ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভূমিকম্প সেন্সরে ধরা পড়বে আকাশ থেকে পড়া মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ

আকাশ নিউজ ডেস্ক :  

প্রতিদিনই পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে মহাকাশের অন্তত তিনটি বড় ধ্বংসাবশেষ। এর মধ্যে থাকে পুরোনো উপগ্রহ বা ব্যবহৃত রকেটের অংশ। কিন্তু এগুলো কোথায় পড়ছে, আকাশে কীভাবে ভেঙে যাচ্ছে—এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের জানা খুবই সীমিত। এবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি নতুন পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন, যার মাধ্যমে ভূমিকম্প শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করে মহাকাশ থেকে পড়া এসব ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা যাবে।

২০২২ সালের নভেম্বরে এমনই এক ঘটনায় স্পেন ও ফ্রান্সের কিছু আকাশপথ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ রাখতে হয়। আশঙ্কা ছিল, চীনের একটি বড় রকেটের অংশ দক্ষিণ ইউরোপে পড়তে পারে। এতে শত শত ফ্লাইটের গতিপথ বদলাতে হয় এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। পরে দেখা যায়, রকেটের মূল অংশ পড়ে প্রশান্ত মহাসাগরে, ধারণার চেয়ে অনেক দূরে। এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, মহাকাশ থেকে ফিরে আসা বস্তুর গতিপথ সম্পর্কে আমাদের ধারণা কতটা দুর্বল।

এই সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকরা নতুন একটি কৌশল তৈরি করেছেন। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভূমিকম্প সেন্সর। এসব সেন্সর আকাশে পড়তে থাকা ধ্বংসাবশেষের তৈরি শব্দতরঙ্গ বা সোনিক বুম শনাক্ত করতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক বেঞ্জামিন ফের্নান্দো জানান, মহাকাশে থাকা অবস্থায় রাডার দিয়ে বস্তু শনাক্ত করা সহজ। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে ঢোকার পর বাতাসের কারণে এর গতিপথ অনিয়মিত হয়ে যায়। তখন কোথায় পড়বে, তা বোঝা কঠিন হয়।

গবেষকরা ২০২৪ সালের এপ্রিলে চীনের শেনঝৌ-১৭ মহাকাশযানের একটি ১.৫ টন ওজনের অংশ পড়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্লেষণ করেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসানো ১২৭টি ভূমিকম্প সেন্সরের তথ্য ব্যবহার করে তারা দেখতে পান, ওই বস্তুটি অনুমানের চেয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভিন্ন পথে চলেছে। কিছু অংশ ক্যালিফোর্নিয়ার বেকার্সফিল্ড ও নেভাদার লাস ভেগাসের মাঝামাঝি এলাকায় পড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়।

গবেষকদের মতে, এই নতুন পদ্ধতিতে রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। এতে ঝুঁকি কমবে এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ভূমিকম্প সেন্সরে ধরা পড়বে আকাশ থেকে পড়া মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ

আপডেট সময় ১০:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :  

প্রতিদিনই পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে মহাকাশের অন্তত তিনটি বড় ধ্বংসাবশেষ। এর মধ্যে থাকে পুরোনো উপগ্রহ বা ব্যবহৃত রকেটের অংশ। কিন্তু এগুলো কোথায় পড়ছে, আকাশে কীভাবে ভেঙে যাচ্ছে—এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের জানা খুবই সীমিত। এবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি নতুন পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন, যার মাধ্যমে ভূমিকম্প শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করে মহাকাশ থেকে পড়া এসব ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা যাবে।

২০২২ সালের নভেম্বরে এমনই এক ঘটনায় স্পেন ও ফ্রান্সের কিছু আকাশপথ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ রাখতে হয়। আশঙ্কা ছিল, চীনের একটি বড় রকেটের অংশ দক্ষিণ ইউরোপে পড়তে পারে। এতে শত শত ফ্লাইটের গতিপথ বদলাতে হয় এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। পরে দেখা যায়, রকেটের মূল অংশ পড়ে প্রশান্ত মহাসাগরে, ধারণার চেয়ে অনেক দূরে। এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, মহাকাশ থেকে ফিরে আসা বস্তুর গতিপথ সম্পর্কে আমাদের ধারণা কতটা দুর্বল।

এই সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকরা নতুন একটি কৌশল তৈরি করেছেন। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভূমিকম্প সেন্সর। এসব সেন্সর আকাশে পড়তে থাকা ধ্বংসাবশেষের তৈরি শব্দতরঙ্গ বা সোনিক বুম শনাক্ত করতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক বেঞ্জামিন ফের্নান্দো জানান, মহাকাশে থাকা অবস্থায় রাডার দিয়ে বস্তু শনাক্ত করা সহজ। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে ঢোকার পর বাতাসের কারণে এর গতিপথ অনিয়মিত হয়ে যায়। তখন কোথায় পড়বে, তা বোঝা কঠিন হয়।

গবেষকরা ২০২৪ সালের এপ্রিলে চীনের শেনঝৌ-১৭ মহাকাশযানের একটি ১.৫ টন ওজনের অংশ পড়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্লেষণ করেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসানো ১২৭টি ভূমিকম্প সেন্সরের তথ্য ব্যবহার করে তারা দেখতে পান, ওই বস্তুটি অনুমানের চেয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভিন্ন পথে চলেছে। কিছু অংশ ক্যালিফোর্নিয়ার বেকার্সফিল্ড ও নেভাদার লাস ভেগাসের মাঝামাঝি এলাকায় পড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়।

গবেষকদের মতে, এই নতুন পদ্ধতিতে রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। এতে ঝুঁকি কমবে এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।