ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জেনেভা ক্যাম্পে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১৫৩

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে থেকে আটককৃতদের মধ্যে ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক মামলা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার উপ-পরিচালক মেজর মেহেদী হাসান দৈনিক আকাশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার সকাল দশটার দিকে র‌্যাব-১, র‌্যাব‌-২ এবং র‌্যাব-৩, র‌্যাব-৪, র‌্যাব-১০, র‌্যাব-১১, র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল টিম যৌথভাবে অভিযানে নামে। অভিযানে র‌্যাবের ছয় শতাধিক সশস্ত্র সদস্য অংশ নেয়। সাড়ে তিন ঘণ্টার অভিযানে সন্দেহভাজন অনেককে আটক করা হয়। র‌্যাব দুপুর নাগাদ দাবি করে তাদের অভিযানে শতাধিক আটক আছে।

তবে দৈনিক আকাশের অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানে বিহারি ক্যাম্পের নারী, পুরুষ, শিশু মিলে পাঁচ শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাউসুল আজম।

র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর মেহেদী হাসান বলেন, ‘অভিযানের পর ১৩ হাজার পিস ইয়াবা ও ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সাতজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ও বাকিদের বিরুদ্ধে রেগুলার মামলা হয়েছে।’

অভিযানের সময় পুরো ক্যাম্প ঘিরে রাখা হয়। বাইরে থেকে কাউকে ভেতরে বা ভেতর থেকে কাউকে বাইরে বের হতে দেওয়া হয়নি। পরে সেখান থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে র‌্যাব-২ এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আটকদের সবাই মাদক বিক্রেতা বা মাদকসেবী না। পূর্বের তথ্যের ভিত্তিতে ও যাদের কাছে হাতে নাতে মাদক পাওয়া গেছে তাদেরকে সাজা ও জেল দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় মাদক বিক্রেতারা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ফেলে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। এসময় ডগ স্কোয়াডের সাহায্যে মাদকসহ তাদের আটক করা হয়।

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প মাদক বিক্রির জন্য সব সময় কুখ্যাত। এখানে নানা সময় অভিযান চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ, মাদক বিক্রেতারা এতটাই সংঘবদ্ধ যে, তারা একজোট হয়ে নানা সময় হামলাও করেছে সরকারি বাহিনীর ওপর। গত ৪ মে থেকে সারাদেশে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের কোনো প্রভাব এতদিন পড়েনি এই ক্যাম্পে। দৈনিক আকাশের একজন প্রতিবেদকও দুই দিন আগে ঘুরে দেখেছেন, সেখানে মাদক বিক্রি হচ্ছিল আগের মতোই।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমাদের বিপুল প্রস্তুতি ছিল। অভিযানের সময় যাদেরকে মাদকসহ আটক করা হয়েছিল তাদের তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প থেকে ৫১৩ জনকে আটক করা হয়। তথ্য ও প্রমাণ না মেলায় ৩৬০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ৭৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ৭৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদকবিরোধী মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জেনেভা ক্যাম্পে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১৫৩

আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে থেকে আটককৃতদের মধ্যে ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক মামলা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার উপ-পরিচালক মেজর মেহেদী হাসান দৈনিক আকাশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার সকাল দশটার দিকে র‌্যাব-১, র‌্যাব‌-২ এবং র‌্যাব-৩, র‌্যাব-৪, র‌্যাব-১০, র‌্যাব-১১, র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল টিম যৌথভাবে অভিযানে নামে। অভিযানে র‌্যাবের ছয় শতাধিক সশস্ত্র সদস্য অংশ নেয়। সাড়ে তিন ঘণ্টার অভিযানে সন্দেহভাজন অনেককে আটক করা হয়। র‌্যাব দুপুর নাগাদ দাবি করে তাদের অভিযানে শতাধিক আটক আছে।

তবে দৈনিক আকাশের অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানে বিহারি ক্যাম্পের নারী, পুরুষ, শিশু মিলে পাঁচ শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাউসুল আজম।

র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর মেহেদী হাসান বলেন, ‘অভিযানের পর ১৩ হাজার পিস ইয়াবা ও ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সাতজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ও বাকিদের বিরুদ্ধে রেগুলার মামলা হয়েছে।’

অভিযানের সময় পুরো ক্যাম্প ঘিরে রাখা হয়। বাইরে থেকে কাউকে ভেতরে বা ভেতর থেকে কাউকে বাইরে বের হতে দেওয়া হয়নি। পরে সেখান থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে র‌্যাব-২ এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আটকদের সবাই মাদক বিক্রেতা বা মাদকসেবী না। পূর্বের তথ্যের ভিত্তিতে ও যাদের কাছে হাতে নাতে মাদক পাওয়া গেছে তাদেরকে সাজা ও জেল দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় মাদক বিক্রেতারা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ফেলে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। এসময় ডগ স্কোয়াডের সাহায্যে মাদকসহ তাদের আটক করা হয়।

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প মাদক বিক্রির জন্য সব সময় কুখ্যাত। এখানে নানা সময় অভিযান চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ, মাদক বিক্রেতারা এতটাই সংঘবদ্ধ যে, তারা একজোট হয়ে নানা সময় হামলাও করেছে সরকারি বাহিনীর ওপর। গত ৪ মে থেকে সারাদেশে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের কোনো প্রভাব এতদিন পড়েনি এই ক্যাম্পে। দৈনিক আকাশের একজন প্রতিবেদকও দুই দিন আগে ঘুরে দেখেছেন, সেখানে মাদক বিক্রি হচ্ছিল আগের মতোই।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমাদের বিপুল প্রস্তুতি ছিল। অভিযানের সময় যাদেরকে মাদকসহ আটক করা হয়েছিল তাদের তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প থেকে ৫১৩ জনকে আটক করা হয়। তথ্য ও প্রমাণ না মেলায় ৩৬০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ৭৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ৭৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদকবিরোধী মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’