ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এক মতবিনিময় সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ সময় তিনি আঙুল উঁচিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘শেষবার সতর্ক’ করার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না।’ ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় শনিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। নোয়াগাঁও-ইসলামাবাদের বাসিন্দারা দুপুরে রুমিন ফারহানার সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। আয়োজনে কোনো ব্যানার, ফেস্টুন বা মাইক ব্যবহার করা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রুমিন ফারহানা সভাস্থলে পৌঁছালে সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান উপস্থিত হন এবং তাকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। তবে রুমিন ফারহানা বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, ‘এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি স্যারদিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্ন ইউ। আই উইল নট লিসেন টু দ্যাট।’

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শোনা যায়, আচরণবিধি লংঘন হলে ব্যবস্থা নিতে হয়। জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সব জায়গায় হচ্ছে।’ পাশ থেকে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, তখন কিছু বলেন না।’ এরপর রুমিন ফারহানা আঙুল উঁচিয়ে বলেন, ‘এইরকম দেখায় আপনাদেরকে।

প্রশাসনে বসে আছেন, খোঁজ নেন।’ তিনি উপস্থিত সবাইকে চুপ থাকতে বলে আরও বলেন, ‘আজকে শুনছি। আঙুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে আর শুনব না। আমি যদি না বলি, এখান থেকে বের হতে পারবেন না। মাথায় রাখবেন। আমি রুমিন ফারহানা, কোনো দল লাগে না।’

এ ঘটনায় নির্বাচনি আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত রুমিন ফারহানার এক সমর্থক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি লংঘন হওয়ায় রুমিন ফারহানাকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি চলে যাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।’

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুবকর সরকার বলেন, ‘একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি আশা করব এ নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ আচরণ করবে। কোনো পক্ষ হয়ে কাজ করবে না। প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লংঘন করলেও সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’

আপডেট সময় ১০:৩০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এক মতবিনিময় সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ সময় তিনি আঙুল উঁচিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘শেষবার সতর্ক’ করার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না।’ ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় শনিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। নোয়াগাঁও-ইসলামাবাদের বাসিন্দারা দুপুরে রুমিন ফারহানার সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। আয়োজনে কোনো ব্যানার, ফেস্টুন বা মাইক ব্যবহার করা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রুমিন ফারহানা সভাস্থলে পৌঁছালে সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান উপস্থিত হন এবং তাকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। তবে রুমিন ফারহানা বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, ‘এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি স্যারদিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্ন ইউ। আই উইল নট লিসেন টু দ্যাট।’

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শোনা যায়, আচরণবিধি লংঘন হলে ব্যবস্থা নিতে হয়। জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সব জায়গায় হচ্ছে।’ পাশ থেকে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, তখন কিছু বলেন না।’ এরপর রুমিন ফারহানা আঙুল উঁচিয়ে বলেন, ‘এইরকম দেখায় আপনাদেরকে।

প্রশাসনে বসে আছেন, খোঁজ নেন।’ তিনি উপস্থিত সবাইকে চুপ থাকতে বলে আরও বলেন, ‘আজকে শুনছি। আঙুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে আর শুনব না। আমি যদি না বলি, এখান থেকে বের হতে পারবেন না। মাথায় রাখবেন। আমি রুমিন ফারহানা, কোনো দল লাগে না।’

এ ঘটনায় নির্বাচনি আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত রুমিন ফারহানার এক সমর্থক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি লংঘন হওয়ায় রুমিন ফারহানাকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি চলে যাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।’

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুবকর সরকার বলেন, ‘একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি আশা করব এ নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ আচরণ করবে। কোনো পক্ষ হয়ে কাজ করবে না। প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লংঘন করলেও সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’