ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু

সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী ও নতুন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’। সংগঠনটির মতে, খসড়া আইনের বিভিন্ন অস্পষ্ট ধারা, বিচারিক তদারকি ছাড়া কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা এবং পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের বিধান স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে তীব্র ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ২০২৬ সালের খসড়া আইনের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে এ শঙ্কার কথা জানায় প্যারিসভিত্তিক এই সংস্থাটি। এতে বলা হয়, আইনের জামিন অযোগ্য অপরাধের কঠোর বিধানের পাশাপাশি ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’ জাতীয় অস্পষ্ট শব্দগুলোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপে বাধ্য হতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কনটেন্ট বন্ধের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বিচারিক অনুমোদন বাতিল করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ব্যাপক এখতিয়ার দেওয়ায় সাইবার দুনিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি বাড়তে পারে। এর ফলে গণমাধ্যমগুলো বাধ্য হয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-সেন্সরশিপের পথ বেছে নেবে, যা সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করবে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংস্থাটি জানায়, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো মাধ্যমে তথ্য ও ধারণা অনুসন্ধান, গ্রহণ ও প্রচারের স্বাধীনতা স্বীকৃত। মতপ্রকাশের ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট আইনভিত্তিক, বৈধ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রয়োজনীয় বা আনুপাতিক হওয়ার শর্ত পূরণ করতে হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক সমালোচনাকে সাইবার অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো অস্পষ্ট বিধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে এই সংস্থা।

বাংলাদেশের সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংগঠনটি সরকারকে সাইবার আইনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার তাগিদ দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্বে বিচারিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা, সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদিতে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের

সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে

আপডেট সময় ১২:০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী ও নতুন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’। সংগঠনটির মতে, খসড়া আইনের বিভিন্ন অস্পষ্ট ধারা, বিচারিক তদারকি ছাড়া কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা এবং পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের বিধান স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে তীব্র ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ২০২৬ সালের খসড়া আইনের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে এ শঙ্কার কথা জানায় প্যারিসভিত্তিক এই সংস্থাটি। এতে বলা হয়, আইনের জামিন অযোগ্য অপরাধের কঠোর বিধানের পাশাপাশি ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’ জাতীয় অস্পষ্ট শব্দগুলোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপে বাধ্য হতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কনটেন্ট বন্ধের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বিচারিক অনুমোদন বাতিল করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ব্যাপক এখতিয়ার দেওয়ায় সাইবার দুনিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি বাড়তে পারে। এর ফলে গণমাধ্যমগুলো বাধ্য হয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-সেন্সরশিপের পথ বেছে নেবে, যা সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করবে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংস্থাটি জানায়, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো মাধ্যমে তথ্য ও ধারণা অনুসন্ধান, গ্রহণ ও প্রচারের স্বাধীনতা স্বীকৃত। মতপ্রকাশের ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট আইনভিত্তিক, বৈধ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রয়োজনীয় বা আনুপাতিক হওয়ার শর্ত পূরণ করতে হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক সমালোচনাকে সাইবার অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো অস্পষ্ট বিধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে এই সংস্থা।

বাংলাদেশের সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংগঠনটি সরকারকে সাইবার আইনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার তাগিদ দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্বে বিচারিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা, সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।