ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল বেইজিং

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে চীন। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সময়ে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফের যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইরান।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে আলোচনায় ওয়াং ই স্পষ্টভাবে জানান, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনের একমাত্র পথ হলো সংলাপ। তিনি ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি চীনের অটল সমর্থনের কথা জানিয়ে এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিকে দায়ী করেন। বেইজিংয়ে আল জাজিরার প্রতিনিধি ক্যাটরিনা ইউ জানিয়েছেন, ইরানের তেল আমদানির প্রধান অংশীদার হওয়ার পরও চীন এতদিন কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতায় তারা এখন নতুন উদ্যমে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরছে। এর ধারাবাহিকতায় চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন শিগগিরই ইরান, সৌদি আরব ও ওমান সফর করবেন। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি এই সংঘাত শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। বেইজিং থেকে আল জাজিরার ক্যাটরিনা ইউ জানান, তেহরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি চীনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কিছু সময় স্থবির ছিল।

ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের চীন সফরটি ঐতিহাসিক। ১৯৭৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরুর পর ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান প্রথমবারের মতো চীন সফর করলেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ সময় মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলকে কখনোই পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা হতে দেওয়া উচিত নয়।

কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে প্রবাহিত হতো, যা বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় ব্যাহত হচ্ছে। ওমানের বন্দরগুলো হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশটির গুরুত্ব উভয় পক্ষের কাছেই এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এই সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও সরবরাহ চেইনসহ মোট ১৪টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির অপর পাশে অবস্থিত ওমান কৌশলগত এই জলপথে নৌপথ নিরাপত্তার জন্য একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে, যা দিয়ে ইউএস-ইরান সংঘাতের কারণে চলাচল সীমিত হওয়ার আগে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রবাহিত হতো।

উভয় দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচল পুনরায় শুরুর জোর দাবি জানিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বেইজিং জানিয়েছে, এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাত ও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানি হামলায় সৃষ্ট শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে। ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের। তবে বেইজিং চলমান প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে চায় এবং অগ্রগতির অভাবে তারা ক্রমশ অধৈর্য হয়ে উঠছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মরিশাসে ভারী কাচের বাক্সের নিচে চাপা পড়ে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল বেইজিং

আপডেট সময় ০১:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে চীন। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সময়ে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফের যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইরান।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে আলোচনায় ওয়াং ই স্পষ্টভাবে জানান, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনের একমাত্র পথ হলো সংলাপ। তিনি ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি চীনের অটল সমর্থনের কথা জানিয়ে এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিকে দায়ী করেন। বেইজিংয়ে আল জাজিরার প্রতিনিধি ক্যাটরিনা ইউ জানিয়েছেন, ইরানের তেল আমদানির প্রধান অংশীদার হওয়ার পরও চীন এতদিন কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতায় তারা এখন নতুন উদ্যমে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরছে। এর ধারাবাহিকতায় চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন শিগগিরই ইরান, সৌদি আরব ও ওমান সফর করবেন। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি এই সংঘাত শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। বেইজিং থেকে আল জাজিরার ক্যাটরিনা ইউ জানান, তেহরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি চীনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কিছু সময় স্থবির ছিল।

ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের চীন সফরটি ঐতিহাসিক। ১৯৭৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরুর পর ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান প্রথমবারের মতো চীন সফর করলেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ সময় মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলকে কখনোই পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা হতে দেওয়া উচিত নয়।

কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে প্রবাহিত হতো, যা বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় ব্যাহত হচ্ছে। ওমানের বন্দরগুলো হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশটির গুরুত্ব উভয় পক্ষের কাছেই এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এই সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও সরবরাহ চেইনসহ মোট ১৪টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির অপর পাশে অবস্থিত ওমান কৌশলগত এই জলপথে নৌপথ নিরাপত্তার জন্য একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে, যা দিয়ে ইউএস-ইরান সংঘাতের কারণে চলাচল সীমিত হওয়ার আগে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রবাহিত হতো।

উভয় দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচল পুনরায় শুরুর জোর দাবি জানিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বেইজিং জানিয়েছে, এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাত ও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানি হামলায় সৃষ্ট শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে। ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের। তবে বেইজিং চলমান প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে চায় এবং অগ্রগতির অভাবে তারা ক্রমশ অধৈর্য হয়ে উঠছে।