ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

ভারত কি কাদেরকে কথা বলার দায়িত্ব দিয়েছে: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে ওবায়দুল কাদের যা বলেছেন, এই বক্তব্যের কারণ জানতে চেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানতে চেয়েছেন, তিনি কেন ভারতের হয়ে এই কথা বলছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভারতের ‘পক্ষে’ কথা বলছেন। এই অধিকার তাকে কে দিয়েছে?

বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক সভায় বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল। এক আয়োজন করে ‘সম্মিলিত বৌদ্ধ নাগরিক’।

গত ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল ভারত সফর করে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সফরকে নিয়ে আলোচনা আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

সফর থেকে দেশে ফিরে কাদের বিমানবন্দরে বলেন, ‘বিদেশি শক্তি আমাদের বন্ধু হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে, আমরা তা আশা করি না। আর ভারত অতীতেও আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি, এবারও করবে না। তাদের অনেক নেতার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।’

এই সফরের বিষয়ে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। বহুদল তাতে অংশগ্রহণ করবে। ভারত কি ক্ষমতায় বসাবে? তারা কি কখনও ক্ষমতায় বসিয়েছে? ৭৫ এর পরবর্তী সময়েও তারা আমাদের কোন বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ২০০১ সালে আমরা হেরে গেছি। ভারত কি আমাদের জেতাতে চেয়েছে? তারা তো কোন হস্তক্ষেপ করেনি।’

আর ফখরুল বলেন, ‘ভারত থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।’

‘কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের বিরাট ১৯ জনের একটি টিম গিয়েছিল ভারতে সেই দেশের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য। খু্ব ভাল কথা। আমরা এই ধরনের সফরকে সব সময় স্বাগত জানাই। কারণ এতে করে দুই দেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়।’

‘আমিও তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে কিছুদিন আগে চীনে গিয়েছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা ভারত থেকে এসে কী বললেন, তারা বললেন, ভারত বলেছে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ভারত ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করবে না। কথাটার অর্থ কী?’

‘কেউ কি বলেছে ভারত বাংলাদেশের নির্বাচনে ইন্টারফেয়ার করবে? ওনাকে (ওবায়দুল কাদের) কে কি ভারত দায়িত্ব দিয়েছে এই কথাটি বলার জন্য?’

‘এটা আমরা এখন পর্যন্ত বুঝতে পারছি না, দায়িত্ব তিনি (কাদের) কার কাছে থেকে পেলেন?’।

‘ভারতের পক্ষ থেকে তিনি বলছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ভারত ইন্টারফেয়ার করবে না। আমার কাছে এটা মনে হয়েছে তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে।’

‘কারণ ভারতের পক্ষে কথা বলার অধিকার তাকে (কাদের) কেউ দেয়নি। এটা গোটা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে’- বলেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সবসময় মনে করি ভারত আমাদের সবচেয়ে নিকটতম বন্ধুরাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার কথা আমরা সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করি। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সু-সম্পর্ক থাকুক এটা আমরা সবসময় চাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ূয়া, সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী, বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন্দ্র নাথ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মো. জসিম, সুশীল বড়ূয়া প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মারণাস্ত্র নয়, কূটনীতিই হোক সংঘাতের পথ: জাতিসংঘে তারেক রহমান

ভারত কি কাদেরকে কথা বলার দায়িত্ব দিয়েছে: ফখরুল

আপডেট সময় ১১:০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে ওবায়দুল কাদের যা বলেছেন, এই বক্তব্যের কারণ জানতে চেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানতে চেয়েছেন, তিনি কেন ভারতের হয়ে এই কথা বলছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভারতের ‘পক্ষে’ কথা বলছেন। এই অধিকার তাকে কে দিয়েছে?

বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক সভায় বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল। এক আয়োজন করে ‘সম্মিলিত বৌদ্ধ নাগরিক’।

গত ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল ভারত সফর করে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সফরকে নিয়ে আলোচনা আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

সফর থেকে দেশে ফিরে কাদের বিমানবন্দরে বলেন, ‘বিদেশি শক্তি আমাদের বন্ধু হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে, আমরা তা আশা করি না। আর ভারত অতীতেও আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি, এবারও করবে না। তাদের অনেক নেতার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।’

এই সফরের বিষয়ে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। বহুদল তাতে অংশগ্রহণ করবে। ভারত কি ক্ষমতায় বসাবে? তারা কি কখনও ক্ষমতায় বসিয়েছে? ৭৫ এর পরবর্তী সময়েও তারা আমাদের কোন বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ২০০১ সালে আমরা হেরে গেছি। ভারত কি আমাদের জেতাতে চেয়েছে? তারা তো কোন হস্তক্ষেপ করেনি।’

আর ফখরুল বলেন, ‘ভারত থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।’

‘কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের বিরাট ১৯ জনের একটি টিম গিয়েছিল ভারতে সেই দেশের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য। খু্ব ভাল কথা। আমরা এই ধরনের সফরকে সব সময় স্বাগত জানাই। কারণ এতে করে দুই দেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়।’

‘আমিও তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে কিছুদিন আগে চীনে গিয়েছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা ভারত থেকে এসে কী বললেন, তারা বললেন, ভারত বলেছে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ভারত ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করবে না। কথাটার অর্থ কী?’

‘কেউ কি বলেছে ভারত বাংলাদেশের নির্বাচনে ইন্টারফেয়ার করবে? ওনাকে (ওবায়দুল কাদের) কে কি ভারত দায়িত্ব দিয়েছে এই কথাটি বলার জন্য?’

‘এটা আমরা এখন পর্যন্ত বুঝতে পারছি না, দায়িত্ব তিনি (কাদের) কার কাছে থেকে পেলেন?’।

‘ভারতের পক্ষ থেকে তিনি বলছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ভারত ইন্টারফেয়ার করবে না। আমার কাছে এটা মনে হয়েছে তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে।’

‘কারণ ভারতের পক্ষে কথা বলার অধিকার তাকে (কাদের) কেউ দেয়নি। এটা গোটা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে’- বলেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সবসময় মনে করি ভারত আমাদের সবচেয়ে নিকটতম বন্ধুরাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার কথা আমরা সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করি। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সু-সম্পর্ক থাকুক এটা আমরা সবসময় চাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ূয়া, সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী, বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন্দ্র নাথ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মো. জসিম, সুশীল বড়ূয়া প্রমুখ।