ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: রংপুরের ক্রীড়া অবকাঠামো আধুনিকায়ন হবে

রংপুর জেলা স্টেডিয়ামসহ সারা দেশের জেলা স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়ামগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রংপুর জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্যের কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ প্রস্তুত করার পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ক্রীড়া চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে দাঁড় করানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে বিভিন্ন সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলার স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য সরকার ইতিমধ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে প্রাথমিক বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় রংপুর জেলা স্টেডিয়ামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আটটি বিভাগে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে ইনডোর সুবিধা ও সুইমিং পুলসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। তবে এসব কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্স ও গ্যালারির আধুনিকায়নে প্রকল্প পরিচালক ও প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।

নগরীতে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর একটি ক্রীড়াপ্রেমী শহর। এখান থেকে বহু খেলোয়াড় উঠে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। তবে নতুন বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ার আগে বিদ্যমান অবকাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন বিবেচনা করে বিভাগীয় স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা করা হবে।

তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে তিন থেকে আট বিঘা পর্যন্ত খাসজমি চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে সব বয়সী মানুষ বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণরা খেলার সুযোগ পায়।

এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রথম আসরে অংশ নেওয়া ৩১০ জন ক্রীড়াবিদের মধ্য থেকে বাছাই করা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে তারা উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত পড়ালেখার পাশাপাশি পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেজেকে সুলতানা ফেন্সি, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সামছুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুল আলম নাজুসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিডিআর বিদ্রোহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বনানী থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: রংপুরের ক্রীড়া অবকাঠামো আধুনিকায়ন হবে

আপডেট সময় ১০:২৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

রংপুর জেলা স্টেডিয়ামসহ সারা দেশের জেলা স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়ামগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রংপুর জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্যের কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ প্রস্তুত করার পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ক্রীড়া চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে দাঁড় করানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে বিভিন্ন সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলার স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য সরকার ইতিমধ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে প্রাথমিক বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় রংপুর জেলা স্টেডিয়ামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আটটি বিভাগে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে ইনডোর সুবিধা ও সুইমিং পুলসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। তবে এসব কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্স ও গ্যালারির আধুনিকায়নে প্রকল্প পরিচালক ও প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।

নগরীতে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর একটি ক্রীড়াপ্রেমী শহর। এখান থেকে বহু খেলোয়াড় উঠে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। তবে নতুন বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ার আগে বিদ্যমান অবকাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন বিবেচনা করে বিভাগীয় স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা করা হবে।

তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে তিন থেকে আট বিঘা পর্যন্ত খাসজমি চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে সব বয়সী মানুষ বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণরা খেলার সুযোগ পায়।

এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রথম আসরে অংশ নেওয়া ৩১০ জন ক্রীড়াবিদের মধ্য থেকে বাছাই করা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে তারা উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত পড়ালেখার পাশাপাশি পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেজেকে সুলতানা ফেন্সি, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সামছুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুল আলম নাজুসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা।