ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: হাসনাত আবদুল্লাহ চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হরমুজে প্রতিটি হামলার জন্য একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ বছর দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার ছিল না: খায়রুল কবির খোকন পোশাক শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

যে গ্রামে দোকান চলে দোকানদার ছাড়াই

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

নাগাল্যান্ডের পাহাড়ঘেরা খোনোমা গ্রাম বিশেষভাবে নজর কাড়ে মানুষের জীবনধারা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে। এখানে এমন দোকান আছে, যেখানে কোনো দোকানদার নেই, তবু দিনের পর দিন ঠিকঠাক চলে।

খোনোমা কোনো পরিচিত পর্যটন স্পট নয়। শহরের কোলাহল বা আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রের ঝলমলে পরিবেশ নেই। তবে যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের উদাহরণ দেখতে চান, তাদের জন্য খোনোমা ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

গ্রামটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং শান্ত। এখানে চুরি বা অসৎ আচরণের ভয় নেই। ১৯৯৮ সালে খোনোমা নেচার কনজারভেশন অ্যান্ড ট্র্যাগোপান স্যাংচুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর এটি ভারতের প্রথম সবুজ গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত এই গ্রামে প্রধানত আংগামি নাগা জনগোষ্ঠীর বসবাস। শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর মানুষ বন সংরক্ষণ, কৃষিকাজ ও পশুপালনে বেশি মনোযোগ দেয়। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, গ্রামে প্রায় এক হাজার ৯০০ জন বাস করেন।

খোনোমার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দোকান ব্যবস্থা। এখানে অনেক দোকানেই কোনো দোকানদার নেই। ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নিয়ে নির্ধারিত টাকা রেখে যায়। গ্রামবাসীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এতটাই দৃঢ় যে কেউ প্রতারণার কথা ভাবতেই পারে না। অনেক বাড়িতেই তালা থাকে না, এবং কমিউনিটি লাইব্রেরি থেকে যে কেউ বই নিয়ে পড়তে পারে।

পর্যটকদের জন্য খোনোমা দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃতি, সবুজ বন এবং নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটা বা ট্রেকিং করা যায়। খোনোমা ফোর্ট ঐতিহাসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। উনিশ শতকে আংগামি নাগারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

খোনোমা গ্রাম দেখিয়ে দেয়, বিশ্বাস, সততা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে সমাজকে কত সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়। দোকানদার ছাড়াই দোকান, পরিবেশ সংরক্ষণ বা কমিউনিটি উদ্যোগ—প্রতিটি ক্ষেত্রে খোনোমা ব্যতিক্রমী উদাহরণ। ব্যস্ত আধুনিক জীবনে যখন মানবিক মূল্যবোধ ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন খোনোমা নতুন করে ভাবতে শেখায় যে উন্নয়ন মানে কেবল কংক্রিটের শহর নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন

যে গ্রামে দোকান চলে দোকানদার ছাড়াই

আপডেট সময় ১০:২৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

নাগাল্যান্ডের পাহাড়ঘেরা খোনোমা গ্রাম বিশেষভাবে নজর কাড়ে মানুষের জীবনধারা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে। এখানে এমন দোকান আছে, যেখানে কোনো দোকানদার নেই, তবু দিনের পর দিন ঠিকঠাক চলে।

খোনোমা কোনো পরিচিত পর্যটন স্পট নয়। শহরের কোলাহল বা আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রের ঝলমলে পরিবেশ নেই। তবে যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের উদাহরণ দেখতে চান, তাদের জন্য খোনোমা ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

গ্রামটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং শান্ত। এখানে চুরি বা অসৎ আচরণের ভয় নেই। ১৯৯৮ সালে খোনোমা নেচার কনজারভেশন অ্যান্ড ট্র্যাগোপান স্যাংচুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর এটি ভারতের প্রথম সবুজ গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত এই গ্রামে প্রধানত আংগামি নাগা জনগোষ্ঠীর বসবাস। শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর মানুষ বন সংরক্ষণ, কৃষিকাজ ও পশুপালনে বেশি মনোযোগ দেয়। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, গ্রামে প্রায় এক হাজার ৯০০ জন বাস করেন।

খোনোমার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দোকান ব্যবস্থা। এখানে অনেক দোকানেই কোনো দোকানদার নেই। ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নিয়ে নির্ধারিত টাকা রেখে যায়। গ্রামবাসীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এতটাই দৃঢ় যে কেউ প্রতারণার কথা ভাবতেই পারে না। অনেক বাড়িতেই তালা থাকে না, এবং কমিউনিটি লাইব্রেরি থেকে যে কেউ বই নিয়ে পড়তে পারে।

পর্যটকদের জন্য খোনোমা দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃতি, সবুজ বন এবং নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটা বা ট্রেকিং করা যায়। খোনোমা ফোর্ট ঐতিহাসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। উনিশ শতকে আংগামি নাগারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

খোনোমা গ্রাম দেখিয়ে দেয়, বিশ্বাস, সততা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে সমাজকে কত সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়। দোকানদার ছাড়াই দোকান, পরিবেশ সংরক্ষণ বা কমিউনিটি উদ্যোগ—প্রতিটি ক্ষেত্রে খোনোমা ব্যতিক্রমী উদাহরণ। ব্যস্ত আধুনিক জীবনে যখন মানবিক মূল্যবোধ ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন খোনোমা নতুন করে ভাবতে শেখায় যে উন্নয়ন মানে কেবল কংক্রিটের শহর নয়।