ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নতুন বাংলাদেশের মহড়া! প্রশাসনের ঘুম ভাঙিয়ে ঢাকা জাগালেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জিয়া পরিবার কেবল একটি নাম নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠান, একটি আদর্শ, একটি ত্যাগের মহাকাব্য। যে পরিবারের জন্ম হয়েছিল স্বাধীনতার রণাঙ্গনে, মেজর জিয়াউর রহমানের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসা “আমি মেজর জিয়া বলছি” ঘোষণার মধ্য দিয়ে। একজন সৈনিক, যিনি নিজের ছেঁড়া গেঞ্জি পরে রাষ্ট্র চালিয়েছেন, যিনি কোদাল হাতে খাল খনন করে বুঝিয়েছিলেন ক্ষমতা মানে ভোগ নয়, সেবা। যিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে এই জাতিকে দিয়েছিলেন নিজস্ব আত্মপরিচয়। সেই শহীদ জিয়ার রক্তের উত্তরাধিকার বহন করে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে হাল ধরেছিলেন আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। স্বৈরাচারের আট বছরের আপসহীন সংগ্রাম, গণতন্ত্রের জন্য কারাবরণ, ৫ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ – তিনি শিখিয়েছিলেন জনগণের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। তার সেই আপসহীনতাই আজ তার জ্যেষ্ঠ পুত্রের রক্তে প্রবাহিত। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান। লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরা এক নেতা, যিনি ফিরেই বলেছিলেন, আমি ফাইল দেখে নয়, মাঠ দেখে দেশ চালাবো। আজ ২০ অক্টোবর ২০২৬, তার সেই শপথের মাত্র আট মাসের মাথায় তিনি প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল জিয়ার পুত্র নন, তিনি জিয়ার আদর্শের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট – সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্পটে তার এই ঝটিকা অভিযান কোনো সাধারণ পরিদর্শন নয়, এটি হলো ৫০ বছরের জিয়া পরিবারের ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমি একজন বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে এই দৃশ্য দেখে আমার চোখে পানি এসেছে। কারণ আমি আমার ড্রয়িংরুমে শহীদ জিয়ার ছবি দেখে বড় হয়েছি, আমি খালেদা জিয়ার বক্তৃতা শুনে রাজনীতি শিখেছি। আজ যখন দেখি তাদেরই রক্ত, দেশনায়ক তারেক রহমান ভোরের আলোয় হাসপাতালের করিডোরে হাঁটছেন, তখন মনে হয় ইতিহাস ফিরে এসেছে, কিন্তু আরও পরিণত, আরও মানবিক রূপে।
উত্তরার ভোর থেকে আজিমপুরের দুপুর: একটি রুট ম্যাপ :
দিনের শুরু উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল দিয়ে। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ মিরপুর, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার, সরকারি বাংলা কলেজ, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আগারগাঁও, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার। এর বাইরে মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শন করেন, যে সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। ১৩টি নাম কেবল তালিকা নয়, এটি উত্তরা থেকে আজিমপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার জুড়ে ঢাকার মানচিত্রে নতুন করে আলো জ্বালানো।
শিশু হাসপাতালের সেই মুহূর্ত: ধূমপান, অপরিচ্ছন্নতা ও কঠোর বার্তা : এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত ও নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী, একই সাথে কক্ষটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। ঘটনাটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং নির্দেশ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একটি শিশুর হাসপাতালে যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি, সেখানে ধোঁয়া – এই অন্যায়কে তিনি এক সেকেন্ডও সহ্য করেননি। একটি বরখাস্তে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালের ১ লাখ ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে বার্তা গেছে – সেবার জায়গায় অবহেলার কোনো স্থান নেই।
সাত দিন ও চৌদ্দ দিনের আলটিমেটাম: জবাবদিহিতার নতুন ভাষা : অনেক স্থানেই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ঘাটতি দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭ দিনের সময় এবং আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পুরোপুরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২ সপ্তাহের সময় বেঁধে দেন। এটি কোনো হুমকি নয়, এটি হলো Time-bound Governance। অতীতে আমরা দেখেছি মাসের পর মাস কমিটি আর আশ্বাস। আজ আমরা দেখছি ঘড়ি ধরে উন্নয়ন। এই ৭ ও ১৪ দিনের পরিসংখ্যান এখন সচিবালয়ের প্রতিটি ফাইলে লাল কালিতে লেখা থাকবে।
আমার শিকড়, আমার গর্ব: বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে এক চিঠি : আমি ছোটবেলা থেকে শুনেছি শহীদ জিয়ার ছেঁড়া গেঞ্জি পরে রাষ্ট্র চালানোর গল্প, দেখেছি আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৯ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম ও কারাভোগের দিনগুলো। আমার পরিবারের ড্রয়িংরুমে শহীদ জিয়ার ছবি আর খালেদা জিয়ার বক্তৃতা ছিল নিত্যদিনের প্রেরণা। আজ যখন দেখি তাদেরই উত্তরসূরি, দেশনায়ক তারেক রহমান ভোর ৯টায় হাসপাতালের করিডোরে হাঁটছেন, শিক্ষার্থীদের সাথে গাছ লাগানোর কথা বলছেন, তখন মনে হয় আমার শৈশবের সেই গল্পগুলো আজ বাস্তব হয়ে ফিরে এসেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার এই কাজগুলো অত্যন্ত পছন্দ করি এবং আমার বিশ্বাস, এই দেশের ১৭ কোটি সাধারণ মানুষও করেন।
শহীদ জিয়া থেকে তারেক রহমান: রক্তের ধারায় সততা :
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান – যিনি নিজের সততা দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন, ক্ষমতা মানে ভোগ নয়, ক্ষমতা মানে সেবা। যিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে একটি জাতিকে আত্মপরিচয় দিয়েছেন। তার আদর্শই ছিল খাল খনন কর্মসূচির মতো নিজে কোদাল হাতে মাঠে নামা। তারেক রহমান সেই আদর্শেরই জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তিনি যখন বলেন, ফুটপাত পরিষ্কার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, তখন আমরা শহীদ জিয়ার সেই কোদালের শব্দই শুনতে পাই। ১৯৭৭ থেকে ২০২৬ – প্রায় ৫০ বছর পর সেই একই সততার ধারা ফিরে এসেছে গণভবন থেকে রাজপথে।
আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া: মায়ের ছায়া :
আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা হারিয়েছি, কিন্তু তার আপসহীনতা হারাইনি। তিনি শিখিয়েছিলেন, জনগণের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। তারেক রহমানের এই ঝটিকা অভিযানে আমরা সেই মায়ের শিক্ষাই দেখি – কোনো প্রটোকল, কোনো লাল গালিচা তাকে আটকাতে পারেনি। তিনি সরাসরি চলে গেছেন অপরিচ্ছন্ন কোয়ার্টারে, কারণ সেখানে তার মায়ের মতোই সাধারণ মানুষ থাকেন। মা যেমন গণতন্ত্রের জন্য ৫ বছরের বেশি কারাবরণ করেছেন, ছেলে তেমনি মানুষের জন্য আরামের জীবন ছেড়ে সকাল ৯টায় রাস্তায় নেমেছেন। এই মা-ছেলের বন্ধনই আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি।
ডা. জোবাইদা ও জাইমা: নীরব শক্তির পরিবার – যেখানে সেবা ও মেধার মিলন : একজন সফল নেতার পেছনে থাকে একটি শক্তিশালী পরিবার, আর দেশনায়ক তারেক রহমানের পেছনে রয়েছে এমনই এক আলোকিত পরিবার। ডা. জোবাইদা রহমান – যিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান করেন, পরবর্তীতে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে মেডিসিনে পড়াশোনা করেন এবং রেকর্ড নম্বর ও স্বর্ণপদকসহ এমএসসি সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে তিনি একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। তার মানবিক, শিক্ষিত ও মার্জিত উপস্থিতি আজকের পরিচ্ছন্ন হাসপাতালের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
আর ব্যারিস্টার জাইমা রহমান – নতুন প্রজন্মের গর্ব। তিনি যুক্তরাজ্যে Bar-at-Law সম্পন্ন করেছেন, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে Inner Temple এর মাধ্যমে যোগ্য ব্যারিস্টার এবং বাংলাদেশেও আইন পেশার যোগ্যতা সম্পন্ন করছেন। সম্প্রতি তিনি নিজ যোগ্যতায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন – জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, যা একটি স্বাধীন জাতিসংঘ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। যেখানে ৪০ জন কর্মীর মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। এই পরিবার কখনো ক্ষমতার প্রদর্শনী করেন না, কিন্তু তাদের রুচি, শিক্ষা ও দেশপ্রেম এই সরকারের প্রতিটি কাজে প্রতিফলিত হয়। একটি পরিচ্ছন্ন হাসপাতালের স্বপ্ন একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মা এবং জাতিসংঘে কর্মরত আইনজ্ঞ কন্যার পরিবারই সবচেয়ে ভালো বোঝেন। প্রধানমন্ত্রী যখন শিশু হাসপাতালে ধূমপানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন, তখন তার পাশে থাকা একজন ডাক্তার স্ত্রীর নীরব প্রেরণাই কাজ করে, আর যখন তিনি আইনের শাসনের কথা বলেন, তখন কন্যার আন্তর্জাতিক অর্জনই তার কথাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
ঢাকা থেকে গ্রাম: আমার অনুরোধ, মফস্বলেও এই আলো জ্বলুক : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশনায়ক, আপনার কাছে একজন বিএনপি পরিবারের মেয়ে হিসেবে আমার একটি আকুল আবেদন। ঢাকার ১৩ স্পট আজ আলোকিত হয়েছে, কিন্তু আমার গ্রাম? আমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স? আমার ইউনিয়নের স্কুল? সেখানেও একই অপরিচ্ছন্নতা, একই অবহেলা। আমি অনুরোধ করছি, এই ঝটিকা অভিযান যেন মফস্বল তথা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত চালু করা হয়। জেলা প্রশাসক, ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যানরা যেন জানেন, যে কোনো দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তাদের দরজায় হাজির হতে পারেন। ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৪,৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে যদি এই বার্তা যায়, তাহলেই সারা বাংলাদেশ বদলে যাবে। ঢাকা বদলালে হবে না, বাংলাদেশ বদলাতে হবে।
টক অব দ্য সিটি: ২০১১ থেকে ২০২৬ – ১৪ বছরের সাহস :
২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন বিলুপ্ত করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছিল নাগরিক সুবিধা বাড়াতে। কিন্তু ভোটের ভয়ে কেউ ফুটপাত হকারমুক্ত করার সাহস দেখায়নি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ক্ষমতাসীন দল ভোটে নেতিবাচক প্রভাব উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ ফার্মগেট, গ্রিন রোড, পান্থপথ, আগারগাঁও, রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, মিরপুর-২, ১০, ১৪, শ্যামলী-শিয়া মসজিদ রিং রোড, তেজগাঁও, ইসলামবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় যৌথ অভিযানে ৫০টি অবৈধ স্থাপনা ও প্রায় ১০০ টন বর্জ্য উচ্ছেদ, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, গোলাপ শাহ মাজার এলাকা, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার, পল্টন, এলিফ্যান্ট রোড, মগবাজার, ঢাকা মেডিকেল ও সেগুনবাগিচা – সর্বত্র উচ্ছেদ অভিযান চলছে। এই পরিসংখ্যান আজ মানুষের মুখে মুখে, এটাই এখন টক অব দ্য সিটি।
ব্যবসায়ী ও পথচারীর হাসি: উন্নয়নের আসল পরিসংখ্যান :
সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বড় হলো মানুষের হাসি। শাহ আলী প্লাজার বিক্রেতা শাহাদাত খন্দকার জানিয়েছেন, উচ্ছেদের পর রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছে, আগে যারা বাইরের ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করতেন তারা এখন মার্কেটে আসছেন, ফলে তাদের বেচাকেনা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। মিরপুরের ৩০ বছরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেছেন, একসময় এই রাস্তা খোলামেলা ছিল, মাঝখানে ফুটপাত হাঁটার যোগ্য ছিল না, এখন রাস্তাঘাট কত পরিচ্ছন্ন। চালকরা বলছেন, আগে মিরপুর-১০ থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যেতে ৪৫ মিনিট লাগতো, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর এখন ১০ মিনিটেই পার হচ্ছেন। এই সময় বাঁচা, এই স্বস্তিই হলো উন্নয়নের আসল জিডিপি।
ডেঙ্গু, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতা: এক সুতোয় গাঁথা : এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিন দেখা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ডেঙ্গু মশা যেখানে জন্মায়, সেখানেই দুর্নীতি জন্মায় – অপরিচ্ছন্নতায়। প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, মশা মারতে শুধু ওষুধ ছিটালে হবে না, মন মানসিকতার ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। তিনি হাসপাতালের ড্রেন, কলেজের আঙিনা, কোয়ার্টারের বর্জ্য – সবকিছু নিজে দেখেছেন। তার এই দর্শন আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশংসা কুড়াচ্ছে, কারণ তিনি রোগের উপসর্গ নয়, রোগের উৎসে হাত দিয়েছেন।
নিজের স্কুলে ফেরা: রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে আবেগ : ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে তার বক্তব্য ছিল সবচেয়ে আবেগঘন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, বিশেষ করে বেশি বেশি গাছ লাগানো ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। একজন প্রধানমন্ত্রী যখন নিজের শৈশবের মাঠে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গাছ লাগাতে বলেন, তখন সেটি নির্দেশ থাকে না, সেটি হয়ে যায় পিতার উপদেশ। এই কলেজের ৬০ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী এভাবে আকস্মিকভাবে এসে ছাত্রদের সাথে মাটিতে বসে কথা বলেননি।
দুই প্রশাসকের প্রশংসা: শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও আবদুস সালাম : প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে নিয়ে নিজেরাই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নগরবাসীর সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফুটপাত উদ্ধারের কর্মসূচি চলমান থাকবে, কারও ইন্ধনে ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আবদুস সালাম সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন ফুটপাতের দেয়ালে আগে থাকা জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ ১০ গুণীর পাশে নতুন করে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ও জীবনানন্দ দাশের প্রতিকৃতি যুক্ত করেছেন। ফুটপাত সংস্কার করে ডাস্টবিন ও বেঞ্চ বসানো হয়েছে। তারা দুজনই আজ প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন, কারণ তারা নেতার আদেশকে মাঠে বাস্তবায়ন করেছেন।
বিশ্ব দরবারে নতুন বাংলাদেশ: জাপান সফর ও কূটনীতি :
দেশের ভেতরে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাইরেও তিনি বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ অক্টোবর জাপানে চার দিনের সরকারি সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির আমন্ত্রণে। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া, চীন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়েছেন। সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরও প্রস্তুতি পর্যায়ে। এটি প্রমাণ করে, তিনি কেবল ঢাকার ফুটপাত নয়, বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের ফুটপ্রিন্টও পরিষ্কার করছেন।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ: তরুণদের জন্য অঙ্গীকার :
আজকের তরুণ সমাজ মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার মতোই দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লাকে মাদকমুক্ত করার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা এই ১৩ স্পট অভিযানেরই সম্প্রসারণ। যে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ধূমপান সহ্য করেন না, তিনি কীভাবে দেশের যুবকদের মাদক সেবন সহ্য করবেন? তার এই কঠোরতা আসলে ভালোবাসা – সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা।
অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: ১৭ ফেব্রুয়ারির শপথ :
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার সরকার ৫ অক্টোবর বিশ্ব বাসস্থান দিবসে নিরাপদ ও টেকসই আবাসনের ঘোষণা দিয়েছে। এই ৮ মাসে তিনি প্রমাণ করেছেন, দুর্নীতি কোনো নিয়তি নয়, এটি একটি অভ্যাস, যা বদলানো যায়। ৭ দিন ও ১৪ দিনের সময়সীমা আসলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘড়ি বেঁধে দেওয়া।
ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ঢাকা: শুধু স্লোগান নয়, দর্শন : ডিএসসিসি প্রশাসক বলেছেন, রাজধানীকে ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, নাগরিকেরও দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর এই দর্শনই আজ ঢাকাকে বদলে দিচ্ছে। ফুটপাতের পাশে ডাস্টবিন, বেঞ্চ, দেয়ালে গুণীজনদের ছবি – এটি কেবল সৌন্দর্যবর্ধন নয়, এটি নাগরিকের মনে রুচি তৈরি করা। একটি জাতির রুচি যখন বদলায়, তখন দেশ বদলায়।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের দৃষ্টিতে তারেক রহমানের ১৩ স্পট অভিযান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, ইউট্যাবের মহাসচিব ও সাদা দলের আহ্বায়ক, বিএনপির কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান এর দৃষ্টিতে “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পট আকস্মিক পরিদর্শন বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দেখেছি, কীভাবে ফুটপাত দখল, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা এবং সরকারি কোয়ার্টারের অব্যবস্থাপনা আমাদের নাগরিক জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পর ১৪ বছরেও যে সাহস কেউ দেখাতে পারেনি, মাত্র আট মাসে দেশনায়ক তারেক রহমান তা করে দেখিয়েছেন। শিশু হাসপাতালে একজন চিকিৎসককে ধূমপানরত অবস্থায় পেয়ে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত, কুয়েত-বাংলাদেশ হাসপাতালে ৭ দিন এবং আজিমপুর কোয়ার্টারে ১৪ দিনের আলটিমেটাম – এটি হলো Time-bound Governance এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এটি কোনো প্রতিহিংসা নয়, এটি জবাবদিহিতা।
আমি মনে করি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির মতো নিজে কোদাল হাতে মাঠে নামার যে দর্শন, আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার যে আপসহীনতা – তারই প্রতিফলন আজ তারেক রহমানের মধ্যে দেখছি। ডা. জোবাইদা রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের মতো উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সমর্থন তাকে আরও মানবিক করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মাদকমুক্ত, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে বিশ্বের মডেল দেশে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।”
পরিশেষে, আমরা বিশ্বাস করি, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ মাদকমুক্ত, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবে। ২৬ অক্টোবর জাপান সফর থেকে শুরু করে বিশ্ব দরবারে আপনার যে কূটনৈতিক যাত্রা, তা প্রমাণ করে আপনি কেবল ঢাকার ফুটপাত নয়, বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের ফুটপ্রিন্টও পরিষ্কার করছেন। ৫ অক্টোবর বিশ্ব বাসস্থান দিবসে আপনার নিরাপদ আবাসনের ঘোষণা থেকে শুরু করে ডেঙ্গু মোকাবেলায় মাঠ পরিদর্শন – সবকিছুতেই আমরা দেখি একজন রাষ্ট্রনায়ককে, একজন পিতাকে। ইনশাআল্লাহ, শহীদ জিয়ার সততা, খালেদা জিয়ার আপসহীনতা, জোবাইদা-জাইমার মেধা ও তারেক রহমানের সাহস – এই চতুর্ভুজের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বের মডেল দেশে পরিণত হবে। সেদিন ইতিহাসের বইয়ে লেখা থাকবে – ২০২৬ সালের অক্টোবরে একজন প্রধানমন্ত্রী হেঁটেছিলেন, আর তার পেছনে হেঁটেছিল ১৭ কোটি মানুষ। সেই হাঁটা থামবে না। হে দেশনায়ক, আপনি এগিয়ে চলুন, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে এই আলো ছড়িয়ে দিন। আমরা, আপনার পাশে আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। মহান আল্লাহ আপনার সহায় হোন, আমিন।
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক,  সাংবাদিক ও কলামিস্ট
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সবাই মিলেমিশে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

নতুন বাংলাদেশের মহড়া! প্রশাসনের ঘুম ভাঙিয়ে ঢাকা জাগালেন তারেক রহমান

আপডেট সময় ১০:৫৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জিয়া পরিবার কেবল একটি নাম নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠান, একটি আদর্শ, একটি ত্যাগের মহাকাব্য। যে পরিবারের জন্ম হয়েছিল স্বাধীনতার রণাঙ্গনে, মেজর জিয়াউর রহমানের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসা “আমি মেজর জিয়া বলছি” ঘোষণার মধ্য দিয়ে। একজন সৈনিক, যিনি নিজের ছেঁড়া গেঞ্জি পরে রাষ্ট্র চালিয়েছেন, যিনি কোদাল হাতে খাল খনন করে বুঝিয়েছিলেন ক্ষমতা মানে ভোগ নয়, সেবা। যিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে এই জাতিকে দিয়েছিলেন নিজস্ব আত্মপরিচয়। সেই শহীদ জিয়ার রক্তের উত্তরাধিকার বহন করে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে হাল ধরেছিলেন আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। স্বৈরাচারের আট বছরের আপসহীন সংগ্রাম, গণতন্ত্রের জন্য কারাবরণ, ৫ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ – তিনি শিখিয়েছিলেন জনগণের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। তার সেই আপসহীনতাই আজ তার জ্যেষ্ঠ পুত্রের রক্তে প্রবাহিত। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান। লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরা এক নেতা, যিনি ফিরেই বলেছিলেন, আমি ফাইল দেখে নয়, মাঠ দেখে দেশ চালাবো। আজ ২০ অক্টোবর ২০২৬, তার সেই শপথের মাত্র আট মাসের মাথায় তিনি প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল জিয়ার পুত্র নন, তিনি জিয়ার আদর্শের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট – সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্পটে তার এই ঝটিকা অভিযান কোনো সাধারণ পরিদর্শন নয়, এটি হলো ৫০ বছরের জিয়া পরিবারের ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমি একজন বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে এই দৃশ্য দেখে আমার চোখে পানি এসেছে। কারণ আমি আমার ড্রয়িংরুমে শহীদ জিয়ার ছবি দেখে বড় হয়েছি, আমি খালেদা জিয়ার বক্তৃতা শুনে রাজনীতি শিখেছি। আজ যখন দেখি তাদেরই রক্ত, দেশনায়ক তারেক রহমান ভোরের আলোয় হাসপাতালের করিডোরে হাঁটছেন, তখন মনে হয় ইতিহাস ফিরে এসেছে, কিন্তু আরও পরিণত, আরও মানবিক রূপে।
উত্তরার ভোর থেকে আজিমপুরের দুপুর: একটি রুট ম্যাপ :
দিনের শুরু উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল দিয়ে। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ মিরপুর, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার, সরকারি বাংলা কলেজ, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আগারগাঁও, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার। এর বাইরে মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শন করেন, যে সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। ১৩টি নাম কেবল তালিকা নয়, এটি উত্তরা থেকে আজিমপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার জুড়ে ঢাকার মানচিত্রে নতুন করে আলো জ্বালানো।
শিশু হাসপাতালের সেই মুহূর্ত: ধূমপান, অপরিচ্ছন্নতা ও কঠোর বার্তা : এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত ও নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী, একই সাথে কক্ষটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। ঘটনাটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং নির্দেশ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একটি শিশুর হাসপাতালে যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি, সেখানে ধোঁয়া – এই অন্যায়কে তিনি এক সেকেন্ডও সহ্য করেননি। একটি বরখাস্তে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালের ১ লাখ ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে বার্তা গেছে – সেবার জায়গায় অবহেলার কোনো স্থান নেই।
সাত দিন ও চৌদ্দ দিনের আলটিমেটাম: জবাবদিহিতার নতুন ভাষা : অনেক স্থানেই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ঘাটতি দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭ দিনের সময় এবং আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পুরোপুরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২ সপ্তাহের সময় বেঁধে দেন। এটি কোনো হুমকি নয়, এটি হলো Time-bound Governance। অতীতে আমরা দেখেছি মাসের পর মাস কমিটি আর আশ্বাস। আজ আমরা দেখছি ঘড়ি ধরে উন্নয়ন। এই ৭ ও ১৪ দিনের পরিসংখ্যান এখন সচিবালয়ের প্রতিটি ফাইলে লাল কালিতে লেখা থাকবে।
আমার শিকড়, আমার গর্ব: বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে এক চিঠি : আমি ছোটবেলা থেকে শুনেছি শহীদ জিয়ার ছেঁড়া গেঞ্জি পরে রাষ্ট্র চালানোর গল্প, দেখেছি আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৯ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম ও কারাভোগের দিনগুলো। আমার পরিবারের ড্রয়িংরুমে শহীদ জিয়ার ছবি আর খালেদা জিয়ার বক্তৃতা ছিল নিত্যদিনের প্রেরণা। আজ যখন দেখি তাদেরই উত্তরসূরি, দেশনায়ক তারেক রহমান ভোর ৯টায় হাসপাতালের করিডোরে হাঁটছেন, শিক্ষার্থীদের সাথে গাছ লাগানোর কথা বলছেন, তখন মনে হয় আমার শৈশবের সেই গল্পগুলো আজ বাস্তব হয়ে ফিরে এসেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার এই কাজগুলো অত্যন্ত পছন্দ করি এবং আমার বিশ্বাস, এই দেশের ১৭ কোটি সাধারণ মানুষও করেন।
শহীদ জিয়া থেকে তারেক রহমান: রক্তের ধারায় সততা :
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান – যিনি নিজের সততা দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন, ক্ষমতা মানে ভোগ নয়, ক্ষমতা মানে সেবা। যিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে একটি জাতিকে আত্মপরিচয় দিয়েছেন। তার আদর্শই ছিল খাল খনন কর্মসূচির মতো নিজে কোদাল হাতে মাঠে নামা। তারেক রহমান সেই আদর্শেরই জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তিনি যখন বলেন, ফুটপাত পরিষ্কার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, তখন আমরা শহীদ জিয়ার সেই কোদালের শব্দই শুনতে পাই। ১৯৭৭ থেকে ২০২৬ – প্রায় ৫০ বছর পর সেই একই সততার ধারা ফিরে এসেছে গণভবন থেকে রাজপথে।
আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া: মায়ের ছায়া :
আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা হারিয়েছি, কিন্তু তার আপসহীনতা হারাইনি। তিনি শিখিয়েছিলেন, জনগণের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। তারেক রহমানের এই ঝটিকা অভিযানে আমরা সেই মায়ের শিক্ষাই দেখি – কোনো প্রটোকল, কোনো লাল গালিচা তাকে আটকাতে পারেনি। তিনি সরাসরি চলে গেছেন অপরিচ্ছন্ন কোয়ার্টারে, কারণ সেখানে তার মায়ের মতোই সাধারণ মানুষ থাকেন। মা যেমন গণতন্ত্রের জন্য ৫ বছরের বেশি কারাবরণ করেছেন, ছেলে তেমনি মানুষের জন্য আরামের জীবন ছেড়ে সকাল ৯টায় রাস্তায় নেমেছেন। এই মা-ছেলের বন্ধনই আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি।
ডা. জোবাইদা ও জাইমা: নীরব শক্তির পরিবার – যেখানে সেবা ও মেধার মিলন : একজন সফল নেতার পেছনে থাকে একটি শক্তিশালী পরিবার, আর দেশনায়ক তারেক রহমানের পেছনে রয়েছে এমনই এক আলোকিত পরিবার। ডা. জোবাইদা রহমান – যিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান করেন, পরবর্তীতে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে মেডিসিনে পড়াশোনা করেন এবং রেকর্ড নম্বর ও স্বর্ণপদকসহ এমএসসি সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে তিনি একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। তার মানবিক, শিক্ষিত ও মার্জিত উপস্থিতি আজকের পরিচ্ছন্ন হাসপাতালের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
আর ব্যারিস্টার জাইমা রহমান – নতুন প্রজন্মের গর্ব। তিনি যুক্তরাজ্যে Bar-at-Law সম্পন্ন করেছেন, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে Inner Temple এর মাধ্যমে যোগ্য ব্যারিস্টার এবং বাংলাদেশেও আইন পেশার যোগ্যতা সম্পন্ন করছেন। সম্প্রতি তিনি নিজ যোগ্যতায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন – জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, যা একটি স্বাধীন জাতিসংঘ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। যেখানে ৪০ জন কর্মীর মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। এই পরিবার কখনো ক্ষমতার প্রদর্শনী করেন না, কিন্তু তাদের রুচি, শিক্ষা ও দেশপ্রেম এই সরকারের প্রতিটি কাজে প্রতিফলিত হয়। একটি পরিচ্ছন্ন হাসপাতালের স্বপ্ন একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মা এবং জাতিসংঘে কর্মরত আইনজ্ঞ কন্যার পরিবারই সবচেয়ে ভালো বোঝেন। প্রধানমন্ত্রী যখন শিশু হাসপাতালে ধূমপানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন, তখন তার পাশে থাকা একজন ডাক্তার স্ত্রীর নীরব প্রেরণাই কাজ করে, আর যখন তিনি আইনের শাসনের কথা বলেন, তখন কন্যার আন্তর্জাতিক অর্জনই তার কথাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
ঢাকা থেকে গ্রাম: আমার অনুরোধ, মফস্বলেও এই আলো জ্বলুক : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশনায়ক, আপনার কাছে একজন বিএনপি পরিবারের মেয়ে হিসেবে আমার একটি আকুল আবেদন। ঢাকার ১৩ স্পট আজ আলোকিত হয়েছে, কিন্তু আমার গ্রাম? আমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স? আমার ইউনিয়নের স্কুল? সেখানেও একই অপরিচ্ছন্নতা, একই অবহেলা। আমি অনুরোধ করছি, এই ঝটিকা অভিযান যেন মফস্বল তথা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত চালু করা হয়। জেলা প্রশাসক, ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যানরা যেন জানেন, যে কোনো দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তাদের দরজায় হাজির হতে পারেন। ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৪,৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে যদি এই বার্তা যায়, তাহলেই সারা বাংলাদেশ বদলে যাবে। ঢাকা বদলালে হবে না, বাংলাদেশ বদলাতে হবে।
টক অব দ্য সিটি: ২০১১ থেকে ২০২৬ – ১৪ বছরের সাহস :
২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন বিলুপ্ত করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছিল নাগরিক সুবিধা বাড়াতে। কিন্তু ভোটের ভয়ে কেউ ফুটপাত হকারমুক্ত করার সাহস দেখায়নি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ক্ষমতাসীন দল ভোটে নেতিবাচক প্রভাব উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ ফার্মগেট, গ্রিন রোড, পান্থপথ, আগারগাঁও, রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, মিরপুর-২, ১০, ১৪, শ্যামলী-শিয়া মসজিদ রিং রোড, তেজগাঁও, ইসলামবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় যৌথ অভিযানে ৫০টি অবৈধ স্থাপনা ও প্রায় ১০০ টন বর্জ্য উচ্ছেদ, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, গোলাপ শাহ মাজার এলাকা, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার, পল্টন, এলিফ্যান্ট রোড, মগবাজার, ঢাকা মেডিকেল ও সেগুনবাগিচা – সর্বত্র উচ্ছেদ অভিযান চলছে। এই পরিসংখ্যান আজ মানুষের মুখে মুখে, এটাই এখন টক অব দ্য সিটি।
ব্যবসায়ী ও পথচারীর হাসি: উন্নয়নের আসল পরিসংখ্যান :
সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বড় হলো মানুষের হাসি। শাহ আলী প্লাজার বিক্রেতা শাহাদাত খন্দকার জানিয়েছেন, উচ্ছেদের পর রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছে, আগে যারা বাইরের ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করতেন তারা এখন মার্কেটে আসছেন, ফলে তাদের বেচাকেনা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। মিরপুরের ৩০ বছরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেছেন, একসময় এই রাস্তা খোলামেলা ছিল, মাঝখানে ফুটপাত হাঁটার যোগ্য ছিল না, এখন রাস্তাঘাট কত পরিচ্ছন্ন। চালকরা বলছেন, আগে মিরপুর-১০ থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যেতে ৪৫ মিনিট লাগতো, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর এখন ১০ মিনিটেই পার হচ্ছেন। এই সময় বাঁচা, এই স্বস্তিই হলো উন্নয়নের আসল জিডিপি।
ডেঙ্গু, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতা: এক সুতোয় গাঁথা : এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিন দেখা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ডেঙ্গু মশা যেখানে জন্মায়, সেখানেই দুর্নীতি জন্মায় – অপরিচ্ছন্নতায়। প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, মশা মারতে শুধু ওষুধ ছিটালে হবে না, মন মানসিকতার ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। তিনি হাসপাতালের ড্রেন, কলেজের আঙিনা, কোয়ার্টারের বর্জ্য – সবকিছু নিজে দেখেছেন। তার এই দর্শন আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশংসা কুড়াচ্ছে, কারণ তিনি রোগের উপসর্গ নয়, রোগের উৎসে হাত দিয়েছেন।
নিজের স্কুলে ফেরা: রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে আবেগ : ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে তার বক্তব্য ছিল সবচেয়ে আবেগঘন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, বিশেষ করে বেশি বেশি গাছ লাগানো ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। একজন প্রধানমন্ত্রী যখন নিজের শৈশবের মাঠে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গাছ লাগাতে বলেন, তখন সেটি নির্দেশ থাকে না, সেটি হয়ে যায় পিতার উপদেশ। এই কলেজের ৬০ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী এভাবে আকস্মিকভাবে এসে ছাত্রদের সাথে মাটিতে বসে কথা বলেননি।
দুই প্রশাসকের প্রশংসা: শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও আবদুস সালাম : প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে নিয়ে নিজেরাই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নগরবাসীর সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফুটপাত উদ্ধারের কর্মসূচি চলমান থাকবে, কারও ইন্ধনে ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আবদুস সালাম সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন ফুটপাতের দেয়ালে আগে থাকা জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ ১০ গুণীর পাশে নতুন করে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ও জীবনানন্দ দাশের প্রতিকৃতি যুক্ত করেছেন। ফুটপাত সংস্কার করে ডাস্টবিন ও বেঞ্চ বসানো হয়েছে। তারা দুজনই আজ প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন, কারণ তারা নেতার আদেশকে মাঠে বাস্তবায়ন করেছেন।
বিশ্ব দরবারে নতুন বাংলাদেশ: জাপান সফর ও কূটনীতি :
দেশের ভেতরে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাইরেও তিনি বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ অক্টোবর জাপানে চার দিনের সরকারি সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির আমন্ত্রণে। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া, চীন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়েছেন। সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরও প্রস্তুতি পর্যায়ে। এটি প্রমাণ করে, তিনি কেবল ঢাকার ফুটপাত নয়, বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের ফুটপ্রিন্টও পরিষ্কার করছেন।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ: তরুণদের জন্য অঙ্গীকার :
আজকের তরুণ সমাজ মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার মতোই দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লাকে মাদকমুক্ত করার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা এই ১৩ স্পট অভিযানেরই সম্প্রসারণ। যে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ধূমপান সহ্য করেন না, তিনি কীভাবে দেশের যুবকদের মাদক সেবন সহ্য করবেন? তার এই কঠোরতা আসলে ভালোবাসা – সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা।
অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: ১৭ ফেব্রুয়ারির শপথ :
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার সরকার ৫ অক্টোবর বিশ্ব বাসস্থান দিবসে নিরাপদ ও টেকসই আবাসনের ঘোষণা দিয়েছে। এই ৮ মাসে তিনি প্রমাণ করেছেন, দুর্নীতি কোনো নিয়তি নয়, এটি একটি অভ্যাস, যা বদলানো যায়। ৭ দিন ও ১৪ দিনের সময়সীমা আসলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘড়ি বেঁধে দেওয়া।
ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ঢাকা: শুধু স্লোগান নয়, দর্শন : ডিএসসিসি প্রশাসক বলেছেন, রাজধানীকে ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, নাগরিকেরও দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর এই দর্শনই আজ ঢাকাকে বদলে দিচ্ছে। ফুটপাতের পাশে ডাস্টবিন, বেঞ্চ, দেয়ালে গুণীজনদের ছবি – এটি কেবল সৌন্দর্যবর্ধন নয়, এটি নাগরিকের মনে রুচি তৈরি করা। একটি জাতির রুচি যখন বদলায়, তখন দেশ বদলায়।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের দৃষ্টিতে তারেক রহমানের ১৩ স্পট অভিযান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, ইউট্যাবের মহাসচিব ও সাদা দলের আহ্বায়ক, বিএনপির কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান এর দৃষ্টিতে “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পট আকস্মিক পরিদর্শন বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দেখেছি, কীভাবে ফুটপাত দখল, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা এবং সরকারি কোয়ার্টারের অব্যবস্থাপনা আমাদের নাগরিক জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পর ১৪ বছরেও যে সাহস কেউ দেখাতে পারেনি, মাত্র আট মাসে দেশনায়ক তারেক রহমান তা করে দেখিয়েছেন। শিশু হাসপাতালে একজন চিকিৎসককে ধূমপানরত অবস্থায় পেয়ে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত, কুয়েত-বাংলাদেশ হাসপাতালে ৭ দিন এবং আজিমপুর কোয়ার্টারে ১৪ দিনের আলটিমেটাম – এটি হলো Time-bound Governance এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এটি কোনো প্রতিহিংসা নয়, এটি জবাবদিহিতা।
আমি মনে করি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির মতো নিজে কোদাল হাতে মাঠে নামার যে দর্শন, আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার যে আপসহীনতা – তারই প্রতিফলন আজ তারেক রহমানের মধ্যে দেখছি। ডা. জোবাইদা রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের মতো উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সমর্থন তাকে আরও মানবিক করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মাদকমুক্ত, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে বিশ্বের মডেল দেশে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।”
পরিশেষে, আমরা বিশ্বাস করি, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ মাদকমুক্ত, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবে। ২৬ অক্টোবর জাপান সফর থেকে শুরু করে বিশ্ব দরবারে আপনার যে কূটনৈতিক যাত্রা, তা প্রমাণ করে আপনি কেবল ঢাকার ফুটপাত নয়, বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের ফুটপ্রিন্টও পরিষ্কার করছেন। ৫ অক্টোবর বিশ্ব বাসস্থান দিবসে আপনার নিরাপদ আবাসনের ঘোষণা থেকে শুরু করে ডেঙ্গু মোকাবেলায় মাঠ পরিদর্শন – সবকিছুতেই আমরা দেখি একজন রাষ্ট্রনায়ককে, একজন পিতাকে। ইনশাআল্লাহ, শহীদ জিয়ার সততা, খালেদা জিয়ার আপসহীনতা, জোবাইদা-জাইমার মেধা ও তারেক রহমানের সাহস – এই চতুর্ভুজের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বের মডেল দেশে পরিণত হবে। সেদিন ইতিহাসের বইয়ে লেখা থাকবে – ২০২৬ সালের অক্টোবরে একজন প্রধানমন্ত্রী হেঁটেছিলেন, আর তার পেছনে হেঁটেছিল ১৭ কোটি মানুষ। সেই হাঁটা থামবে না। হে দেশনায়ক, আপনি এগিয়ে চলুন, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে এই আলো ছড়িয়ে দিন। আমরা, আপনার পাশে আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। মহান আল্লাহ আপনার সহায় হোন, আমিন।
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক,  সাংবাদিক ও কলামিস্ট