ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

সৌদির ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স

সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ইয়ানবু বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেখানে সেনা এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১ এবং ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত এই বন্দরটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার সময়ে সৌদি আরবের বিকল্প তেল রপ্তানি পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। ম্যাখোঁ বলেন, ‘আমি এটি অস্বীকার করছি।

সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ইয়ানবু বন্দর। এই পরিস্থিতিতে স্থাপনাটির সুরক্ষায় ফ্রান্সের এই উদ্যোগের ব্যাখ্যা দিয়ে ম্যাখোঁ বলেন, এটি কোনো সংঘর্ষে জড়ানোর জন্য নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটিকে সুরক্ষিত করতেই সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় ম্যাখোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার যে কোনো ধরনের উদ্যোগ বিশ্ব অর্থনীতি ও খোদ মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। বর্তমানে ফ্রান্সে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন শীতের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত রয়েছে এবং সরকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে কাজ করছে।

সাক্ষাৎকারে ম্যাখোঁ ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার বিষয়েও কথা বলেন। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল মুন্দো’-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ভূমধ্যসাগর থেকে ড্রোন হামলার বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে। তবে ম্যাখোঁ এই দাবি দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিআইএ ফ্রান্সকে এমন কোনো তথ্য দেয়নি।

তবে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাইবার ও ড্রোন হামলার চেষ্টার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার দায় রাশিয়ার ওপর বর্তায়। এসব হুমকির প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন ম্যাখোঁ। তিনি মনে করেন, মস্কো ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃঢ়তা ভাঙার জন্য ভীতি প্রদর্শন করছে। তবু ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া একের পর এক শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জার্মানি জানিয়েছে, আগস্টে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার যে চেষ্টা হয়েছিল, এর জন্য রাশিয়াই দায়ী। ব্যর্থ লিপজিগ হামলার মতো আক্রমণের শিকার হতে পারে ফ্রান্সও। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গত সপ্তাহে ম্যাখোঁ এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ইউরোপে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়ে ম্যাখোঁর অবস্থান এ সপ্তাহে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এদিকে ফ্রান্সের এই অবস্থানের বিপরীতে রাজনৈতিক সমীকরণের কিছুটা পরিবর্তনও দেখা গেছে। ফ্রান্সের উদ্যোগে রুশ-উজবেক ব্যবসায়ী আলিশের উসমানভকে ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যাকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিনিময়ে আজারবাইজান তাদের কারাগারে থাকা এক ফরাসি নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘রাশিয়াবিরোধী উন্মাদনা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

সৌদির ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স

আপডেট সময় ০৩:৪১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ইয়ানবু বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেখানে সেনা এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১ এবং ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত এই বন্দরটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার সময়ে সৌদি আরবের বিকল্প তেল রপ্তানি পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। ম্যাখোঁ বলেন, ‘আমি এটি অস্বীকার করছি।

সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ইয়ানবু বন্দর। এই পরিস্থিতিতে স্থাপনাটির সুরক্ষায় ফ্রান্সের এই উদ্যোগের ব্যাখ্যা দিয়ে ম্যাখোঁ বলেন, এটি কোনো সংঘর্ষে জড়ানোর জন্য নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটিকে সুরক্ষিত করতেই সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় ম্যাখোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার যে কোনো ধরনের উদ্যোগ বিশ্ব অর্থনীতি ও খোদ মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। বর্তমানে ফ্রান্সে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন শীতের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত রয়েছে এবং সরকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে কাজ করছে।

সাক্ষাৎকারে ম্যাখোঁ ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার বিষয়েও কথা বলেন। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল মুন্দো’-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ভূমধ্যসাগর থেকে ড্রোন হামলার বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে। তবে ম্যাখোঁ এই দাবি দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিআইএ ফ্রান্সকে এমন কোনো তথ্য দেয়নি।

তবে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাইবার ও ড্রোন হামলার চেষ্টার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার দায় রাশিয়ার ওপর বর্তায়। এসব হুমকির প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন ম্যাখোঁ। তিনি মনে করেন, মস্কো ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃঢ়তা ভাঙার জন্য ভীতি প্রদর্শন করছে। তবু ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া একের পর এক শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জার্মানি জানিয়েছে, আগস্টে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার যে চেষ্টা হয়েছিল, এর জন্য রাশিয়াই দায়ী। ব্যর্থ লিপজিগ হামলার মতো আক্রমণের শিকার হতে পারে ফ্রান্সও। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গত সপ্তাহে ম্যাখোঁ এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ইউরোপে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়ে ম্যাখোঁর অবস্থান এ সপ্তাহে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এদিকে ফ্রান্সের এই অবস্থানের বিপরীতে রাজনৈতিক সমীকরণের কিছুটা পরিবর্তনও দেখা গেছে। ফ্রান্সের উদ্যোগে রুশ-উজবেক ব্যবসায়ী আলিশের উসমানভকে ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যাকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিনিময়ে আজারবাইজান তাদের কারাগারে থাকা এক ফরাসি নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘রাশিয়াবিরোধী উন্মাদনা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।