ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

২৩০ বছরের পুরনো ক্ষুদ্রতম দুই মসজিদ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের তারাপুর ও মালশন গ্রামে এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে অতি প্রাচীন ক্ষুদ্র দুটি মসজিদ। বলা হচ্ছে দেশের মধ্যে এ দুটি মসজিদই সবচেয়ে ক্ষুদ্র। ২৩০ বছরের পুরনো মসজিদ দুটি এখনো টিকে আছে।

তারাপুর ও মালশন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, মসজিদে সামান্য উঁচু একটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের ওপর আছে একটি মিনার। মিনারটির বেশ কিছু অংশ অনেক আগে ভেঙে পড়েছে। দেড় ফুট পুরুত্বের দেয়ালে ব্যবহৃত ইটগুলো আকারে খুব ছোট।

মসজিদের দরজায় দুটি সুন্দর খিলান রয়েছে। স্থাপনাটি বেশ পুরনো, দেখলেই বোঝা যায়। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৭৭০ থেকে ১৭৯০ সালের কোনো একসময় মসজিদ দুটি নির্মিত। আদমদীঘির এ অঞ্চলটি বিভিন্ন জমিদারের শাসনাধীন ছিল। সে সময় নাটোরের রানী ভবানীর সর্ববৃহৎ জমিদারি বিস্তৃত ছিল প্রায় ১২ হাজার ৯৯৯ বর্গমাইল, যার মধ্যে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা অন্তর্ভুক্ত। রানী ভবানীর বাবার বাড়ি ছিল আদমদীঘির ছাতিয়ান গ্রামে। কথিত আছে, হিন্দু বসতিপূর্ণ ওই এলাকায় সে সময় তারাপুর গ্রামে শুধু একটি মুসলিম পরিবার বাস করত। ওই পরিবারের সদস্যরা একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সমাজপ্রধানদের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু হিন্দুধর্মাবলম্বী সমাজপতিদের কাছে তাদের এ দাবি বারবার উপেক্ষিত হয়। পরে তারা রানী ভবানীর কাছে বিষয়টি তোলেন। তিনি তখন বাবার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি সম্মতি দিলেও হিন্দু সমাজপতিরা তাঁর কাছে এ কাজ বন্ধের আবেদন করেন। এ নিয়ে অনেক যুক্তিতর্কের পর তিনজনের নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন রানী ভবানী। ক্ষুদ্র এ মসজিদের প্রস্থ ৯ ফুট, উচ্চতা মিনারসহ ১২ ফুট। মিনারটির ঘের ২৭ ফুট। মসজিদটির মিহরাব এতই ক্ষুদ্র, যা ভিতরে না গেলে চোখে পড়ে না। মিহরাবের উচ্চতা সাড়ে ৩ ফুট, প্রস্থ দেড় ফুট। দরজার উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট, প্রস্থ আড়াই ফুট। সর্বোচ্চ তিনজন এ মসজিদে নামাজ পড়তে পারবেন। এ মসজিদের মতো আরেকটি মসজিদ রয়েছে পাশের মালশন গ্রামে। এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা তারাপুর গ্রামের মসজিদের চেয়ে একটু বেশি। নির্মাণশৈলী একই। এ মসজিদটি সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো ইতিহাস কেউ বলতে পারেন না। এখানে একসঙ্গে পাঁচজনের নামাজ আদায় করার মতো জায়গা রয়েছে। মসজিদ দুুটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে আর মুয়াজ্জিনের আজান ধ্বনিত হয় না। দুই গ্রামবাসী মসজিদ দুটি সংস্কার করে পুনরায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তারাপুর গ্রামের কাউন্সিলর মোহাম্মদ কামরুল বলেন, ‘প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এদিকে কখনো নজর দেয়নি। আমরা ব্যক্তিগতভাবে এটি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভ্রমণপিপাসু ও ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু দর্শনার্থীরা প্রায় প্রতিদিনই মসজিদটি দেখতে গ্রাম দুটিতে আসেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটির তদারকি না করলে যে কোনো সময় নষ্ট হতে পারে প্রাচীন এ স্থাপত্য দুটি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

২৩০ বছরের পুরনো ক্ষুদ্রতম দুই মসজিদ

আপডেট সময় ১১:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের তারাপুর ও মালশন গ্রামে এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে অতি প্রাচীন ক্ষুদ্র দুটি মসজিদ। বলা হচ্ছে দেশের মধ্যে এ দুটি মসজিদই সবচেয়ে ক্ষুদ্র। ২৩০ বছরের পুরনো মসজিদ দুটি এখনো টিকে আছে।

তারাপুর ও মালশন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, মসজিদে সামান্য উঁচু একটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের ওপর আছে একটি মিনার। মিনারটির বেশ কিছু অংশ অনেক আগে ভেঙে পড়েছে। দেড় ফুট পুরুত্বের দেয়ালে ব্যবহৃত ইটগুলো আকারে খুব ছোট।

মসজিদের দরজায় দুটি সুন্দর খিলান রয়েছে। স্থাপনাটি বেশ পুরনো, দেখলেই বোঝা যায়। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৭৭০ থেকে ১৭৯০ সালের কোনো একসময় মসজিদ দুটি নির্মিত। আদমদীঘির এ অঞ্চলটি বিভিন্ন জমিদারের শাসনাধীন ছিল। সে সময় নাটোরের রানী ভবানীর সর্ববৃহৎ জমিদারি বিস্তৃত ছিল প্রায় ১২ হাজার ৯৯৯ বর্গমাইল, যার মধ্যে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা অন্তর্ভুক্ত। রানী ভবানীর বাবার বাড়ি ছিল আদমদীঘির ছাতিয়ান গ্রামে। কথিত আছে, হিন্দু বসতিপূর্ণ ওই এলাকায় সে সময় তারাপুর গ্রামে শুধু একটি মুসলিম পরিবার বাস করত। ওই পরিবারের সদস্যরা একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সমাজপ্রধানদের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু হিন্দুধর্মাবলম্বী সমাজপতিদের কাছে তাদের এ দাবি বারবার উপেক্ষিত হয়। পরে তারা রানী ভবানীর কাছে বিষয়টি তোলেন। তিনি তখন বাবার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি সম্মতি দিলেও হিন্দু সমাজপতিরা তাঁর কাছে এ কাজ বন্ধের আবেদন করেন। এ নিয়ে অনেক যুক্তিতর্কের পর তিনজনের নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন রানী ভবানী। ক্ষুদ্র এ মসজিদের প্রস্থ ৯ ফুট, উচ্চতা মিনারসহ ১২ ফুট। মিনারটির ঘের ২৭ ফুট। মসজিদটির মিহরাব এতই ক্ষুদ্র, যা ভিতরে না গেলে চোখে পড়ে না। মিহরাবের উচ্চতা সাড়ে ৩ ফুট, প্রস্থ দেড় ফুট। দরজার উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট, প্রস্থ আড়াই ফুট। সর্বোচ্চ তিনজন এ মসজিদে নামাজ পড়তে পারবেন। এ মসজিদের মতো আরেকটি মসজিদ রয়েছে পাশের মালশন গ্রামে। এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা তারাপুর গ্রামের মসজিদের চেয়ে একটু বেশি। নির্মাণশৈলী একই। এ মসজিদটি সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো ইতিহাস কেউ বলতে পারেন না। এখানে একসঙ্গে পাঁচজনের নামাজ আদায় করার মতো জায়গা রয়েছে। মসজিদ দুুটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে আর মুয়াজ্জিনের আজান ধ্বনিত হয় না। দুই গ্রামবাসী মসজিদ দুটি সংস্কার করে পুনরায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তারাপুর গ্রামের কাউন্সিলর মোহাম্মদ কামরুল বলেন, ‘প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এদিকে কখনো নজর দেয়নি। আমরা ব্যক্তিগতভাবে এটি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভ্রমণপিপাসু ও ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু দর্শনার্থীরা প্রায় প্রতিদিনই মসজিদটি দেখতে গ্রাম দুটিতে আসেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটির তদারকি না করলে যে কোনো সময় নষ্ট হতে পারে প্রাচীন এ স্থাপত্য দুটি।’