ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মামুনের পাচার করা টাকা দ্রুত ফেরত আনা হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের লন্ডনে পাচার করা টাকা ফেরত আনার লক্ষে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মামলার সম্পৃক্ত অর্থ (৬ কোটি টাকা) বিদেশে ফ্রিজ রয়েছে। আর মামালাটি শেষ না হলে টাকাটা ফেরত আসবে না। দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে। এজন্যই আসা (নিম্ন আদালতে) ও কোর্টকে বলা। মামলার রায় পেলে হয়তো কয়েক মাসের মধ্যেই টাকাটা দেশে ফেরত আনতে পারব।

মঙ্গলবার ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের একটি অর্থ পাচার মামলায় সাক্ষ্য নিতে নিম্ন আদালতে আসেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ৫ তলায় অবস্থিত ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম ও নিম্ন আদালতের দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

এদিন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল। দীর্ঘদিন আসামিপক্ষ এ সাক্ষীকে অবশিষ্ট জেরা না করায় অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে এসে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আবেদন করেন। অপরদিকে মামলাটিতে সাক্ষীকে রিকল করাসহ ৩টি বিষয়ে আবেদন আপিল বিভাগে পেনডিং আছে জানিয়ে আসামিপক্ষ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন আগামী ২৫ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওই দিন আপিল বিভাগ থেকে কোনো স্থগিতাদেশ আসামিপক্ষ না আনতে পারলে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলে জানান বিচারক।

আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন- আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম কোয়েল, সাব্বির হামজা চৌধুরী, নুর নবী, এম হেলাল উদ্দিন, খায়রুল ইসলাম লিটন, পাপড়ি প্রমুখ।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটিতে এর আগে ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। শেষ সাক্ষী হিসেবে দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাক্ষ্য দিচ্ছেন। তার জবানবন্দির পর আসামিপক্ষ আংশিক জেরাও করেন। এরপরই আসামি পক্ষ উচ্চ আদালতে যাওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ দীর্ঘদিন মূলতবি আছে।

সূত্র আরও জানায়, বিটিএল ও গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান এম শাহজাদ আলীর রেলওয়ের সিগন্যালিং আধুনিকীকরণের টেন্ডার পান। কিন্তু কার্যাদেশ চূড়ান্ত করার সময় মামুন তার কাছে অবৈধ কমিশন দাবি করেন। তা না হলে কার্যাদেশ বাতিল করার হুমকি দেন। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মামুন ৬ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬২ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তা বাংলাদেশ থেকে লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে পাচার করেন। ওই অভিযোগে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করে দুদক। এরপর দুদক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করলে আদালত এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন। ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন মামুন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেড় ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মামুনের পাচার করা টাকা দ্রুত ফেরত আনা হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট সময় ১০:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের লন্ডনে পাচার করা টাকা ফেরত আনার লক্ষে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মামলার সম্পৃক্ত অর্থ (৬ কোটি টাকা) বিদেশে ফ্রিজ রয়েছে। আর মামালাটি শেষ না হলে টাকাটা ফেরত আসবে না। দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে। এজন্যই আসা (নিম্ন আদালতে) ও কোর্টকে বলা। মামলার রায় পেলে হয়তো কয়েক মাসের মধ্যেই টাকাটা দেশে ফেরত আনতে পারব।

মঙ্গলবার ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের একটি অর্থ পাচার মামলায় সাক্ষ্য নিতে নিম্ন আদালতে আসেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ৫ তলায় অবস্থিত ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম ও নিম্ন আদালতের দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

এদিন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল। দীর্ঘদিন আসামিপক্ষ এ সাক্ষীকে অবশিষ্ট জেরা না করায় অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে এসে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আবেদন করেন। অপরদিকে মামলাটিতে সাক্ষীকে রিকল করাসহ ৩টি বিষয়ে আবেদন আপিল বিভাগে পেনডিং আছে জানিয়ে আসামিপক্ষ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন আগামী ২৫ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওই দিন আপিল বিভাগ থেকে কোনো স্থগিতাদেশ আসামিপক্ষ না আনতে পারলে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলে জানান বিচারক।

আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন- আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম কোয়েল, সাব্বির হামজা চৌধুরী, নুর নবী, এম হেলাল উদ্দিন, খায়রুল ইসলাম লিটন, পাপড়ি প্রমুখ।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটিতে এর আগে ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। শেষ সাক্ষী হিসেবে দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাক্ষ্য দিচ্ছেন। তার জবানবন্দির পর আসামিপক্ষ আংশিক জেরাও করেন। এরপরই আসামি পক্ষ উচ্চ আদালতে যাওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ দীর্ঘদিন মূলতবি আছে।

সূত্র আরও জানায়, বিটিএল ও গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান এম শাহজাদ আলীর রেলওয়ের সিগন্যালিং আধুনিকীকরণের টেন্ডার পান। কিন্তু কার্যাদেশ চূড়ান্ত করার সময় মামুন তার কাছে অবৈধ কমিশন দাবি করেন। তা না হলে কার্যাদেশ বাতিল করার হুমকি দেন। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মামুন ৬ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬২ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তা বাংলাদেশ থেকে লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে পাচার করেন। ওই অভিযোগে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করে দুদক। এরপর দুদক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করলে আদালত এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন। ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন মামুন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেড় ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।