ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

৩০ বছরে হত্যার শিকার ১১ লাখের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

১৯৯০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই বিগত ৩০ বছরে বিশ্বে ১১ লাখের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ হত্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাচার করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এ কথা জানান।

গত দশকে ৬৫টি দেশে বা অঞ্চলে ৪৪ হাজারের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ অবৈধ শিকারীদের হাতে মারা গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কচ্ছপ ধরা বা এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ ও এই সংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজিতে প্রকাশ হয়েছে।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণাপত্রের সহ-লেখক জেসি সেনকো বলেন, সংখ্যাটি অনেক বেশি হলেও প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এতে প্রকৃত দৃশ্য ফুটে উঠছে না। কারণ যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা কঠিন। সাধারণত খাবার হিসেবে, ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে, প্রত্নবস্তু, সাজসজ্জা বা গহনা হিসেবে বিক্রির জন্য সামুদ্রিক কচ্ছপ শিকার করা হয়।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, কচ্ছপ শিকার ও পাচার একটি বৈশ্বিক অবৈধ বন্যপ্রাণী বাজারের অংশ। প্রতি বছর সেখানে অন্তত ২ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের কচ্ছপ বা কচ্ছপ-পণ্য বেচাকেনা হয়। অবৈধ কচ্ছপ শিকারের মাত্রা বুঝতে গবেষকরা ২০৯টির বেশি বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালের নিবন্ধ, মিডিয়া রিপোর্ট, প্রশ্নাবলী এবং সংরক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদন পরীক্ষা করেছেন। এতে দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে অন্তত ৪৩ হাজার কচ্ছপ পাচার করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটিও ব্যাপকভাবে অবমূল্যায়িত বলে মনে করেন জেসি সেনকো।

সম্প্রতি গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মাদাগাস্কার হচ্ছে সামুদ্রিক কচ্ছপ শিকারের হটস্পট। সবচেয়ে বেশি কচ্ছপ পাচার হয় ভিয়েতনাম থেকে এবং চীন-জাপান হলো অবৈধ কচ্ছপ পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। এ প্রসঙ্গে জেসি সেনকো আরও বলেন, উচ্চ আয়ের দেশগুলো বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে যতদিন চাইবে, উন্নয়নশীল দেশগুলো ততদিন অবৈধ কচ্ছপ সরবরাহ চালিয়ে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

৩০ বছরে হত্যার শিকার ১১ লাখের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ

আপডেট সময় ১১:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

১৯৯০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই বিগত ৩০ বছরে বিশ্বে ১১ লাখের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ হত্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাচার করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এ কথা জানান।

গত দশকে ৬৫টি দেশে বা অঞ্চলে ৪৪ হাজারের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ অবৈধ শিকারীদের হাতে মারা গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কচ্ছপ ধরা বা এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ ও এই সংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজিতে প্রকাশ হয়েছে।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণাপত্রের সহ-লেখক জেসি সেনকো বলেন, সংখ্যাটি অনেক বেশি হলেও প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এতে প্রকৃত দৃশ্য ফুটে উঠছে না। কারণ যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা কঠিন। সাধারণত খাবার হিসেবে, ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে, প্রত্নবস্তু, সাজসজ্জা বা গহনা হিসেবে বিক্রির জন্য সামুদ্রিক কচ্ছপ শিকার করা হয়।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, কচ্ছপ শিকার ও পাচার একটি বৈশ্বিক অবৈধ বন্যপ্রাণী বাজারের অংশ। প্রতি বছর সেখানে অন্তত ২ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের কচ্ছপ বা কচ্ছপ-পণ্য বেচাকেনা হয়। অবৈধ কচ্ছপ শিকারের মাত্রা বুঝতে গবেষকরা ২০৯টির বেশি বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালের নিবন্ধ, মিডিয়া রিপোর্ট, প্রশ্নাবলী এবং সংরক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদন পরীক্ষা করেছেন। এতে দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে অন্তত ৪৩ হাজার কচ্ছপ পাচার করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটিও ব্যাপকভাবে অবমূল্যায়িত বলে মনে করেন জেসি সেনকো।

সম্প্রতি গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মাদাগাস্কার হচ্ছে সামুদ্রিক কচ্ছপ শিকারের হটস্পট। সবচেয়ে বেশি কচ্ছপ পাচার হয় ভিয়েতনাম থেকে এবং চীন-জাপান হলো অবৈধ কচ্ছপ পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। এ প্রসঙ্গে জেসি সেনকো আরও বলেন, উচ্চ আয়ের দেশগুলো বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে যতদিন চাইবে, উন্নয়নশীল দেশগুলো ততদিন অবৈধ কচ্ছপ সরবরাহ চালিয়ে যাবে।