আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ও জনপ্রতিনিধিত্ব করার অধিকার নেই। আমরা সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চালাব। কিন্তু কোনোভাবে আপনাদের আমরা শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) প্রতি নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ আচরণের’ অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ কিংবা আনুগত্য প্রকাশ করলে, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। এরপরও আমরা দেখলাম, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও অনেকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে গুন্ডামি করছেন, ২০০-৩০০ জন লোক নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকশ আইনজীবী নিয়ে যাচ্ছেন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য। অন্যদিকে, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে তাদের বৈধতা দানের এক ধরনের প্রবণতা আমরা নির্বাচন কমিশনের মধ্যেও দেখতে পেয়েছি।
তিনি বলেন, বিএনপি নিজেদের গণতন্ত্রের ধারক-বাহক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথিকৃৎ হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় বললেও তাদের কাজকর্ম এর সম্পূর্ণ উল্টো। তারা দেশের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের যে লুটেরা শ্রেণি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে দেশটাকে লুট করে বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়েছে, বিদেশে বাড়িঘর করেছে। এখন আবার যখন গণতন্ত্রের সময় এসেছে, নির্বাচনের সময় এসেছে, আবারও তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য দেশে এসে সেই দ্বৈত নাগরিকত্বসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। আপনারা যদি জনপ্রতিনিধি হতে চান তাহলে প্রথমে বাংলাদেশের নাগরিক হন। আমরা কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচন করতে দেব না। যদি নির্বাচন কমিশন এ ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করার কিংবা কোনো ধরনের ইন্টারপ্রেটেশন দেওয়ার অথবা কোনো ফাঁকফোকরের মধ্য দিয়ে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে তাদের প্রার্থিতা বৈধ করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা একই সঙ্গে আইনি লড়াই করব এবং রাজপথে নামব।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা প্রথম দিন থেকে নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছি। কমিশনের একপাক্ষিক অবস্থান নেওয়াটা আমরা একদম যাচাই-বাছাই পর্যায় থেকে দেখে আসছি। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি, তাদের সুযোগ দেওয়ার। যাতে তারা এগুলো ঠিক করে নেয়। কিন্তু এফিডেভিটের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশের নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার যে কথাগুলো আমরা শুনেছি, এরপর আমরা কমিশনকে আর কোনো ধরনের সুযোগ দেব না। আগামীকাল (আজ) যদি আমরা দেখি, কোনো ঋণখেলাপি, কোনো দ্বৈত নাগরিক নির্বাচন করার যোগ্যতা পাচ্ছেন, সেটা যে শর্তেই হোক, যেই ইন্টারপ্রেটেশনের (ব্যাখ্যা) মধ্য দিয়ে হোক। আমরা সেটার বিরুদ্ধে রাজপথে নামব। একই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















