ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদসদস্য (এমপি) আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে সরকার গঠনের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয় এবং এখন তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আজ রোববার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত জুলাই স্মৃতিচারণ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

আখতার হোসেন বলেন, গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেননি, বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। অতীতে তার বিভিন্ন অপকর্ম রয়েছে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রেও তিনি জড়িত ছিলেন। আমরা জেনেছি, লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এসব কারণে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন আইকন নন, তিনি একজন লুটেরাও। তিনি ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলাম গ্রুপের হাতে তুলে দিয়েছেন৷ বিদেশে বাড়িঘর করেছেন, বিদেশে একটা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিয়েছেন। এ ধরনের একজন ব্যক্তি, রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকার মতো যোগ্যতা তো তার থাকে না।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা বলে দাবি করছেন, রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনা যায় না। এটি সঠিক ব্যাখ্যা নয়। রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তাকে আদালতে নেওয়া যায় না। তবে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সংবিধানের মাধ্যমে তাকে আর কোনো দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত। তদন্ত করে দেখতে হবে, তিনি গণহত্যার সঙ্গে আর কীভাবে জড়িত ছিলেন।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার

আপডেট সময় ০৯:৪০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদসদস্য (এমপি) আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে সরকার গঠনের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয় এবং এখন তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আজ রোববার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত জুলাই স্মৃতিচারণ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

আখতার হোসেন বলেন, গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেননি, বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। অতীতে তার বিভিন্ন অপকর্ম রয়েছে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রেও তিনি জড়িত ছিলেন। আমরা জেনেছি, লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এসব কারণে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন আইকন নন, তিনি একজন লুটেরাও। তিনি ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলাম গ্রুপের হাতে তুলে দিয়েছেন৷ বিদেশে বাড়িঘর করেছেন, বিদেশে একটা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিয়েছেন। এ ধরনের একজন ব্যক্তি, রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকার মতো যোগ্যতা তো তার থাকে না।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা বলে দাবি করছেন, রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনা যায় না। এটি সঠিক ব্যাখ্যা নয়। রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তাকে আদালতে নেওয়া যায় না। তবে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সংবিধানের মাধ্যমে তাকে আর কোনো দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত। তদন্ত করে দেখতে হবে, তিনি গণহত্যার সঙ্গে আর কীভাবে জড়িত ছিলেন।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।