ঢাকা ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

১০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বিরাট কোহলিরা

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

বিশ্বের ধনী ক্রিকেট বোর্ডের তালিকা করতে গেলে শুরুতেই থাকবে বিসিসিআই। কিন্তু তারাই শীর্ষ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বেতন দিচ্ছে না গত ১০ মাস ধরে।

বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, জাসপ্রিত বুমরাহসহ বিসিসিআইয়ের চুক্তিভুক্ত শীর্ষ ক্রিকেটাররা ১০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। গত অক্টোবর থেকে বেতন দেওয়া হচ্ছে না এসব ক্রিকেটারকে। চুক্তির চার ভাগের এক ভাগ পারিশ্রমিক গত অক্টোবরের মধ্যেই দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তিভুক্ত ২৭জন ক্রিকেটারকে এখনও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি।

কেবল বেতনই নয়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে খেলা দুটি টেস্ট, ৯টি ওয়ানডে ও ৮টি টি-টোয়েন্টিরি ম্যাচ ফিও ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে দেয়নি বিসিসিআই। সব মিলিয়ে বিসিসিআইয়ের কাছে ক্রিকেটারদের পাওনা ৯৯ কোটি রুপি।

‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরিতে থাকা বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, জাজপ্রিত বুমরাহরা বছরে ৭ কোটি রুপি করে পান। ‘এ’ ‘বি’ এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা বাৎসরিক বেতন হিসেবে যথাক্রমে ৫, ৩ ও ১ কোটি রুপি করে পান। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টির ম্যাচ ফি যথাক্রমে ১৫, ৬ এবং ৩ লাখ। কিন্তু এসব পারিশ্রমিক ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

২০১৮ সালের মার্চে বিসিসিআইয়ের প্রকাশ করা ব্যালান্স শিটে দেখা যায় ৫ হাজার ৫২৬ কোটি রুপি ব্যাংকে জমা আছে। এ ছাড়া স্থায়ী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে জমা রাখা আছে ২ হাজার ৯৯২ কোটি রুপি। এরপর ২০১৮ সালে ৬ হাজার ১৩৮ কোটি রুপিতে স্টার টিভির সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তি হয় বিসিসিআইয়ের।

এই হিসেবে কোহলি-রোহিতদের বেতন না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু শীর্ষ ৮জন ক্রিকেটার তাদের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে জানতে বিসিসিআইয়ের কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধুমালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ম্যাসেজ বা ফোন কলের উত্তর দেননি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত ডিসেম্বর থেকে বিসিসিআিইয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তার পদটি ফাঁকা পড়ে আছে। এ ছাড়া গত জুলাই থেকে প্রধান নির্বাহী ও ক্রিকেট অপারেশন্সের মহাব্যবস্থাপকও নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আগের কর্মীদের চুক্তি বিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটি দ্বারা নবায়ন না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদগুলো এখনও ফাঁকা আছে।’

ভারতের সিনিয়র একজন ক্রিকেটার জানিয়েছেন, বোর্ড সাধারণত খেলোয়াড়দের প্রতি তিন মাস অন্তর চুক্তির বকেয়ার জন্য চালান সংগ্রহ করতে বলে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেটা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘নতুন চুক্তির পর তারা এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি। চার কিস্তিতে আমাদের পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে বিসিসিআই। কিন্তু এবার কখন পাবো, আমরা তা জানি না। গত মাসে নিউজিল্যান্ড সফরের পারিশ্রমিক নিয়ে কথা শুনেছি। কিন্তু এখনও তা বুঝে পাইনি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

১০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বিরাট কোহলিরা

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২০

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

বিশ্বের ধনী ক্রিকেট বোর্ডের তালিকা করতে গেলে শুরুতেই থাকবে বিসিসিআই। কিন্তু তারাই শীর্ষ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বেতন দিচ্ছে না গত ১০ মাস ধরে।

বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, জাসপ্রিত বুমরাহসহ বিসিসিআইয়ের চুক্তিভুক্ত শীর্ষ ক্রিকেটাররা ১০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। গত অক্টোবর থেকে বেতন দেওয়া হচ্ছে না এসব ক্রিকেটারকে। চুক্তির চার ভাগের এক ভাগ পারিশ্রমিক গত অক্টোবরের মধ্যেই দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তিভুক্ত ২৭জন ক্রিকেটারকে এখনও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি।

কেবল বেতনই নয়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে খেলা দুটি টেস্ট, ৯টি ওয়ানডে ও ৮টি টি-টোয়েন্টিরি ম্যাচ ফিও ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে দেয়নি বিসিসিআই। সব মিলিয়ে বিসিসিআইয়ের কাছে ক্রিকেটারদের পাওনা ৯৯ কোটি রুপি।

‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরিতে থাকা বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, জাজপ্রিত বুমরাহরা বছরে ৭ কোটি রুপি করে পান। ‘এ’ ‘বি’ এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা বাৎসরিক বেতন হিসেবে যথাক্রমে ৫, ৩ ও ১ কোটি রুপি করে পান। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টির ম্যাচ ফি যথাক্রমে ১৫, ৬ এবং ৩ লাখ। কিন্তু এসব পারিশ্রমিক ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

২০১৮ সালের মার্চে বিসিসিআইয়ের প্রকাশ করা ব্যালান্স শিটে দেখা যায় ৫ হাজার ৫২৬ কোটি রুপি ব্যাংকে জমা আছে। এ ছাড়া স্থায়ী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে জমা রাখা আছে ২ হাজার ৯৯২ কোটি রুপি। এরপর ২০১৮ সালে ৬ হাজার ১৩৮ কোটি রুপিতে স্টার টিভির সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তি হয় বিসিসিআইয়ের।

এই হিসেবে কোহলি-রোহিতদের বেতন না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু শীর্ষ ৮জন ক্রিকেটার তাদের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে জানতে বিসিসিআইয়ের কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধুমালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ম্যাসেজ বা ফোন কলের উত্তর দেননি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত ডিসেম্বর থেকে বিসিসিআিইয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তার পদটি ফাঁকা পড়ে আছে। এ ছাড়া গত জুলাই থেকে প্রধান নির্বাহী ও ক্রিকেট অপারেশন্সের মহাব্যবস্থাপকও নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আগের কর্মীদের চুক্তি বিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটি দ্বারা নবায়ন না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদগুলো এখনও ফাঁকা আছে।’

ভারতের সিনিয়র একজন ক্রিকেটার জানিয়েছেন, বোর্ড সাধারণত খেলোয়াড়দের প্রতি তিন মাস অন্তর চুক্তির বকেয়ার জন্য চালান সংগ্রহ করতে বলে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেটা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘নতুন চুক্তির পর তারা এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি। চার কিস্তিতে আমাদের পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে বিসিসিআই। কিন্তু এবার কখন পাবো, আমরা তা জানি না। গত মাসে নিউজিল্যান্ড সফরের পারিশ্রমিক নিয়ে কথা শুনেছি। কিন্তু এখনও তা বুঝে পাইনি।’