ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্কয়ারে মৃত শিশুকে আইসিইউতে রেখে লাখ টাকা বিল, ভিডিও

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জন্মের সময় মৃত শিশুকে আইসিইউতে রেখে কয়েক লাখ টাকা বিল করার সংবাদ গণমাধ্যমে আসার পর ওই শিশুর স্বজনদেরকে ডেকে বিল মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে স্কয়ার হাসপাতাল। তবে তাদের এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

শুক্রবার ওই শিশুটির জন্ম হয়। আর সোমবার শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু শনিবারেই একজন চিকিৎসক এবং কয়েকজন নার্সের বরাত দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি জানতে পারে, শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল জন্মের পর পরই।

এ বিষয়টি নিয়ে পরিবারটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, শিশুটির হার্টে সমস্যা রয়েছে। এরপর বাচ্চাটি বেঁচে আছে ভেবে পরিবারটি আর অমত করেনি। কিন্তু সোমবার সকালে শিশুটির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এরপরই এই বিষয়টি নিয়ে পরিবারটির সঙ্গে স্কয়ার হাসপাতালের কর্মীদের হাতাহাতি হয়। আর সন্ধ্যায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে চায় স্বজনরা। শিশুটির মা তখনও হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুর দুইটায় ওই নবজাতক শিশুর স্বজনদের সঙ্গে স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে। সেখানে তর্ক বিতর্ক চলে বেশ কিছুক্ষণ। পরেপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিল নেবে না বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু পরিবারটি সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়।

আলোচনায় উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না শর্তে দৈনিক আকাশকে জানান, দুপুর দুইটায় স্কয়ার হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে শুরু হয় এই আলোচনা। এসময় হাসপাতালের সিইও ইউসুফ সিদ্দিক, মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক নওশাদ আহমেদ, বাণিজ্যিক বিভাগের ব্যবস্থাপক মিনহাজ ইসলাম, মার্কেটিং হেড ডা. ফয়সাল, ডাক্তারদের প্রধান মির্জা নাজিম উদ্দিন, হেড অব ম্যানেজমেন্ট রুহুল আলম, গাইনি বিশেষজ্ঞ রেহনুমা জাহান ছাড়াও বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা। এ সময় বেশ কয়েকবার বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এসময় ভুক্তভোগীর পরিবারে পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়, তাদের গাফিলতির কারণে যে তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে সেটা গণমাধ্যমের সামনে বলতে হবে।

পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত তিন ডাক্তারকে অব্যাহতি দেয়ার শর্ত দেয় শিশুটির পরিবার। এছাড়া আইসিউতে রেখে রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি বন্ধ হয় যেন সেই বিষয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করার শর্ত দেয় তারা।

তবে হাসপাতালটি কর্মকর্তারা তদন্ত কমিটির বিষয়টি ছাড়া অন্য কোন দাবি মানেনি। তবে কবে নাগাদ তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করবে সেই বিষয়টি সভায় নিশ্চিত করা হয়নি।

এসময় হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা পরিবারটিকে বলে এই বৈঠকের খবর যেন কোনো সংবাদ মাধ্যমে বা ফেসবুকে সংবাদ করা না হয়।

আলোচনা শেষে হাসপাতালের চিকিৎসক মির্জা নাজিম উদ্দিনমৃত নবজাতকের মা তাসলিমা তারানুম নোভাকে দেখতে যান। ঘটনার দুঃখ প্রকাশ তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘কটি বড় বটগাছের কয়েকটি ডাল কাটলে গাছের কোন ক্ষতি হবে না’ বলে প্রসূতিকে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তিনি আবার মা হবেন।

পরে মৃত নবজাতকের বাবা শাহবুদ্দিন টিপু ও আত্মীয়দের ডেকে নিয়ে নার্সদের স্টেশন রুমে যান মির্জা নাজিম উদ্দিন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিল হয়েছে আড়াই লাখের মতো সেটা দেওয়া লাগবে না। আজ আপনার রিলিজ করে বাড়ি চলে যান। আমরা আপনার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারব না তবে বিল বাকি রইল পরে নেব।’

এ সময় টিপু বলেন, ‘না, আমরা বিল দিয়ে হাসপাতাল ছাড়ব না।

তখন মির্জা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনারা আমাদের কথা রাখবেন দয়া করে।’

প্রসূতির মামা অবসরপ্রাপ্ত মেজর রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার ভাগ্নির সাথে হাসপাতালের ডাক্তাররা খুবই বাজে ব্যবহার করেছে। তারা বাচ্চাটিকে বাঁচাতে দেয়নি। আমরা টাকার চিন্তা কখনও করিনি। স্কয়ারের মতো এতো বড় একটি হাসপাতাল এমন কাজ করতে পারে আমাদের ধারণা ছিল না।’

রেজাউল করিম সম্প্রতি র‌্যাব থেকে অবসরে গেছেন। আর স্কয়ারের সঙ্গে এই বৈঠক চলার সময় বেশ কয়েকজন র‌্যাব কর্মকর্তা তাকে ফোনও করেন। সেই বিষয়টিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুঝেছে।

স্কয়ার হাসপাতালকে আপনারা কী প্রস্তাব দিয়েছেন- এমন প্রশ্নে রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছি। সেখানে আমাদের ও হাসপাতালের সদস্যরা থাকবেন। দ্রুতই কমিটি কাজ শুরু করবে।’

‘তবে অভিযুক্ত ওই তিন নারী ডাক্তার যাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কোন রোগী দেখতে না পারে সে বিষয়টি বলেছি। তবে তারা সেটা মানেনি।’

বিল না নেওয়ার বিষয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘এমন অফার হাসপাতালের বেশ কয়েকজন আমাদের দিয়েছেন। তবে বিল পরিশোধ করে আমরা হাসপাতাল ছাড়ব।’

নবজাতকের বাবা শাহবুদ্দিন টিপু বলেন, ‘মিটিংয়ে আমি বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি। আমার স্ত্রী এখনও অসুস্থ। সে সন্তান হারিয়ে পাগল প্রায়। মাঝে মাঝে সন্তানের কথা ভেবে কান্না করছেন।’

বিষয়টি নিয়ে বিল মওকুফের প্রস্তাব দেয়া চিকিৎসক মির্জা নাজিম উদ্দিনের কাছে জানতে তার ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।

পরে হাসপাতালের হেল্প ডেস্কে ফোন করা হলে মোতালেব নামে একজন ফোন ধরেন। নবজাতকের পরিবারকে বিল মওকুফের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা রিলিজ নিয়ে চলে গেছে। টাকা মওকুফের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে, আপনাকে সরাসরি এসে কথা বলতে হবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে তার স্ত্রী তাসলিমা তারানুম নোভাকে স্কয়ার হাসপাতালে আসেন টিপু। সেখানে গাইনি বিশেষজ্ঞ রেহনুমা জাহান তাদের বেশ কয়েকটি চেকআপ করিয়ে বলেন প্রসব ব্যাথা উঠলে হাসপাতালে আনতে। কিন্তু অন্য একজন চিকিৎসক এসে বলেন, এখনই তার স্ত্রীকে ভর্তি করতে হবে। তার ব্যাথা উঠেছে।

টিপু ওই চিকিৎসকের কাছে জানতে চান, কীভাবে তিনি বুঝলেন ব্যাথা উঠছে। তখন ওই ডাক্তার বলেন, ‘এটা বুঝবেন না।

সন্ধ্যায় স্ত্রীকে ভর্তির পর রাতে নোভাকে প্রসব ব্যাথা উঠার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতেও ব্যাথা উঠেনি। পরে শুক্রবার আবারও তাকে ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরে ডা: রাফিফা ও ডা: নাজিয়া শনিবার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন। সকালে বাচ্চা প্রসব করলেও তারা অপারেশ থিয়েটার থেকে তাকে বের করতে কালক্ষেপণ করে।

পরে তারা জানান, বাচ্চার হার্টে সমস্যা আছে আইসিইউতি রাখতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

স্কয়ারে মৃত শিশুকে আইসিইউতে রেখে লাখ টাকা বিল, ভিডিও

আপডেট সময় ০৮:৩২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জন্মের সময় মৃত শিশুকে আইসিইউতে রেখে কয়েক লাখ টাকা বিল করার সংবাদ গণমাধ্যমে আসার পর ওই শিশুর স্বজনদেরকে ডেকে বিল মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে স্কয়ার হাসপাতাল। তবে তাদের এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

শুক্রবার ওই শিশুটির জন্ম হয়। আর সোমবার শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু শনিবারেই একজন চিকিৎসক এবং কয়েকজন নার্সের বরাত দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি জানতে পারে, শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল জন্মের পর পরই।

এ বিষয়টি নিয়ে পরিবারটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, শিশুটির হার্টে সমস্যা রয়েছে। এরপর বাচ্চাটি বেঁচে আছে ভেবে পরিবারটি আর অমত করেনি। কিন্তু সোমবার সকালে শিশুটির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এরপরই এই বিষয়টি নিয়ে পরিবারটির সঙ্গে স্কয়ার হাসপাতালের কর্মীদের হাতাহাতি হয়। আর সন্ধ্যায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে চায় স্বজনরা। শিশুটির মা তখনও হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুর দুইটায় ওই নবজাতক শিশুর স্বজনদের সঙ্গে স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে। সেখানে তর্ক বিতর্ক চলে বেশ কিছুক্ষণ। পরেপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিল নেবে না বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু পরিবারটি সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়।

আলোচনায় উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না শর্তে দৈনিক আকাশকে জানান, দুপুর দুইটায় স্কয়ার হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে শুরু হয় এই আলোচনা। এসময় হাসপাতালের সিইও ইউসুফ সিদ্দিক, মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক নওশাদ আহমেদ, বাণিজ্যিক বিভাগের ব্যবস্থাপক মিনহাজ ইসলাম, মার্কেটিং হেড ডা. ফয়সাল, ডাক্তারদের প্রধান মির্জা নাজিম উদ্দিন, হেড অব ম্যানেজমেন্ট রুহুল আলম, গাইনি বিশেষজ্ঞ রেহনুমা জাহান ছাড়াও বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা। এ সময় বেশ কয়েকবার বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এসময় ভুক্তভোগীর পরিবারে পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়, তাদের গাফিলতির কারণে যে তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে সেটা গণমাধ্যমের সামনে বলতে হবে।

পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত তিন ডাক্তারকে অব্যাহতি দেয়ার শর্ত দেয় শিশুটির পরিবার। এছাড়া আইসিউতে রেখে রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি বন্ধ হয় যেন সেই বিষয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করার শর্ত দেয় তারা।

তবে হাসপাতালটি কর্মকর্তারা তদন্ত কমিটির বিষয়টি ছাড়া অন্য কোন দাবি মানেনি। তবে কবে নাগাদ তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করবে সেই বিষয়টি সভায় নিশ্চিত করা হয়নি।

এসময় হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা পরিবারটিকে বলে এই বৈঠকের খবর যেন কোনো সংবাদ মাধ্যমে বা ফেসবুকে সংবাদ করা না হয়।

আলোচনা শেষে হাসপাতালের চিকিৎসক মির্জা নাজিম উদ্দিনমৃত নবজাতকের মা তাসলিমা তারানুম নোভাকে দেখতে যান। ঘটনার দুঃখ প্রকাশ তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘কটি বড় বটগাছের কয়েকটি ডাল কাটলে গাছের কোন ক্ষতি হবে না’ বলে প্রসূতিকে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তিনি আবার মা হবেন।

পরে মৃত নবজাতকের বাবা শাহবুদ্দিন টিপু ও আত্মীয়দের ডেকে নিয়ে নার্সদের স্টেশন রুমে যান মির্জা নাজিম উদ্দিন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিল হয়েছে আড়াই লাখের মতো সেটা দেওয়া লাগবে না। আজ আপনার রিলিজ করে বাড়ি চলে যান। আমরা আপনার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারব না তবে বিল বাকি রইল পরে নেব।’

এ সময় টিপু বলেন, ‘না, আমরা বিল দিয়ে হাসপাতাল ছাড়ব না।

তখন মির্জা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনারা আমাদের কথা রাখবেন দয়া করে।’

প্রসূতির মামা অবসরপ্রাপ্ত মেজর রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার ভাগ্নির সাথে হাসপাতালের ডাক্তাররা খুবই বাজে ব্যবহার করেছে। তারা বাচ্চাটিকে বাঁচাতে দেয়নি। আমরা টাকার চিন্তা কখনও করিনি। স্কয়ারের মতো এতো বড় একটি হাসপাতাল এমন কাজ করতে পারে আমাদের ধারণা ছিল না।’

রেজাউল করিম সম্প্রতি র‌্যাব থেকে অবসরে গেছেন। আর স্কয়ারের সঙ্গে এই বৈঠক চলার সময় বেশ কয়েকজন র‌্যাব কর্মকর্তা তাকে ফোনও করেন। সেই বিষয়টিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুঝেছে।

স্কয়ার হাসপাতালকে আপনারা কী প্রস্তাব দিয়েছেন- এমন প্রশ্নে রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছি। সেখানে আমাদের ও হাসপাতালের সদস্যরা থাকবেন। দ্রুতই কমিটি কাজ শুরু করবে।’

‘তবে অভিযুক্ত ওই তিন নারী ডাক্তার যাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কোন রোগী দেখতে না পারে সে বিষয়টি বলেছি। তবে তারা সেটা মানেনি।’

বিল না নেওয়ার বিষয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘এমন অফার হাসপাতালের বেশ কয়েকজন আমাদের দিয়েছেন। তবে বিল পরিশোধ করে আমরা হাসপাতাল ছাড়ব।’

নবজাতকের বাবা শাহবুদ্দিন টিপু বলেন, ‘মিটিংয়ে আমি বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি। আমার স্ত্রী এখনও অসুস্থ। সে সন্তান হারিয়ে পাগল প্রায়। মাঝে মাঝে সন্তানের কথা ভেবে কান্না করছেন।’

বিষয়টি নিয়ে বিল মওকুফের প্রস্তাব দেয়া চিকিৎসক মির্জা নাজিম উদ্দিনের কাছে জানতে তার ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।

পরে হাসপাতালের হেল্প ডেস্কে ফোন করা হলে মোতালেব নামে একজন ফোন ধরেন। নবজাতকের পরিবারকে বিল মওকুফের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা রিলিজ নিয়ে চলে গেছে। টাকা মওকুফের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে, আপনাকে সরাসরি এসে কথা বলতে হবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে তার স্ত্রী তাসলিমা তারানুম নোভাকে স্কয়ার হাসপাতালে আসেন টিপু। সেখানে গাইনি বিশেষজ্ঞ রেহনুমা জাহান তাদের বেশ কয়েকটি চেকআপ করিয়ে বলেন প্রসব ব্যাথা উঠলে হাসপাতালে আনতে। কিন্তু অন্য একজন চিকিৎসক এসে বলেন, এখনই তার স্ত্রীকে ভর্তি করতে হবে। তার ব্যাথা উঠেছে।

টিপু ওই চিকিৎসকের কাছে জানতে চান, কীভাবে তিনি বুঝলেন ব্যাথা উঠছে। তখন ওই ডাক্তার বলেন, ‘এটা বুঝবেন না।

সন্ধ্যায় স্ত্রীকে ভর্তির পর রাতে নোভাকে প্রসব ব্যাথা উঠার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতেও ব্যাথা উঠেনি। পরে শুক্রবার আবারও তাকে ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরে ডা: রাফিফা ও ডা: নাজিয়া শনিবার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন। সকালে বাচ্চা প্রসব করলেও তারা অপারেশ থিয়েটার থেকে তাকে বের করতে কালক্ষেপণ করে।

পরে তারা জানান, বাচ্চার হার্টে সমস্যা আছে আইসিইউতি রাখতে হবে।