পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কাতার উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রক্ষেপকের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি বা নাবিকদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, পৃথক ঘটনায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে অনুমোদনহীন জলপথ ব্যবহারের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি উদ্ধারকারী টাগবোটে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইউকেএমটিও জানিয়েছে, কাতারের উপকূলে অজ্ঞাত প্রক্ষেপকের (ড্রোন অথবা মিসাইল) আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ওই ট্যাংকারের ক্রুদের বর্তমান অবস্থা কিংবা জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ অংশে একটি ট্যাংকার মাইন বিস্ফোরণের মুখে পড়ে।
এছাড়া প্রণালীর পূর্বাঞ্চল দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য একটি সুপারট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। এই আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত একটি টাগবোটও পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং কূটনৈতিক সংলাপ চলছে, ঠিক সেই সময়েই এই হামলার ঘটনাগুলো সামনে এল। গত মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই খসড়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিরসনে কাতার যখন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, ঠিক তখনই এই নতুন হামলার খবর এলো।
এর আগে গত রোববার কাতারের রাষ্ট্রীয় এলএনজি পরিবহন সংস্থা ‘নাকিলাত’ একটি বিবৃতিতে জানায়, তাদের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’ গত ৩০ অক্টোবর পারস্য উপসাগর অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংস্থাটি জানায়, ওই ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হননি এবং পরিবেশগত কোনো বড় ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে জাহাজটি নিরাপদ ও সচল থাকলেও এর আঘাতের গভীরতা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। পুরো অঞ্চলজুড়ে একের পর এক এ ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নৌপথে আতঙ্ক বাড়ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















