ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

হামাসের শীর্ষ সামরিক প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও, গাজা সিটিতে এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদকে হত্যা করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থার (আইএসএ) পক্ষ থেকে দেওয়া একটি যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকালের এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পরবর্তীতে স্পষ্ট করে যে একটি ‘সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত হামলার’ মাধ্যমে আল-হাদাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

রয়টার্স জানায়, শনিবার (১৬ মে) উত্তর গাজার মসজিদগুলো থেকেও আল-হাদাদের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়েছে, তবে হামাসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে আল-হাদাদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নজিরবিহীন হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং পরবর্তীতে জিম্মিদের আটকে রাখার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা উপত্যকাকে সামরিক মুক্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন চুক্তি বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর জন্যও তাকে দায়ী করেছে ইসরাইল।

গাজার জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকার একটি আবাসিক ভবনে প্রথম হামলাটি চালানো হয় এবং এর পরপরই কাছাকাছি একটি রাস্তায় থাকা একটি গাড়ি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বিমান হামলাটি করা হয়।

গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া সিএনএনকে জানিয়েছেন, নিহত সাতজনের মধ্যে তিন নারী ও একটি শিশুর মরদেহ তারা হাসপাতালে পেয়েছেন। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ জন আহত রোগীকে উদ্ধার করে আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

রহস্যময় স্বভাব এবং অত্যন্ত গোপনে চলাফেরা করার কারণে হামাসের ভেতরে ‘আল-কাসামের ভূত’ নামে পরিচিত ছিলেন ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদ। তিনি হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জ আল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান ছিলেন।

ইসরাইলি অভিযানে হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর, আল-হাদাদকেই সংগঠনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। হামাস এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, ইসরাইলের একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী আল-হাদাদকে হত্যার এই অভিযানটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় দৃশ্যত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এই রক্তক্ষয়ী হামলাটি চালানো হলো। ইসরাইল অবশ্য নিয়মিতভাবেই গাজায় এমন হামলা চালিয়ে আসছে এবং তাদের দাবি, এগুলো হামাসকে লক্ষ্য করে অথবা দখলকৃত ছিটমহলটিতে অবস্থানরত ইসরাইলি বাহিনীর ওপর আসন্ন হুমকি নস্যাৎ করার জন্য চালানো হয়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য-অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৮৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর ঠিক একদিন আগেই, মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নিকোলে ম্লাদেনভ স্বীকার করেছিলেন যে এই যুদ্ধবিরতিটি ‘ত্রুটিমুক্ত নয়’, যদিও এটি অঞ্চলে একটি ‘আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা’ এনেছে।

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার সাবেক এই বিশেষ সমন্বয়কারী স্পষ্ট করে বলেছেন যে হামাসকে গাজার শাসনক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং তাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে, যার ওপরই মূলত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ভর করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

পেছাল এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ

হামাসের শীর্ষ সামরিক প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

আপডেট সময় ০৪:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও, গাজা সিটিতে এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদকে হত্যা করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থার (আইএসএ) পক্ষ থেকে দেওয়া একটি যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকালের এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পরবর্তীতে স্পষ্ট করে যে একটি ‘সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত হামলার’ মাধ্যমে আল-হাদাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

রয়টার্স জানায়, শনিবার (১৬ মে) উত্তর গাজার মসজিদগুলো থেকেও আল-হাদাদের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়েছে, তবে হামাসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে আল-হাদাদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নজিরবিহীন হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং পরবর্তীতে জিম্মিদের আটকে রাখার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা উপত্যকাকে সামরিক মুক্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন চুক্তি বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর জন্যও তাকে দায়ী করেছে ইসরাইল।

গাজার জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকার একটি আবাসিক ভবনে প্রথম হামলাটি চালানো হয় এবং এর পরপরই কাছাকাছি একটি রাস্তায় থাকা একটি গাড়ি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বিমান হামলাটি করা হয়।

গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া সিএনএনকে জানিয়েছেন, নিহত সাতজনের মধ্যে তিন নারী ও একটি শিশুর মরদেহ তারা হাসপাতালে পেয়েছেন। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ জন আহত রোগীকে উদ্ধার করে আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

রহস্যময় স্বভাব এবং অত্যন্ত গোপনে চলাফেরা করার কারণে হামাসের ভেতরে ‘আল-কাসামের ভূত’ নামে পরিচিত ছিলেন ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদ। তিনি হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জ আল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান ছিলেন।

ইসরাইলি অভিযানে হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর, আল-হাদাদকেই সংগঠনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। হামাস এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, ইসরাইলের একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী আল-হাদাদকে হত্যার এই অভিযানটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় দৃশ্যত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এই রক্তক্ষয়ী হামলাটি চালানো হলো। ইসরাইল অবশ্য নিয়মিতভাবেই গাজায় এমন হামলা চালিয়ে আসছে এবং তাদের দাবি, এগুলো হামাসকে লক্ষ্য করে অথবা দখলকৃত ছিটমহলটিতে অবস্থানরত ইসরাইলি বাহিনীর ওপর আসন্ন হুমকি নস্যাৎ করার জন্য চালানো হয়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য-অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৮৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর ঠিক একদিন আগেই, মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নিকোলে ম্লাদেনভ স্বীকার করেছিলেন যে এই যুদ্ধবিরতিটি ‘ত্রুটিমুক্ত নয়’, যদিও এটি অঞ্চলে একটি ‘আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা’ এনেছে।

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার সাবেক এই বিশেষ সমন্বয়কারী স্পষ্ট করে বলেছেন যে হামাসকে গাজার শাসনক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং তাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে, যার ওপরই মূলত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ভর করছে।