খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জুন মাসে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি বলেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় সমানে দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’।
একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার গঠনে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইনজীবী হওয়ার স্বপ্নের পাশাপাশি সৃজনশীল চর্চাও অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব
প্রধানমন্ত্রী আগত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের প্রকৃত মালিক।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং শিল্প-সংস্কৃতির সমন্বয়েই কেবল বিশ্বে বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রমাণ করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আজকের শিশুরা যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। তিনি শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট।’ তিনি বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তারেক রহমান বলেন, একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। তখন অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দিতে হবে না; বরং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিস্তারিত
- এবারের প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে।
- দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুরা এতে অংশগ্রহণ করছে।
- আগের আটটি ইভেন্টের সাথে নতুন করে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হয়ে মোট ১০টি ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
- ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত ২ মে সিলেটে এই আয়োজনের প্রথম আসর যাত্রা শুরু করেছিল।
সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার শিশুদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে তারা নির্বিঘ্নে সৃজনশীল চর্চা চালিয়ে যেতে পারবে। তিনি তৃতীয় ভাষা হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্যে একটি শেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কোনো জাতিই আর বাংলাদেশের সন্তানদের আটকে রাখতে পারবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে। এ সময় স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আনুষ্ঠানিকতা
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের নান্দনিক নাচ ও গান প্রধানমন্ত্রী মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন।
এছাড়া চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্স অনুষ্ঠানটিকে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছে এগিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। তাকে কাছে পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে হাজারো শিশু। এসময় করতালি ও হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। এর আগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে তিনি আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং অনলাইনে ৫০৩টি উপজেলায় প্রতিযোগিতার সূচনা করেন।
পরিদর্শন শেষে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নানা পর্ব শেষ করে প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে যান এবং সেখানে সমবেত সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এদিন বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূলে প্রতিভা অন্বেষণের পাশাপাশি মেধাবী খেলোয়াড় ও সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























