাধারণ সেবা ও পরিবেশ কমিটি’-এর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংসদ মূলত প্রযুক্তির ইতিবাচক রূপান্তর নিশ্চিত করতে এবং এর ঝুঁকি কমাতে নীতিগত অবস্থান বজায় রাখছে।
অধিবেশন সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানেম শুরা কাউন্সিলের ওপর আস্থা রাখার জন্য কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানীকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, কাতার ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ও সরকারের নির্বাহী শাখার মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সহযোগিতার সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
বিদায়ী বছরের সামগ্রিক অর্জন ও পরিসংখ্যান বেশ উল্লেখযোগ্য। সারা বছরে কাউন্সিল মোট ৩৭টি সাধারণ অধিবেশন পরিচালনা করেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির ৮১টি বৈঠকের মাধ্যমে দেশের সামাজিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব সুপারিশমালা প্রস্তুত করা হয়েছে।
পারিবারিক ও সামাজিক নীতিমালার ক্ষেত্রেও কাউন্সিল কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে পিতা-মাতার যত্ন শক্তিশালীকরণ, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ক্রীড়া ক্লাবগুলোর অবদান বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো রয়েছে। এছাড়া শিশুবয়সে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের সুরক্ষা দিতে একটি বিশেষ ‘ডিজিটাল শিশু সুরক্ষা আইন’-এর প্রস্তাবও নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল শিশু সুরক্ষা আইন: শিশু ও কিশোররা যেভাবে ইন্টারনেট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হচ্ছে, তাদের সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘ডিজিটাল শিশু সুরক্ষা আইন’-এর প্রস্তাব নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংসদীয় কূটনীতিতেও কাতার ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। স্পিকার আল-গানেম জানান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিন ইস্যুসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের অধিকার রক্ষায় কাতার তার নীতিগত অবস্থানে অবিচল রয়েছে।
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (IPU) অ্যাসেম্বলিতে কাতার ও তার মিত্র দেশগুলোর যৌথ প্রস্তাবে একটি জরুরি বিষয় মূল এজেন্ডায় সফলভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কোনো আরব ও ইসলামী দেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাব পর্যাপ্ত বিশ্বজনীন সমর্থন পেয়ে আন্তর্জাতিক সংসদীয় এজেন্ডায় জায়গা করে নেওয়ার এটিই প্রথম ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। সবশেষে স্পিকার কাউন্সিলের সদস্য, সচিবালয়, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং মতামত প্রদানকারী নাগরিকদের ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে কাতারের একটি ঐতিহাসিক অর্জনের কথা তুলে ধরেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























