ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

৫ আগস্টের ঘটনা: এটি কি গণঅভ্যুত্থান নাকি বিপ্লব?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত ঘটনা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি কাটছে না। কেউ একে গণঅভ্যুত্থান বলছেন, আবার কেউ কেউ একে বিপ্লব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই দুই সংজ্ঞার পার্থক্য করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। এই প্রেক্ষাপটে ইতিহাস, তথ্য ও যুক্তির নিরিখে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন যে, সেদিন আসলে কী ঘটেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে কী ঘটেছিল তা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। আবার কেউ কেউ বলেন এটা ছিল বিপ্লব, আবার কেউ কেউ ৫ আগস্টকে গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব—দু’টিতেই অভিহিত করে থাকেন। বক্তৃতা, বিবৃতি ও লেখায় অনেক বিদগ্ধ ব্যক্তিরা পর্যন্ত তালগোল পাকিয়ে ফেলেন।

গণঅভ্যুত্থান হলো সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এবং ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক আন্দোলন, যা মূলত কোনো শাসক বা সরকারের পতন ঘটায়। এতে রাজপথে জনতার ঢল এবং গভীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা, তাৎক্ষণিক অসন্তোষের দ্রুত বিস্তার, বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি প্রতিরোধ এবং যৌথ নেতৃত্ব। গণঅভ্যুত্থানের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে যৌথ সামাজিক পরিচয়, নির্দিষ্ট দাবি বা ইশতেহার, ক্ষোভের বৈধতা এবং কোনো নির্দিষ্ট ট্রিগার পয়েন্ট। মিশরীয় প্রো-ডেমোক্রেসি মুভমেন্টের নেতা ওয়ায়েল ঘনিম যেমন বলেছেন, “ক্ষমতাসীনদের চেয়ে জনগণের শক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী।” আবার মার্কিন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতা অ্যাবি হফম্যানের ভাষায়, “জনগণ যখন রুখে দাঁড়ায়, তখন সরকারকে পিছু হটতে হয়।” সাধারণত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যাপক দুর্নীতি ও অবৈধভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকরা যখন রাজপথে নেমে আসে, তখন তা গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। সহজ কথায় গণঅভ্যুত্থান হলো ক্ষমতা বদলের বিস্ফোরণ। অপরদিকে গণঅভ্যুত্থানের মূল উপাদানসমূহ হলো: যৌথ সামাজিক পরিচয় (Shared Social Identity), নির্দিষ্ট দাবি বা ইশতেহার (যেমন—বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের ১১ দফা), ক্ষোভের বৈধতা, ট্রিগার পয়েন্ট বা অনুঘটক। আমেরিকার সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতা Abbie Hoffman—এর ভাষায় “When the people stand up, the government has to sit down” (অর্থাৎ “জনগণ যখন রুখে দাঁড়ায়, তখন সরকারকে পিছু হটে”। ইতিহাসের পাতায় কয়েকটি গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ: (১) ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান যার ফলে আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং অল্পদিনের মধ‍্যে স্বাধীন “বাংলাদেশ” নামে নতুন এক দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে, (২) ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থান যার ফলে প্রেসিডেন্ট এরশাদের প্রায় এক দশকের স্বৈরশাসনের। 1, 1969, 2, 1990, 3, 2010, 2011.

ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থানের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ রয়েছে

  1. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, যার ফলে আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং অচিরেই স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
  2. ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, যা প্রেসিডেন্ট এরশাদের প্রায় এক দশকের স্বৈরশাসনের ইতি টানে।
  3. ২০১০-২০১১ সালের আরব বসন্ত, যার ফলে তিউনিসিয়া, মিশর ও লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটে।
  4. ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯), যা ফ্রান্সের রাজতন্ত্র ও সামন্তবাদের অবসান ঘটিয়ে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।
  5. রুশ বিপ্লব (১৯১৭), বলশেভিকদের নেতৃত্বে রাশিয়ায় জার শাসনের অবসান ও সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা।
  6. ইরানি বিপ্লব (১৯৭৯), যা ইরানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রে পরিণত করে।
  7. চীন বিপ্লব (১৯১১), সিনহাই বিপ্লবের মাধ্যমে চীনে রাজবংশের অবসান ঘটে।

অন্যদিকে, বিপ্লব হলো সমাজ ব্যবস্থার কাঠামোগত ও মৌলিক পরিবর্তন, যা শুধু সরকার বা শাসক পরিবর্তন করে না, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বদলে দেয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আদর্শ, পরিকল্পনা ও কাঠামোগত রূপান্তর জরুরি। মার্কিন দার্শনিক গ্রেস লি বগসের মতে, “বিপ্লব মানে বিবর্তিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা, কেবল প্রতিবাদ করার আকাঙ্ক্ষা নয়।” এছাড়া চে গুয়েভারার ভাষায়, বিপ্লব এমন কিছু নয় যা পেকে গেলে নিজে থেকে ঝরে পড়ে, একে সচল করতে হয়।

উপরোক্ত ইতিহাস ও তথ্যের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ৫ আগস্ট ছিল মূলত একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান। এতে গণঅভ্যুত্থানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকলেও বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ও কাঠামোগত আমূল পরিবর্তন অনুপস্থিত ছিল। কোনো একক বিপ্লবী সংগঠন বা সুনির্দিষ্ট বিপ্লবী নেতৃত্ব এখানে ছিল না এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ বা সমাজের কাঠামোর কোনো মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়নি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দীর্ঘ স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটলেও এটি ছিল একটি সফল জনঅভ্যুত্থান। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উদ্ভূত এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন দ্রুত সরকার পতনের এক দফায় রূপ নেয়, তখন দল-মত নির্বিশেষে মানুষ রাস্তায় নেমে এসে ক্ষমতার পটপরিবর্তন নিশ্চিত করে। সুতরাং ইতিহাস ও যুক্তির বিচারে একে বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজার সংকট নিরসনে কাতার, জর্ডান ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগ

৫ আগস্টের ঘটনা: এটি কি গণঅভ্যুত্থান নাকি বিপ্লব?

আপডেট সময় ১০:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত ঘটনা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি কাটছে না। কেউ একে গণঅভ্যুত্থান বলছেন, আবার কেউ কেউ একে বিপ্লব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই দুই সংজ্ঞার পার্থক্য করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। এই প্রেক্ষাপটে ইতিহাস, তথ্য ও যুক্তির নিরিখে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন যে, সেদিন আসলে কী ঘটেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে কী ঘটেছিল তা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। আবার কেউ কেউ বলেন এটা ছিল বিপ্লব, আবার কেউ কেউ ৫ আগস্টকে গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব—দু’টিতেই অভিহিত করে থাকেন। বক্তৃতা, বিবৃতি ও লেখায় অনেক বিদগ্ধ ব্যক্তিরা পর্যন্ত তালগোল পাকিয়ে ফেলেন।

গণঅভ্যুত্থান হলো সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এবং ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক আন্দোলন, যা মূলত কোনো শাসক বা সরকারের পতন ঘটায়। এতে রাজপথে জনতার ঢল এবং গভীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা, তাৎক্ষণিক অসন্তোষের দ্রুত বিস্তার, বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি প্রতিরোধ এবং যৌথ নেতৃত্ব। গণঅভ্যুত্থানের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে যৌথ সামাজিক পরিচয়, নির্দিষ্ট দাবি বা ইশতেহার, ক্ষোভের বৈধতা এবং কোনো নির্দিষ্ট ট্রিগার পয়েন্ট। মিশরীয় প্রো-ডেমোক্রেসি মুভমেন্টের নেতা ওয়ায়েল ঘনিম যেমন বলেছেন, “ক্ষমতাসীনদের চেয়ে জনগণের শক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী।” আবার মার্কিন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতা অ্যাবি হফম্যানের ভাষায়, “জনগণ যখন রুখে দাঁড়ায়, তখন সরকারকে পিছু হটতে হয়।” সাধারণত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যাপক দুর্নীতি ও অবৈধভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকরা যখন রাজপথে নেমে আসে, তখন তা গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। সহজ কথায় গণঅভ্যুত্থান হলো ক্ষমতা বদলের বিস্ফোরণ। অপরদিকে গণঅভ্যুত্থানের মূল উপাদানসমূহ হলো: যৌথ সামাজিক পরিচয় (Shared Social Identity), নির্দিষ্ট দাবি বা ইশতেহার (যেমন—বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের ১১ দফা), ক্ষোভের বৈধতা, ট্রিগার পয়েন্ট বা অনুঘটক। আমেরিকার সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতা Abbie Hoffman—এর ভাষায় “When the people stand up, the government has to sit down” (অর্থাৎ “জনগণ যখন রুখে দাঁড়ায়, তখন সরকারকে পিছু হটে”। ইতিহাসের পাতায় কয়েকটি গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ: (১) ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান যার ফলে আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং অল্পদিনের মধ‍্যে স্বাধীন “বাংলাদেশ” নামে নতুন এক দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে, (২) ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থান যার ফলে প্রেসিডেন্ট এরশাদের প্রায় এক দশকের স্বৈরশাসনের। 1, 1969, 2, 1990, 3, 2010, 2011.

ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থানের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ রয়েছে

  1. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, যার ফলে আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং অচিরেই স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
  2. ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, যা প্রেসিডেন্ট এরশাদের প্রায় এক দশকের স্বৈরশাসনের ইতি টানে।
  3. ২০১০-২০১১ সালের আরব বসন্ত, যার ফলে তিউনিসিয়া, মিশর ও লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটে।
  4. ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯), যা ফ্রান্সের রাজতন্ত্র ও সামন্তবাদের অবসান ঘটিয়ে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।
  5. রুশ বিপ্লব (১৯১৭), বলশেভিকদের নেতৃত্বে রাশিয়ায় জার শাসনের অবসান ও সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা।
  6. ইরানি বিপ্লব (১৯৭৯), যা ইরানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রে পরিণত করে।
  7. চীন বিপ্লব (১৯১১), সিনহাই বিপ্লবের মাধ্যমে চীনে রাজবংশের অবসান ঘটে।

অন্যদিকে, বিপ্লব হলো সমাজ ব্যবস্থার কাঠামোগত ও মৌলিক পরিবর্তন, যা শুধু সরকার বা শাসক পরিবর্তন করে না, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বদলে দেয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আদর্শ, পরিকল্পনা ও কাঠামোগত রূপান্তর জরুরি। মার্কিন দার্শনিক গ্রেস লি বগসের মতে, “বিপ্লব মানে বিবর্তিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা, কেবল প্রতিবাদ করার আকাঙ্ক্ষা নয়।” এছাড়া চে গুয়েভারার ভাষায়, বিপ্লব এমন কিছু নয় যা পেকে গেলে নিজে থেকে ঝরে পড়ে, একে সচল করতে হয়।

উপরোক্ত ইতিহাস ও তথ্যের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ৫ আগস্ট ছিল মূলত একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান। এতে গণঅভ্যুত্থানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকলেও বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ও কাঠামোগত আমূল পরিবর্তন অনুপস্থিত ছিল। কোনো একক বিপ্লবী সংগঠন বা সুনির্দিষ্ট বিপ্লবী নেতৃত্ব এখানে ছিল না এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ বা সমাজের কাঠামোর কোনো মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়নি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দীর্ঘ স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটলেও এটি ছিল একটি সফল জনঅভ্যুত্থান। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উদ্ভূত এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন দ্রুত সরকার পতনের এক দফায় রূপ নেয়, তখন দল-মত নির্বিশেষে মানুষ রাস্তায় নেমে এসে ক্ষমতার পটপরিবর্তন নিশ্চিত করে। সুতরাং ইতিহাস ও যুক্তির বিচারে একে বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।