আকাশ নিউজ ডেস্ক:
অসীম শূন্যতায় যেখানে বাতাস নেই, নেই পৃথিবীর চেনা মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, ঠিক সেখানেই উঁকি দিচ্ছে সবুজ প্রাণের স্পন্দন! অবিশ্বাস্য মনে হলেও সেখানে লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে লাল রাশিয়ান কেল ও ওয়াসাবি সরিষার ছোট চারা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ছোট্ট চারাগুলোই মানবজাতির ভবিষ্যৎ পাল্টে দেওয়ার চাবিকাঠি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থানরত মহাকাশচারীরা অভাবনীয় এই মাইলফলকটি অর্জন করেছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানান, স্টেশনের ভেতরে কোনো নির্দিষ্ট উদ্ভিদ গবেষণাগারের বদলে বিভিন্ন জায়গায় চারাগুলো বেড়ে উঠছে। গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মূলত ভিন্ন পরিবেশে উদ্ভিদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
ভবিষ্যতে চাঁদ কিংবা মঙ্গলে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের ক্ষেত্রে মহাকাশচারীদের টিকে থাকার জন্য টেকসই খাদ্যের উৎস প্রয়োজন। একইসঙ্গে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রাকৃতিক ব্যবস্থাও অত্যন্ত জরুরি। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ছাড়াই দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে চারা গজানোর এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের মহাকাশভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে নিয়েছে। আইএসএস বলছে, ভবিষ্যতের মিশনে তাজা ও পুষ্টিকর খাবার জন্মানোর পথ প্রশস্ত করবে এই গবেষণা।
এদিকে, রোমাঞ্চকর এই খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ সাড়া ফেলেছে। বিস্ময় প্রকাশ করে অনেকেই মন্তব্যের ঘরে প্রশ্ন রাখছেন। একজন ব্যবহারকারী মজা করে লিখেছেন, আমার বারান্দার গাছগুলো বাঁচতেই সংগ্রাম করছে! আরেকজনের মন্তব্য, মহাকাশচারীদের উদ্ভিদ জন্মানোর দৃশ্যটি চমৎকার! অ্যাস্ট্রোবোটানির জন্য এটি বড় সুখবর। চারাগুলো এভাবেই সুন্দরভাবে বেড়ে উঠুক।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















