ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সংসার সামলে ১৪ বছর পর এইচএসসি পাস করে জিপিএ-৫ পেলেন রীতি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী গৃহবধূ রীতি খাতুন অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। বিয়ের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে থাকলেও নিজের অদম্য জেদ ও স্বামীর অনুপ্রেরণায় তিনি আবারও বই হাতে তুলে নেন। কঠোর পরিশ্রম আর সংসারের নানা দায়িত্ব সামলে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। এ জন্য নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।

রীতি খাতুন ক্ষেতলালের নসিরপুর গ্রামের আবদুল আলিম মণ্ডলের স্ত্রী। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। রীতির শিক্ষাজীবনের এই নতুন অধ্যায় তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে।

স্মৃতিচারণ করে রীতি জানান, ২০১০ সালে মোলামগাড়িহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। এরপর সংসার ও সন্তানের ব্যস্ততায় পড়াশোনার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তবে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার স্বপ্ন তাঁর মনে সবসময়ই ছিল। সব বাধা কাটিয়ে ২০২৪ সালে তিনি পুনরায় কলেজে ভর্তি হন। দীর্ঘ বিরতির পর পড়াশোনায় ফিরতে গিয়ে প্রতিবেশীদের অনেক উপহাস শুনতে হলেও তিনি দমে যাননি। পরের বছর বিয়ে হওয়ায় ছেদ পড়ে পড়াশোনায়। সংসার সামলাতে গিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। তাঁর অধ্যবসায় অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে থাকবে।

রীতি বলেন, স্বামী আবদুল আলিমের পূর্ণ সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা না থাকলে এই বয়সে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতো। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ তাঁকে ভালো ফলাফলের পথে এগিয়ে দিয়েছে। রীতির পড়াশোনার প্রতি তীব্র আগ্রহ দেখেই তাঁর স্বামী তাঁকে কলেজে ভর্তি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। স্ত্রীর এই সাফল্যে গর্বিত আবদুল আলিম মণ্ডল জানান, তাঁদের পুরো পরিবার রীতির এই অর্জনে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, স্ত্রীর এই ফলে পরিবারের সবাই খুব খুশি। ভালো ফলের পেছনে শিক্ষকদের অবদান আছে।

ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম রীতির এই সাফল্যকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংসারের সব দায়িত্ব পালন করেও এমন দুর্দান্ত ফলাফল করা রীতির অসীম ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের প্রমাণ দেয়, যা সমাজের অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসার সামলে ১৪ বছর পর এইচএসসি পাস করে জিপিএ-৫ পেলেন রীতি

আপডেট সময় ০৯:৫৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী গৃহবধূ রীতি খাতুন অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। বিয়ের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে থাকলেও নিজের অদম্য জেদ ও স্বামীর অনুপ্রেরণায় তিনি আবারও বই হাতে তুলে নেন। কঠোর পরিশ্রম আর সংসারের নানা দায়িত্ব সামলে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। এ জন্য নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।

রীতি খাতুন ক্ষেতলালের নসিরপুর গ্রামের আবদুল আলিম মণ্ডলের স্ত্রী। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। রীতির শিক্ষাজীবনের এই নতুন অধ্যায় তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে।

স্মৃতিচারণ করে রীতি জানান, ২০১০ সালে মোলামগাড়িহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। এরপর সংসার ও সন্তানের ব্যস্ততায় পড়াশোনার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তবে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার স্বপ্ন তাঁর মনে সবসময়ই ছিল। সব বাধা কাটিয়ে ২০২৪ সালে তিনি পুনরায় কলেজে ভর্তি হন। দীর্ঘ বিরতির পর পড়াশোনায় ফিরতে গিয়ে প্রতিবেশীদের অনেক উপহাস শুনতে হলেও তিনি দমে যাননি। পরের বছর বিয়ে হওয়ায় ছেদ পড়ে পড়াশোনায়। সংসার সামলাতে গিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। তাঁর অধ্যবসায় অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে থাকবে।

রীতি বলেন, স্বামী আবদুল আলিমের পূর্ণ সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা না থাকলে এই বয়সে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতো। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ তাঁকে ভালো ফলাফলের পথে এগিয়ে দিয়েছে। রীতির পড়াশোনার প্রতি তীব্র আগ্রহ দেখেই তাঁর স্বামী তাঁকে কলেজে ভর্তি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। স্ত্রীর এই সাফল্যে গর্বিত আবদুল আলিম মণ্ডল জানান, তাঁদের পুরো পরিবার রীতির এই অর্জনে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, স্ত্রীর এই ফলে পরিবারের সবাই খুব খুশি। ভালো ফলের পেছনে শিক্ষকদের অবদান আছে।

ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম রীতির এই সাফল্যকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংসারের সব দায়িত্ব পালন করেও এমন দুর্দান্ত ফলাফল করা রীতির অসীম ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের প্রমাণ দেয়, যা সমাজের অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।