ঢাকা ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

নামমাত্র দামে বিক্রি জার্মানির একটি গ্রাম!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার ইউরো! এই সামান্য অর্থেই জার্মানির আস্ত একটি গ্রাম কিনে নিলেন এক ব্যক্তি! গ্রামটিকে পাণ্ডবর্জিতই বলা চলে। গ্রামের বাসিন্দা মাত্র ২০ জন। বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত। বয়সের ভারে আর কাজকর্ম করারও ক্ষমতা নেই।

রাজধানী বার্লিন থেকে প্রায় ১২০ কি.মি. দূরে অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রাম আলউইন। জীবিকার সন্ধানে বেশিরভাগ বাসিন্দাই গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছেন। বাপ দাদার ভিটের মায়া কাটাতে পারেননি প্রবীণ বাসিন্দারা। তবে সেই সংখ্যাটা নগণ্য।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আলইউন গ্রামে এখন থাকেন মাত্র ২০ জন। তাদের রোজগার বলতে কিছুই নেই। চরম দারিদ্র্য আর অবহেলায় দিন কাটে তাদের।

সম্প্রতি আলউইন গ্রামটিকে নিলামে তোলা হয়। নিলামের শুরুতে দাম উঠেছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ইউরো। তবে তার থেকে সামান্য বেশি দামে মালিকানা বদলে গেল আলউইনের। ১ লাখ ৪০ হাজার ইউরো দিয়ে গ্রামটি কিনে নিলেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। ইউরো চালু হওয়ার আগে জার্মানির মুদ্রা ছিল ডয়েসমার্ক। ২০০০ সালে প্রতীকি এক ডয়েসমার্কের মূল্যে এক ব্যক্তির কাছে আলউইন গ্রামটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, নয়ের দশকের গোড়া পর্যন্ত কমিউনিস্ট শাসিত সাবেক পূর্ব জামানির অন্তর্ভুক্ত ছিল আলউইন গ্রাম। তখন গ্রামের আর্থিক সমৃদ্ধি ছিল যথেষ্টই। আলউইন গ্রামের কাছেই ছিল একটি ইটভাটা। ইটভাটায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন গ্রামের বাসিন্দারা। প্রত্যেক পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। কিন্তু, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি এক হয়ে যাওয়ার পরই, ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে থাকে আলউইন।

ইটভাটাটি বন্ধ হয়ে যাওয়া, গ্রামবাসীদের রুটি-রুজিতে টান পড়ে। জীবিকা সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিতে শুরু করেন বাসিন্দারা। এভাবে একসময়ে কার্যত জনহীন হয়ে পড়ে একদা সমৃদ্ধশালী গ্রামটি। এখন সাকুল্যে ২০ জন বাসিন্দা নিয়ে কোনও মতে নিজের অস্বিত্ব টিকিয়ে রেখেছে আলউইন। জার্মানি সরকারও গ্রামের উন্নয়নে সেভাবে কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

নামমাত্র দামে বিক্রি জার্মানির একটি গ্রাম!

আপডেট সময় ০৮:৩০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার ইউরো! এই সামান্য অর্থেই জার্মানির আস্ত একটি গ্রাম কিনে নিলেন এক ব্যক্তি! গ্রামটিকে পাণ্ডবর্জিতই বলা চলে। গ্রামের বাসিন্দা মাত্র ২০ জন। বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত। বয়সের ভারে আর কাজকর্ম করারও ক্ষমতা নেই।

রাজধানী বার্লিন থেকে প্রায় ১২০ কি.মি. দূরে অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রাম আলউইন। জীবিকার সন্ধানে বেশিরভাগ বাসিন্দাই গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছেন। বাপ দাদার ভিটের মায়া কাটাতে পারেননি প্রবীণ বাসিন্দারা। তবে সেই সংখ্যাটা নগণ্য।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আলইউন গ্রামে এখন থাকেন মাত্র ২০ জন। তাদের রোজগার বলতে কিছুই নেই। চরম দারিদ্র্য আর অবহেলায় দিন কাটে তাদের।

সম্প্রতি আলউইন গ্রামটিকে নিলামে তোলা হয়। নিলামের শুরুতে দাম উঠেছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ইউরো। তবে তার থেকে সামান্য বেশি দামে মালিকানা বদলে গেল আলউইনের। ১ লাখ ৪০ হাজার ইউরো দিয়ে গ্রামটি কিনে নিলেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। ইউরো চালু হওয়ার আগে জার্মানির মুদ্রা ছিল ডয়েসমার্ক। ২০০০ সালে প্রতীকি এক ডয়েসমার্কের মূল্যে এক ব্যক্তির কাছে আলউইন গ্রামটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, নয়ের দশকের গোড়া পর্যন্ত কমিউনিস্ট শাসিত সাবেক পূর্ব জামানির অন্তর্ভুক্ত ছিল আলউইন গ্রাম। তখন গ্রামের আর্থিক সমৃদ্ধি ছিল যথেষ্টই। আলউইন গ্রামের কাছেই ছিল একটি ইটভাটা। ইটভাটায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন গ্রামের বাসিন্দারা। প্রত্যেক পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। কিন্তু, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি এক হয়ে যাওয়ার পরই, ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে থাকে আলউইন।

ইটভাটাটি বন্ধ হয়ে যাওয়া, গ্রামবাসীদের রুটি-রুজিতে টান পড়ে। জীবিকা সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিতে শুরু করেন বাসিন্দারা। এভাবে একসময়ে কার্যত জনহীন হয়ে পড়ে একদা সমৃদ্ধশালী গ্রামটি। এখন সাকুল্যে ২০ জন বাসিন্দা নিয়ে কোনও মতে নিজের অস্বিত্ব টিকিয়ে রেখেছে আলউইন। জার্মানি সরকারও গ্রামের উন্নয়নে সেভাবে কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ।