ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

একই সময়ে সূর্যের আলো পাবে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে সূর্যের আলো বা গোধূলির অভিজ্ঞতা নিতে যাচ্ছেন। বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১১টা ১০ মিনিট) এমন বিরল মহাজাগতিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, যখন বিশ্বের প্রায় ৮২০ কোটি মানুষের অধিকাংশই দিনের আলোতে থাকবেন।

পৃথিবীর অক্ষের হেলন এবং উত্তর গোলার্ধে চলমান গ্রীষ্মকালীন সময়ের কারণে এ ঘটনা ঘটবে। ওই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলগুলো সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকবে। মাত্র অল্প সময়ের জন্য, প্রায় এক মিনিটের মতো, পৃথিবীর খুব ছোট একটি অংশে রাত থাকবে।

উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে দিনের আলো থাকবে। এসব এলাকাতেই বিশ্বের প্রায় সব মানুষ বসবাস করেন। অন্যদিকে অন্ধকারে থাকবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ, অ্যান্টার্কটিকা এবং আশপাশের মহাসাগরীয় অঞ্চল।

তবে এটি শুধু ৮ জুলাইয়ের একদিনের ঘটনা নয়। প্রতি বছর প্রায় ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬০ দিন এমন একটি সময় আসে, যখন প্রতিদিনই কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ দিনের আলো বা গোধূলির মধ্যে থাকেন।

২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর ৮ জুলাইয়ের ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, শুধু এই দিনেই এমন ঘটনা ঘটে। তবে পরে তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, ৮ জুলাই সবচেয়ে বেশি মানুষের একসঙ্গে আলো পাওয়ার দিনগুলোর একটি হলেও, উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে প্রায় দুই মাস ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, ওই মুহূর্তে প্রায় ৬৯০ কোটি মানুষ বা বিশ্বের ৮৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি দিনের আলোয় থাকবেন। প্রায় ৫৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ থাকবে ‘সিভিল টোয়াইলাইট’-এ, যখন কৃত্রিম আলো ছাড়াই বেশিরভাগ বাইরের কাজ করা সম্ভব।

এছাড়া প্রায় ৪৯ কোটি ৮০ লাখ মানুষ থাকবে ‘নটিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ এবং ২৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ থাকবে ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ। মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ১ শতাংশ মানুষ, সম্পূর্ণ রাতের অন্ধকারে থাকবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮ জুলাইয়ের এই ঘটনা জুনের অয়নান্তের (সোলস্টিস) পর ঘটে। জুন অয়নান্তে উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে দীর্ঘ দিন থাকে। এরপর সূর্যের অবস্থান ধীরে ধীরে দক্ষিণের দিকে সরে যায়, ফলে জনবহুল অঞ্চলগুলোতে দিনের আলো কিছুটা বাড়ে। এই সামান্য পরিবর্তনের কারণে অয়নান্তের দিনের তুলনায় প্রায় এক কোটি বেশি মানুষ সূর্যের আলো বা গোধূলির আওতায় আসেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একই সময়ে সূর্যের আলো পাবে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ

আপডেট সময় ১০:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে সূর্যের আলো বা গোধূলির অভিজ্ঞতা নিতে যাচ্ছেন। বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১১টা ১০ মিনিট) এমন বিরল মহাজাগতিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, যখন বিশ্বের প্রায় ৮২০ কোটি মানুষের অধিকাংশই দিনের আলোতে থাকবেন।

পৃথিবীর অক্ষের হেলন এবং উত্তর গোলার্ধে চলমান গ্রীষ্মকালীন সময়ের কারণে এ ঘটনা ঘটবে। ওই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলগুলো সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকবে। মাত্র অল্প সময়ের জন্য, প্রায় এক মিনিটের মতো, পৃথিবীর খুব ছোট একটি অংশে রাত থাকবে।

উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে দিনের আলো থাকবে। এসব এলাকাতেই বিশ্বের প্রায় সব মানুষ বসবাস করেন। অন্যদিকে অন্ধকারে থাকবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ, অ্যান্টার্কটিকা এবং আশপাশের মহাসাগরীয় অঞ্চল।

তবে এটি শুধু ৮ জুলাইয়ের একদিনের ঘটনা নয়। প্রতি বছর প্রায় ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬০ দিন এমন একটি সময় আসে, যখন প্রতিদিনই কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ দিনের আলো বা গোধূলির মধ্যে থাকেন।

২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর ৮ জুলাইয়ের ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, শুধু এই দিনেই এমন ঘটনা ঘটে। তবে পরে তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, ৮ জুলাই সবচেয়ে বেশি মানুষের একসঙ্গে আলো পাওয়ার দিনগুলোর একটি হলেও, উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে প্রায় দুই মাস ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, ওই মুহূর্তে প্রায় ৬৯০ কোটি মানুষ বা বিশ্বের ৮৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি দিনের আলোয় থাকবেন। প্রায় ৫৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ থাকবে ‘সিভিল টোয়াইলাইট’-এ, যখন কৃত্রিম আলো ছাড়াই বেশিরভাগ বাইরের কাজ করা সম্ভব।

এছাড়া প্রায় ৪৯ কোটি ৮০ লাখ মানুষ থাকবে ‘নটিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ এবং ২৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ থাকবে ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ। মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ১ শতাংশ মানুষ, সম্পূর্ণ রাতের অন্ধকারে থাকবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮ জুলাইয়ের এই ঘটনা জুনের অয়নান্তের (সোলস্টিস) পর ঘটে। জুন অয়নান্তে উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে দীর্ঘ দিন থাকে। এরপর সূর্যের অবস্থান ধীরে ধীরে দক্ষিণের দিকে সরে যায়, ফলে জনবহুল অঞ্চলগুলোতে দিনের আলো কিছুটা বাড়ে। এই সামান্য পরিবর্তনের কারণে অয়নান্তের দিনের তুলনায় প্রায় এক কোটি বেশি মানুষ সূর্যের আলো বা গোধূলির আওতায় আসেন।