ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

দুই দিনের রিমান্ডে এমপি রানা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

শনিবার সকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে এমপি রানাকে টাঙ্গাইল নিয়ে এসে দুপুর থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলায় গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মাসুম এমপি রানার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এমপি আমানুর রহমান খান রানা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ও দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ এমপি রানাকে আনতে শনিবার সকালে কাশিমপুর কারাগারে যান।

কড়া পুলিশি প্রহরায় একটি মাইক্রোবাসে দুপুর পৌনে ২টায় তাকে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা হয়। ওই কার্যালয়ের দ্বিতীয়তলায় রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুপুরে টাঙ্গাইল আনার পর খাওয়াদাওয়া শেষে পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক আমানুর রহমান খান রানার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

টানা বিকাল পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে তিনি যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। রাতে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশোক কুমার সিংহ এমপি রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে গত ২ মে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয় দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামির জবানবন্দিতে আমানুর রহমান খান রানার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে এসেছে। তাই এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

এদিকে এমপি রানাকে রিমান্ডে আনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সদর থানার চারদিকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সামনের রাস্তা দিয়ে যানবাহন ও লোকজন চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে।

এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ গত বছর ১১ মার্চ, শাহাদত হোসেন ১৬ মার্চ এবং হিরন মিয়া ২৭ এপ্রিল আদালতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন এমপি আমানুর রহমান খান রানার দিকনির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

দুই দিনের রিমান্ডে এমপি রানা

আপডেট সময় ১০:০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

শনিবার সকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে এমপি রানাকে টাঙ্গাইল নিয়ে এসে দুপুর থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলায় গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মাসুম এমপি রানার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এমপি আমানুর রহমান খান রানা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ও দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ এমপি রানাকে আনতে শনিবার সকালে কাশিমপুর কারাগারে যান।

কড়া পুলিশি প্রহরায় একটি মাইক্রোবাসে দুপুর পৌনে ২টায় তাকে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা হয়। ওই কার্যালয়ের দ্বিতীয়তলায় রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুপুরে টাঙ্গাইল আনার পর খাওয়াদাওয়া শেষে পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক আমানুর রহমান খান রানার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

টানা বিকাল পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে তিনি যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। রাতে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশোক কুমার সিংহ এমপি রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে গত ২ মে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয় দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামির জবানবন্দিতে আমানুর রহমান খান রানার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে এসেছে। তাই এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

এদিকে এমপি রানাকে রিমান্ডে আনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সদর থানার চারদিকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সামনের রাস্তা দিয়ে যানবাহন ও লোকজন চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে।

এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ গত বছর ১১ মার্চ, শাহাদত হোসেন ১৬ মার্চ এবং হিরন মিয়া ২৭ এপ্রিল আদালতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন এমপি আমানুর রহমান খান রানার দিকনির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল।