ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ৮ হাজার কোটির চুক্তি

ভারতীয় বিমানবাহিনীর আকাশপথে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান পরিচালনা এবং যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যকর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন ছয়টি জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ সংগ্রহের বড় পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লি। এই লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে দেশটি। প্রস্তাবিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার আওতায় ছয়টি ব্যবহৃত বোয়িং ৭৬৭ মডেলের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ কেনা হবে। পরবর্তীতে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের প্রযুক্তিগত সহায়তায় সেগুলোকে আকাশে জ্বালানি ভরার উপযোগী ট্যাঙ্কার উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বিমানবাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ কাজে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ।

প্রকল্পটির একটি বড় অংশ ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ দেশটির ভেতরেই সম্পন্ন হবে। এক্ষেত্রে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উড়োজাহাজের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, কাঠামোগত পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার কাজ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতার ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে ভারতের বিমানবাহিনীর বহরে রাশিয়ায় তৈরি ছয়টি ইলিউশিন আইএল-৭৮ জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ২০০৩ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের কারণে উড়োজাহাজগুলোর বয়স বেড়ে যাওয়ায় এখন এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি। এছাড়া বিমানবাহিনীর বর্তমান চাহিদার তুলনায় বিদ্যমান ট্যাঙ্কার উড়োজাহাজের সংখ্যাও অপ্রতুল। ২০০৩ সালে প্রথম এই মডেলের উড়োজাহাজ বিমানবাহিনীতে যুক্ত করা হয়।

আকাশে জ্বালানি ভরার সুবিধা থাকলে যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানির জন্য বারবার ঘাঁটিতে ফিরে আসতে হয় না। উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি গ্রহণের মাধ্যমে যুদ্ধবিমানগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে সক্রিয় থাকতে পারে, যা দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে। তবে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ ক্রয় ও সেগুলোকে রূপান্তরের পুরো পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন মূলত সংশ্লিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। সফল হলে এটি ভারতের পুরনো জ্বালানি সরবরাহকারী বহরের একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী: শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ৮ হাজার কোটির চুক্তি

আপডেট সময় ০৮:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ভারতীয় বিমানবাহিনীর আকাশপথে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান পরিচালনা এবং যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যকর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন ছয়টি জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ সংগ্রহের বড় পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লি। এই লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে দেশটি। প্রস্তাবিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার আওতায় ছয়টি ব্যবহৃত বোয়িং ৭৬৭ মডেলের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ কেনা হবে। পরবর্তীতে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের প্রযুক্তিগত সহায়তায় সেগুলোকে আকাশে জ্বালানি ভরার উপযোগী ট্যাঙ্কার উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বিমানবাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ কাজে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ।

প্রকল্পটির একটি বড় অংশ ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ দেশটির ভেতরেই সম্পন্ন হবে। এক্ষেত্রে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উড়োজাহাজের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, কাঠামোগত পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার কাজ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতার ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে ভারতের বিমানবাহিনীর বহরে রাশিয়ায় তৈরি ছয়টি ইলিউশিন আইএল-৭৮ জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ২০০৩ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের কারণে উড়োজাহাজগুলোর বয়স বেড়ে যাওয়ায় এখন এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি। এছাড়া বিমানবাহিনীর বর্তমান চাহিদার তুলনায় বিদ্যমান ট্যাঙ্কার উড়োজাহাজের সংখ্যাও অপ্রতুল। ২০০৩ সালে প্রথম এই মডেলের উড়োজাহাজ বিমানবাহিনীতে যুক্ত করা হয়।

আকাশে জ্বালানি ভরার সুবিধা থাকলে যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানির জন্য বারবার ঘাঁটিতে ফিরে আসতে হয় না। উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি গ্রহণের মাধ্যমে যুদ্ধবিমানগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে সক্রিয় থাকতে পারে, যা দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে। তবে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ ক্রয় ও সেগুলোকে রূপান্তরের পুরো পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন মূলত সংশ্লিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। সফল হলে এটি ভারতের পুরনো জ্বালানি সরবরাহকারী বহরের একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।