ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিছু খেলেই বুক জ্বালা ভাব হলে কী করবেন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

খেতে বড্ড ভালোবাসেন। তবে এখন খাবার সামনে দেখেও অরুচি আসে। কিছু খেলেই যেন পেটে জ্বালা করে। এমনটা হলে কিন্তু অবহেলা করবেন না। হতেই পারে। এই উপসর্গ পেপটিক আলসারের প্রাথমিক লক্ষণ। আলসার শব্দের অর্থ ‘ক্ষত’। এই ক্ষত পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে হতে পারে এবং তা থেকে পরবর্তী সময়ে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

খাদ্যনালিতে অধিক মাত্রায় এসিড উৎপন্ন হলে এই রোগ হয়। তা ছাড়া ‘এইচ পাইলোরি’ নামক একটি ব্যাকটেরিয়া থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। এ সংক্রমণের ফলেই ক্ষুদ্রান্ত্রের ভেতরে আলসার দেখা দিতে পারে। এই আলসার থেকে পরবর্তী সময়ে হতে পারে গুরুতর সমস্যা। তাই আলসার সম্পর্কে সচেতন হোন শুরু থেকেই।

কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন:

যদি প্রায়ই পেটের ওপরের ও মাঝের দিকে জ্বালা করে, কামড়ে ধরা ব্যথা হয় তবে সতর্ক হতে হবে।

গ্যাস্ট্রিক আলসারের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার দু-তিন ঘণ্টা পর পেটের ব্যথাটা বাড়ে। খাবার খাওয়ার পর যদি এমনটা প্রায়ই ঘটে, তা হলে তা আলসারের লক্ষণ হতে পারে।

খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেটে ব্যথা বাড়লেও আপনার আলসার হয়ে থাকতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হয়।

বুক জ্বালা করলে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। ঘন ঘন এমনটা হওয়া কিন্তু আলসারের লক্ষণ।

সারাক্ষণ গা গোলানো, বমি বমি ভাবের সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই আলসার হয়েছে কিনা পরীক্ষা করিয়ে নিন। পরিপাকতন্ত্রের আলসার কিন্তু প্রাণঘাতী হতে পারে। এ রোগের কারণে খাদ্যথলি বা খাদ্যনালিতে রক্তক্ষরণও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বমি কিংবা মলের সঙ্গে রক্ত বেরিয়ে আসে। এই রোগে বাড়াবাড়ি হলে খাদ্যথলি ফুটো হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা না করিয়ে ফেলে রাখলে এ আলসার থেকে সহজে মুক্তি মেলে না।

অনেকেরই ধারণা– ঝাল, তেল, মসলাদার খাবার খেলেই আলসার হতে পারে। এ ধারণা কিন্তু ভুল। এসব খাবার আলসারের জন্য দায়ী নয়। তবে এ খাবার রোগের তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে। ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস পরিপাকতন্ত্রে আলসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলেও শরীরে এই রোগ বাসা বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথা উপশম করার ওষুধ খাওয়া বন্ধ করুন। এমন অভ্যাসও এই মারণরোগ ডেকে আনছে।

লেখক: সাবেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বারডেম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিছু খেলেই বুক জ্বালা ভাব হলে কী করবেন

আপডেট সময় ১০:৩০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

খেতে বড্ড ভালোবাসেন। তবে এখন খাবার সামনে দেখেও অরুচি আসে। কিছু খেলেই যেন পেটে জ্বালা করে। এমনটা হলে কিন্তু অবহেলা করবেন না। হতেই পারে। এই উপসর্গ পেপটিক আলসারের প্রাথমিক লক্ষণ। আলসার শব্দের অর্থ ‘ক্ষত’। এই ক্ষত পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে হতে পারে এবং তা থেকে পরবর্তী সময়ে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

খাদ্যনালিতে অধিক মাত্রায় এসিড উৎপন্ন হলে এই রোগ হয়। তা ছাড়া ‘এইচ পাইলোরি’ নামক একটি ব্যাকটেরিয়া থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। এ সংক্রমণের ফলেই ক্ষুদ্রান্ত্রের ভেতরে আলসার দেখা দিতে পারে। এই আলসার থেকে পরবর্তী সময়ে হতে পারে গুরুতর সমস্যা। তাই আলসার সম্পর্কে সচেতন হোন শুরু থেকেই।

কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন:

যদি প্রায়ই পেটের ওপরের ও মাঝের দিকে জ্বালা করে, কামড়ে ধরা ব্যথা হয় তবে সতর্ক হতে হবে।

গ্যাস্ট্রিক আলসারের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার দু-তিন ঘণ্টা পর পেটের ব্যথাটা বাড়ে। খাবার খাওয়ার পর যদি এমনটা প্রায়ই ঘটে, তা হলে তা আলসারের লক্ষণ হতে পারে।

খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেটে ব্যথা বাড়লেও আপনার আলসার হয়ে থাকতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হয়।

বুক জ্বালা করলে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। ঘন ঘন এমনটা হওয়া কিন্তু আলসারের লক্ষণ।

সারাক্ষণ গা গোলানো, বমি বমি ভাবের সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই আলসার হয়েছে কিনা পরীক্ষা করিয়ে নিন। পরিপাকতন্ত্রের আলসার কিন্তু প্রাণঘাতী হতে পারে। এ রোগের কারণে খাদ্যথলি বা খাদ্যনালিতে রক্তক্ষরণও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বমি কিংবা মলের সঙ্গে রক্ত বেরিয়ে আসে। এই রোগে বাড়াবাড়ি হলে খাদ্যথলি ফুটো হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা না করিয়ে ফেলে রাখলে এ আলসার থেকে সহজে মুক্তি মেলে না।

অনেকেরই ধারণা– ঝাল, তেল, মসলাদার খাবার খেলেই আলসার হতে পারে। এ ধারণা কিন্তু ভুল। এসব খাবার আলসারের জন্য দায়ী নয়। তবে এ খাবার রোগের তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে। ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস পরিপাকতন্ত্রে আলসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলেও শরীরে এই রোগ বাসা বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথা উপশম করার ওষুধ খাওয়া বন্ধ করুন। এমন অভ্যাসও এই মারণরোগ ডেকে আনছে।

লেখক: সাবেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বারডেম।