ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘সন্দেহ দেখছি না’, তামিমের খেলা নিয়ে প্রধান নির্বাচক

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:   

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজের মাঝামাঝি ঘোষণা করা হবে দল। তবে ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনায় রয়েছেন তামিম ইকবাল। দেশের সেরা এই ওপেনার কি থাকছেন টাইগারদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে? বৈশ্বিক এই আসরটির আগে কি সম্পূর্ণ ফিট হতে পারবেন তিনি? আর ফিট হলে কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়া এমন আসরে কি খেলার সুযোগ পাবেন তামিম? সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিসিবি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন তামিমের খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিসিবি। দেশসেরা এই ওপেনারের ওপর নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোন সন্দেহ দেখছি না। তামিম দেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন এবং এটা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। তিনি যখন ফিট হবেন তখনই খেলবেন এবং দলের সাথে থাকবেন। আমরা তার ওপর নজর রাখছি।’

চলতি বছরের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কা সফরে দুই টেস্ট সিরিজে ডান হাঁটুতে চোট পান তামিম ইকবাল। দীর্ঘ দিন ধরে হাঁটুর ইনজুরিতে ভোগা তামিম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও (ডিপিএল) খেলেছেন। তবে হাঁটুর ইনজুরিটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় আসরের মাঝপথেই বিশ্রাম নেন তিনি।

পরে জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজেও খেলতে পারেননি তামিম। চোটের কারণে সফরের একমাত্র টেস্ট খেলা হয়নি তার। তবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ‘ম্যানেজ করে’ খেললেও থাকেননি টি-টোয়েন্টি সিরিজে। এরপরে ঘরের মাঠে বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজেও ছিলেন না তামিম। থাকবেন না আসন্ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে তামিমের ব্যাপারে বলা হয়েছিল, ৮-১০ সপ্তাহ বিশ্রাম নিলে বিশ্বকাপের আগে ফিট হয়ে যাবেন তামিম। মূলত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই তাকে নিয়ে কোন ঝুঁকি নেয়নি বিসিবি। আর সেকারণে হাঁটুর চোটে পুনর্বাসনে থাকা তামিম সেপ্টেম্বরে মাঠে ফিরলেও থাকছেন না নিউজিল্যান্ড সিরিজে। তবে ইনজুরি কাটিয়ে ফিট হলেই দলে ফিরবেন বা দলের সঙ্গে থাকবেন তামিম। এক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি দল নির্বাচন করতে তামিমকে অটো চয়েস বানানো কেন, সেই প্রশ্ন রাখাই যায়।

উত্তরটা গত শুক্রবার গণমাধ্যমকে দিয়েছিলেন বিসিবি প্রধান নির্বাচক। তিনি জানিয়েছিলেন, তামিম টানা চারটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ না খেললেও বিশ্বকাপের মঞ্চে মানিয়ে নিতে তার সমস্যা হবে না।

প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘তামিমের অসাধারণ অভিজ্ঞতা আছে। যখন মাঠে নামবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানিয়ে নেওয়া ওর জন্য কোনো ব্যাপার না। ইনজুরি তো যেকোনো খেলোয়াড়েরই হতে পারে। ইনজুরির পর কত দ্রুত প্রত্যাবর্তন করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজটির প্রথম দুই বা তিনটি ম্যাচ দেখতে চাইছে। তবে কিউইদের বিপক্ষে ঘোষিত ১৯ সদস্যের থেকেই বাছাই করা হবে বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দল।

এদিকে বিশ্বকাপের মুল আসরে ঢুকতে হলে টাইগারদের পেরোতে হবে স্কটল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি ও ওমানদের বাধা। ‘বি’ গ্রুপে প্রত্যাশিত গ্রুপ সেরা হলে তাদের লড়তে হবে গ্রুপ ‘টু’ তে থাকা পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

দুই গ্রুপের ম্যাচ শেষ হবে ৮ নভেম্বর। প্রত্যেক গ্রুপের সেরা দুই দল খেলবে সেমিফাইনাল। ১০ নভেম্বর আবুধাবিতে প্রথম ও ১১ নভেম্বর দুবাইয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ নভেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে দিয়ে শেষ হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সন্দেহ দেখছি না’, তামিমের খেলা নিয়ে প্রধান নির্বাচক

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অগাস্ট ২০২১

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:   

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজের মাঝামাঝি ঘোষণা করা হবে দল। তবে ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনায় রয়েছেন তামিম ইকবাল। দেশের সেরা এই ওপেনার কি থাকছেন টাইগারদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে? বৈশ্বিক এই আসরটির আগে কি সম্পূর্ণ ফিট হতে পারবেন তিনি? আর ফিট হলে কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়া এমন আসরে কি খেলার সুযোগ পাবেন তামিম? সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিসিবি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন তামিমের খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিসিবি। দেশসেরা এই ওপেনারের ওপর নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোন সন্দেহ দেখছি না। তামিম দেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন এবং এটা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। তিনি যখন ফিট হবেন তখনই খেলবেন এবং দলের সাথে থাকবেন। আমরা তার ওপর নজর রাখছি।’

চলতি বছরের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কা সফরে দুই টেস্ট সিরিজে ডান হাঁটুতে চোট পান তামিম ইকবাল। দীর্ঘ দিন ধরে হাঁটুর ইনজুরিতে ভোগা তামিম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও (ডিপিএল) খেলেছেন। তবে হাঁটুর ইনজুরিটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় আসরের মাঝপথেই বিশ্রাম নেন তিনি।

পরে জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজেও খেলতে পারেননি তামিম। চোটের কারণে সফরের একমাত্র টেস্ট খেলা হয়নি তার। তবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ‘ম্যানেজ করে’ খেললেও থাকেননি টি-টোয়েন্টি সিরিজে। এরপরে ঘরের মাঠে বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজেও ছিলেন না তামিম। থাকবেন না আসন্ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে তামিমের ব্যাপারে বলা হয়েছিল, ৮-১০ সপ্তাহ বিশ্রাম নিলে বিশ্বকাপের আগে ফিট হয়ে যাবেন তামিম। মূলত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই তাকে নিয়ে কোন ঝুঁকি নেয়নি বিসিবি। আর সেকারণে হাঁটুর চোটে পুনর্বাসনে থাকা তামিম সেপ্টেম্বরে মাঠে ফিরলেও থাকছেন না নিউজিল্যান্ড সিরিজে। তবে ইনজুরি কাটিয়ে ফিট হলেই দলে ফিরবেন বা দলের সঙ্গে থাকবেন তামিম। এক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি দল নির্বাচন করতে তামিমকে অটো চয়েস বানানো কেন, সেই প্রশ্ন রাখাই যায়।

উত্তরটা গত শুক্রবার গণমাধ্যমকে দিয়েছিলেন বিসিবি প্রধান নির্বাচক। তিনি জানিয়েছিলেন, তামিম টানা চারটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ না খেললেও বিশ্বকাপের মঞ্চে মানিয়ে নিতে তার সমস্যা হবে না।

প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘তামিমের অসাধারণ অভিজ্ঞতা আছে। যখন মাঠে নামবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানিয়ে নেওয়া ওর জন্য কোনো ব্যাপার না। ইনজুরি তো যেকোনো খেলোয়াড়েরই হতে পারে। ইনজুরির পর কত দ্রুত প্রত্যাবর্তন করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজটির প্রথম দুই বা তিনটি ম্যাচ দেখতে চাইছে। তবে কিউইদের বিপক্ষে ঘোষিত ১৯ সদস্যের থেকেই বাছাই করা হবে বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দল।

এদিকে বিশ্বকাপের মুল আসরে ঢুকতে হলে টাইগারদের পেরোতে হবে স্কটল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি ও ওমানদের বাধা। ‘বি’ গ্রুপে প্রত্যাশিত গ্রুপ সেরা হলে তাদের লড়তে হবে গ্রুপ ‘টু’ তে থাকা পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

দুই গ্রুপের ম্যাচ শেষ হবে ৮ নভেম্বর। প্রত্যেক গ্রুপের সেরা দুই দল খেলবে সেমিফাইনাল। ১০ নভেম্বর আবুধাবিতে প্রথম ও ১১ নভেম্বর দুবাইয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ নভেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে দিয়ে শেষ হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসর।