ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মঙ্গলে কি একসময় প্রাণ ছিল? জবাব খুঁজছে নাসার রোভার

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মঙ্গল গ্রহে একসময় প্রাণ ছিল—এখন সেই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছেন, তাদের রোবোটিক যান কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের মাটিতে এমন জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে, যা প্রাণের উপাদান তৈরি করতে কাজে লাগে।

রোভারটি বর্তমানে মঙ্গলের গেইল ক্রেটার (মঙ্গলের একটি বিশাল গর্ত/খাদ)–এর ভেতরে, মাউন্ট শার্প (এলাকার একটি পাহাড়)–এর পাদদেশে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। সেখানে পাথরে ড্রিল করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেই পাথরের ভেতরে ডেকেন, আনডেকেন ও ডোডেকেন নামে কিছু রাসায়নিক যৌগ আছে, যাদেরকে হাইড্রোকার্বন বলা হয়। হাইড্রোকার্বন এমন রাসায়নিক যা পৃথিবীতে প্রাণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকে। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই রাসায়নিকগুলোর গঠন অনেকটা ফ্যাটি অ্যাসিড–এর মতো, যেটি কোষ বা সেল তৈরির প্রধান উপাদান।

বিশেষ কথা হলো—এগুলো প্রায় ৩৭০ কোটি বছর আগের কাদা–পাথরে সংরক্ষিত। সাধারণত মহাকাশ থেকে আসা ক্ষতিকর রশি সময়ের সঙ্গে জৈব অণুগুলোকে নষ্ট করে দেয়। কিন্তু ল্যাবরেটরি টেস্ট ও কম্পিউটার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব রাসায়নিক এত দীর্ঘ সময়ে টিকে থাকতে পারে, যা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। বিজ্ঞানীরা তাই মনে করছেন, এই অণুগুলোর পেছনে জৈবিক (প্রাণের সঙ্গে সম্পর্কিত) কারণ থাকতে পারে।

২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণ করার পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার একের পর এক রহস্য উদ্ঘাটন করছে। মাউন্ট শার্পের স্তরগুলো দেখতে অনেকটা একটি বিশাল কেকের মতো। প্রতিটি স্তর মঙ্গলের বিভিন্ন যুগের ইতিহাস বোঝায়। প্রাচীন হ্রদ, পাথুরে এলাকা এবং সালফেটে সমৃদ্ধ স্তর—সবকিছু মিলিয়ে রোভারটি প্রাণের জন্য উপযোগী পরিবেশের সন্ধান করছে।

এই নতুন আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গবেষণা এখনও চলছে। ভবিষ্যতে আরও তথ্য মিললে মঙ্গলের অতীত আরও স্পষ্ট হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মঙ্গলে কি একসময় প্রাণ ছিল? জবাব খুঁজছে নাসার রোভার

আপডেট সময় ১১:৩০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মঙ্গল গ্রহে একসময় প্রাণ ছিল—এখন সেই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছেন, তাদের রোবোটিক যান কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের মাটিতে এমন জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে, যা প্রাণের উপাদান তৈরি করতে কাজে লাগে।

রোভারটি বর্তমানে মঙ্গলের গেইল ক্রেটার (মঙ্গলের একটি বিশাল গর্ত/খাদ)–এর ভেতরে, মাউন্ট শার্প (এলাকার একটি পাহাড়)–এর পাদদেশে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। সেখানে পাথরে ড্রিল করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেই পাথরের ভেতরে ডেকেন, আনডেকেন ও ডোডেকেন নামে কিছু রাসায়নিক যৌগ আছে, যাদেরকে হাইড্রোকার্বন বলা হয়। হাইড্রোকার্বন এমন রাসায়নিক যা পৃথিবীতে প্রাণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকে। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই রাসায়নিকগুলোর গঠন অনেকটা ফ্যাটি অ্যাসিড–এর মতো, যেটি কোষ বা সেল তৈরির প্রধান উপাদান।

বিশেষ কথা হলো—এগুলো প্রায় ৩৭০ কোটি বছর আগের কাদা–পাথরে সংরক্ষিত। সাধারণত মহাকাশ থেকে আসা ক্ষতিকর রশি সময়ের সঙ্গে জৈব অণুগুলোকে নষ্ট করে দেয়। কিন্তু ল্যাবরেটরি টেস্ট ও কম্পিউটার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব রাসায়নিক এত দীর্ঘ সময়ে টিকে থাকতে পারে, যা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। বিজ্ঞানীরা তাই মনে করছেন, এই অণুগুলোর পেছনে জৈবিক (প্রাণের সঙ্গে সম্পর্কিত) কারণ থাকতে পারে।

২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণ করার পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার একের পর এক রহস্য উদ্ঘাটন করছে। মাউন্ট শার্পের স্তরগুলো দেখতে অনেকটা একটি বিশাল কেকের মতো। প্রতিটি স্তর মঙ্গলের বিভিন্ন যুগের ইতিহাস বোঝায়। প্রাচীন হ্রদ, পাথুরে এলাকা এবং সালফেটে সমৃদ্ধ স্তর—সবকিছু মিলিয়ে রোভারটি প্রাণের জন্য উপযোগী পরিবেশের সন্ধান করছে।

এই নতুন আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গবেষণা এখনও চলছে। ভবিষ্যতে আরও তথ্য মিললে মঙ্গলের অতীত আরও স্পষ্ট হবে।