বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সম্পন্ন হয়েছে ১৮ দিনব্যাপী সেলাই বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ স্থানীয় ৩০ জন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের নতুন পথ তৈরি করে দিয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা সেলাইয়ের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও কৌশল হাতে-কলমে আয়ত্ত করেছেন, যা তাদের ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার সাহস জোগাচ্ছে। প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৮ দিনের এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সেলাইয়ের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় প্রশিক্ষক মো. আহসান আল মামুনকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগ কেবল একটি সনদপত্র অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বাস্তব জীবনে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো, এই সনদপত্র ব্যবহার করে তারা সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের সুবিধা পাবেন। ঋণের টাকা কাজে লাগিয়ে তারা বাড়িতেই নিজস্ব সেলাই সরঞ্জাম কিনতে পারবেন এবং আয় বাড়াতে সক্ষম হবেন। এলাকার মানুষের পোশাক তৈরির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ঘরে বসেই নারীরা নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একসময় যারা ছিলেন বেকার, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারাই হয়ে উঠতে পারেন স্বাবলম্বী। এতে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।
চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতায় না গিয়ে কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমানে অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফল হলে তা বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। যথাযথ ঋণ সুবিধা ও অর্জিত দক্ষতার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর জীবনে নতুন দিনের সূচনা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সেই বিবেচনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বেকারত্ব নিরসন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























