পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে সিআইডির পরিচয় ব্যবহার করে একটি সোনার দোকানে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন এস এম মোস্তাক আহমেদ (৬৫), মো. হাসান শেখ (৩৮) এবং মো. আবুল কালাম আজাদ (৫২)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার তাঁতীবাজারের ‘আর্শীবাদ’ নামক সোনার দোকানে আসামিরা জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। তাঁরা নিজেদের সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে দোকানের মালিক লিটন দেবের ছেলে ও ভাইকে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) অবহিত করা হয়। পরে ডিবির কোতোয়ালি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. এনায়েত কবীর সোয়েবের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে। অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি সিআইডি জ্যাকেট, এক জোড়া হাতকড়া এবং সিল মারা একটি পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়। চাঁদা না দিলে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) জানানো হয়।
এই ঘটনায় দোকানের মালিক লিটন দেব বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার এসআই মো. এজাজুল হক আদালতে আসামিদের হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, সিআইডি পরিচয়ে প্রতারণাকারী এই চক্রের মূল উৎস, সহযোগীদের শনাক্তকরণ এবং উদ্ধারকৃত মালামালের উৎস নিশ্চিত করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আদালত রিমান্ডের শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসামিরা সিআইডি ও পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করলেও তাঁদের প্রকৃত পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হবে। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, সিআইডি পরিচয়ে প্রতারণা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় জড়িত চক্রের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন, অন্য সহযোগীদের শনাক্ত এবং সংশ্লিষ্ট মালামাল উদ্ধারের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 














