ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসিকে উদ্ধার করলেন ডিসি ও এসপি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকা উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করেছেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের উপস্থিতিতে ভিসিকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। এরপর কঠোর পুলিশি প্রহরায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। উদ্ধারকালে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে রেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেয়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একটি স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দেন। তারা ঘোষণা করেন, ভিসিকে এই শর্তে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে যে তিনি ভবিষ্যতে আর কখনোই চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার যখন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন, তখন শিক্ষার্থীরা এই দাবিটি মাইকে প্রচার করেন। এর আগে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রশাসনের এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা উদ্ধার অভিযানের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, একজন সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে তিনি নিরাপত্তা ও চিকিৎসার অনুরোধ জানিয়েছেন, যার প্রেক্ষিতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাকে কোন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে মূলত উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে, যা গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়। তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় স্বপদে বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে সোমবার সকালে নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভিসি বহিরাগত লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকেছিলেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং তার পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলন আরও তীব্র করে তোলেন। শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এর আগে শিক্ষার্থীরা মুখোশ মিছিল ও চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলের মতো কর্মসূচি পালন করেন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করে আসছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদ ও দাম্মামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট স্থগিত

অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসিকে উদ্ধার করলেন ডিসি ও এসপি

আপডেট সময় ০৮:২৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকা উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করেছেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের উপস্থিতিতে ভিসিকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। এরপর কঠোর পুলিশি প্রহরায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। উদ্ধারকালে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে রেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেয়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একটি স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দেন। তারা ঘোষণা করেন, ভিসিকে এই শর্তে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে যে তিনি ভবিষ্যতে আর কখনোই চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার যখন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন, তখন শিক্ষার্থীরা এই দাবিটি মাইকে প্রচার করেন। এর আগে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রশাসনের এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা উদ্ধার অভিযানের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, একজন সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে তিনি নিরাপত্তা ও চিকিৎসার অনুরোধ জানিয়েছেন, যার প্রেক্ষিতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাকে কোন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে মূলত উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে, যা গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়। তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় স্বপদে বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে সোমবার সকালে নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভিসি বহিরাগত লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকেছিলেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং তার পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলন আরও তীব্র করে তোলেন। শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এর আগে শিক্ষার্থীরা মুখোশ মিছিল ও চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলের মতো কর্মসূচি পালন করেন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করে আসছেন।