ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

অফশোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কীভাবে কর ফাঁকি দেন ধনীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ স্থানান্তর সংক্রান্ত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির পর এবার সামনে এলো প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারি। যেখানে উঠে এসেছে রানি এলিজাবেথ, ট্রাম্প সহযোগি, জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির নাম।

রবিবার ওই প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারি নামে প্রায় এক কোটিরও বেশি গোপন দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে কিভাবে পৃথিবীর বড় বড় ধনী ও ক্ষমতাবান লোকেরা আয়কর এড়ানোর জন্য বিভিন্ন ক্যারিবিয়ান দ্বীপে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির অনুষ্ঠান প্যানোরামা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম (আইসিআইজে), এবং জার্মান সংবাদপত্র জুয়েডয়েচে জাইটুং-এর করা এক তদন্তের অংশ হিসেবে এক কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি দলিল পত্র পেয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, অফশোর বা বিদেশী বিনিয়োগ এখন একটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়কর কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে বিশ্বজুড়ে হাজার-হাজার কোটি ডলার গচ্ছিত রাখা হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিত্তবানরা তাদের নিজ দেশের আয়কর কর্তৃপক্ষকে এড়াতে কিভাবে এই কৌশল ব্যবহার করে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, নগদ অর্থ গোপন রাখার পাঁচটি ধাপ আছে যা বেশ সহজ। প্রথমত শুধু নাম দিয়ে একটি কোম্পানি গঠন করতে হয়। এই কোম্পানিটি হয় অফশোর অর্থাৎ বিনিয়োগকারী যে দেশের – তা থেকে আলাদা কোনো দেশে, যেখানে খুব কম বা শূন্য আয়করের সুবিধা পাওয়া যায়। এগুলো প্রায়ই হয় ছোট ছোট দ্বীপে।

যেমন, বারমুদা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ বা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, অথবা ইংল্যান্ডের আইল অব ম্যান, গার্নসি, বা জার্সি। সেখানে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে কড়া গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

সে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থের বিনিময়ে একজন ‘নমিনি’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় – যাতে দলিল-দস্তাবেজে প্রকৃত মালিকের নাম না থাকে। এ ছাড়া ভিন্ন আরেকটি দেশে অর্থাৎ অফশোরে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। প্রকৃত মালিকের যাতে নাম প্রকাশিত না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। সেই অ্যাকাউন্টে গিয়ে ওই কোম্পানির অর্থ জমা হবে।

এ অর্থ কোম্পানির সম্পত্তিতে খরচ করা হয়। অথবা ঋণ বাবদ যেটি কখনোই পরিশোধ করা হয় না। যেমন – এর দ্বারা আপনি বাড়ি,গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ ক্রয় করতে পারেন। আয়কর থেকে নগদ অর্থ লুকানোর জন্য এটি একটি উপায় মাত্র।

বস্টন কনসালটিং গ্রুপ-এর সূত্র মতে, এ পদ্ধতিতে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত আছে সেটি পরিমাণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি জাপান, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স-এর মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের চেয়ে বেশি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

অফশোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কীভাবে কর ফাঁকি দেন ধনীরা

আপডেট সময় ০৮:০১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০১৭

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ স্থানান্তর সংক্রান্ত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির পর এবার সামনে এলো প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারি। যেখানে উঠে এসেছে রানি এলিজাবেথ, ট্রাম্প সহযোগি, জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির নাম।

রবিবার ওই প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারি নামে প্রায় এক কোটিরও বেশি গোপন দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে কিভাবে পৃথিবীর বড় বড় ধনী ও ক্ষমতাবান লোকেরা আয়কর এড়ানোর জন্য বিভিন্ন ক্যারিবিয়ান দ্বীপে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির অনুষ্ঠান প্যানোরামা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম (আইসিআইজে), এবং জার্মান সংবাদপত্র জুয়েডয়েচে জাইটুং-এর করা এক তদন্তের অংশ হিসেবে এক কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি দলিল পত্র পেয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, অফশোর বা বিদেশী বিনিয়োগ এখন একটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়কর কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে বিশ্বজুড়ে হাজার-হাজার কোটি ডলার গচ্ছিত রাখা হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিত্তবানরা তাদের নিজ দেশের আয়কর কর্তৃপক্ষকে এড়াতে কিভাবে এই কৌশল ব্যবহার করে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, নগদ অর্থ গোপন রাখার পাঁচটি ধাপ আছে যা বেশ সহজ। প্রথমত শুধু নাম দিয়ে একটি কোম্পানি গঠন করতে হয়। এই কোম্পানিটি হয় অফশোর অর্থাৎ বিনিয়োগকারী যে দেশের – তা থেকে আলাদা কোনো দেশে, যেখানে খুব কম বা শূন্য আয়করের সুবিধা পাওয়া যায়। এগুলো প্রায়ই হয় ছোট ছোট দ্বীপে।

যেমন, বারমুদা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ বা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, অথবা ইংল্যান্ডের আইল অব ম্যান, গার্নসি, বা জার্সি। সেখানে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে কড়া গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

সে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থের বিনিময়ে একজন ‘নমিনি’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় – যাতে দলিল-দস্তাবেজে প্রকৃত মালিকের নাম না থাকে। এ ছাড়া ভিন্ন আরেকটি দেশে অর্থাৎ অফশোরে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। প্রকৃত মালিকের যাতে নাম প্রকাশিত না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। সেই অ্যাকাউন্টে গিয়ে ওই কোম্পানির অর্থ জমা হবে।

এ অর্থ কোম্পানির সম্পত্তিতে খরচ করা হয়। অথবা ঋণ বাবদ যেটি কখনোই পরিশোধ করা হয় না। যেমন – এর দ্বারা আপনি বাড়ি,গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ ক্রয় করতে পারেন। আয়কর থেকে নগদ অর্থ লুকানোর জন্য এটি একটি উপায় মাত্র।

বস্টন কনসালটিং গ্রুপ-এর সূত্র মতে, এ পদ্ধতিতে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত আছে সেটি পরিমাণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি জাপান, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স-এর মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের চেয়ে বেশি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।