ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ইয়েমেন সংঘাত ও হুতি হামলা

দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সরে এসে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছিল সৌদি আরব। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে এ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইয়েমেনের নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রার পথে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটির অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বের করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বড় ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলতি গ্রীষ্মে হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতা বাড়ার পর গত মাসে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন রূপ নিয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে স্বীকৃত। ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও তেল অবকাঠামোয় আঘাত হানছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের বৈশ্বিক বাজারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। কয়েক বছরের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। গত মাসে সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

ইয়েমেনে প্রায় ১১ বছর ধরে চলা এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরব সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক তৎপরতার পথ বেছে নিয়েছিল। একপর্যায়ে রিয়াদ শান্তি আলোচনার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনেও সফল হয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কিছু কৌশলগত হিসাবের ভুল রয়েছে। গত বছরের শেষভাগে ইয়েমেনে নিজেদের পছন্দের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এর জেরে আবুধাবি তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নিলে ইয়েমেনে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়, যা হুতিরা কাজে লাগিয়েছে।

দক্ষিণ ইয়েমেনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আমিরাতি সেনারা চলে যাওয়ার সময় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি ঠিকমতো হয়নি। আমিরাতের বাহিনীর সুসংগঠিত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাব রিয়াদ পূরণ করতে না পারায় স্থানীয় যোদ্ধারাও মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে হুতিরা যুদ্ধবিরতি ভেঙে লোহিত সাগর ও কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। আবুধাবির অধীনে দীর্ঘদিন লড়াই করা হাজারো যোদ্ধাও সৌদির নতুন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি। এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেন, সৌদি আরব হুতিদের এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব তাদের মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এদিকে হুতিদের হাতে থাকা উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এখন সরাসরি সৌদি শহরগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাঁর ভাষ্য, ইউএইর বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল দক্ষ; কিন্তু সৌদি আরব তার কার্যকর বিকল্প গড়ে তুলতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতাও সৌদি আরবের জন্য সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ মর্যাদা পেলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে মার্কিন প্রতিশ্রুতি বাস্তবে যথেষ্ট পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুইবার ফোনালাপে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার অনুরোধ জানান। কিন্তু ট্রাম্প এতে সরাসরি জড়াতে অস্বীকৃতি জানান এবং কূটনৈতিক পথ অনুসরণে গুরুত্ব দেন।

এর আগে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবে দুইজন নিহত এবং চারজন বাংলাদেশি কর্মী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া এই পরিস্থিতির কারণে প্রায় তিন হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ঢাকায় আটকা পড়েছেন।

সঙ্কট মোকাবিলায় সৌদি আরব এখন আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহযোগিতা খুঁজছে। মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এবং ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি সেই প্রচেষ্টারই অংশ। পাশাপাশি, গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা কাজ করছেন এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে থাকবে, তা নিয়েও রিয়াদের মূল্যায়নে ভুল ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত সোমবার রিয়াদে আয়োজিত জরুরি বৈঠকের পর সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারে সম্মত হয়েছে। তবে ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের উপদেষ্টা হিশাম আল-ওমাইসির মতে, কেবল বাইরের সামরিক সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। জোটের অভ্যন্তরীণ কমান্ড ব্যবস্থাকে একীভূত করা এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন না করলে কোনো সামরিক সাফল্যই শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বিরোধের ছায়া ইয়েমেন সংকটে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে। সৌদি আরবের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কীভাবে তারা নিজ দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে সুরক্ষিত রেখে আঞ্চলিক এই জটিল সমীকরণ সমাধান করবে, কারণ সামরিক অভিযান এবং কূটনৈতিক চাপ—কোনোটিই বর্তমানে স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেন সংঘাত ও হুতি হামলা

আপডেট সময় ১২:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সরে এসে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছিল সৌদি আরব। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে এ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইয়েমেনের নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রার পথে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটির অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বের করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বড় ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলতি গ্রীষ্মে হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতা বাড়ার পর গত মাসে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন রূপ নিয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে স্বীকৃত। ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও তেল অবকাঠামোয় আঘাত হানছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের বৈশ্বিক বাজারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। কয়েক বছরের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। গত মাসে সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

ইয়েমেনে প্রায় ১১ বছর ধরে চলা এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরব সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক তৎপরতার পথ বেছে নিয়েছিল। একপর্যায়ে রিয়াদ শান্তি আলোচনার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনেও সফল হয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কিছু কৌশলগত হিসাবের ভুল রয়েছে। গত বছরের শেষভাগে ইয়েমেনে নিজেদের পছন্দের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এর জেরে আবুধাবি তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নিলে ইয়েমেনে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়, যা হুতিরা কাজে লাগিয়েছে।

দক্ষিণ ইয়েমেনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আমিরাতি সেনারা চলে যাওয়ার সময় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি ঠিকমতো হয়নি। আমিরাতের বাহিনীর সুসংগঠিত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাব রিয়াদ পূরণ করতে না পারায় স্থানীয় যোদ্ধারাও মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে হুতিরা যুদ্ধবিরতি ভেঙে লোহিত সাগর ও কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। আবুধাবির অধীনে দীর্ঘদিন লড়াই করা হাজারো যোদ্ধাও সৌদির নতুন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি। এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেন, সৌদি আরব হুতিদের এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব তাদের মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এদিকে হুতিদের হাতে থাকা উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এখন সরাসরি সৌদি শহরগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাঁর ভাষ্য, ইউএইর বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল দক্ষ; কিন্তু সৌদি আরব তার কার্যকর বিকল্প গড়ে তুলতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতাও সৌদি আরবের জন্য সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ মর্যাদা পেলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে মার্কিন প্রতিশ্রুতি বাস্তবে যথেষ্ট পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুইবার ফোনালাপে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার অনুরোধ জানান। কিন্তু ট্রাম্প এতে সরাসরি জড়াতে অস্বীকৃতি জানান এবং কূটনৈতিক পথ অনুসরণে গুরুত্ব দেন।

এর আগে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবে দুইজন নিহত এবং চারজন বাংলাদেশি কর্মী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া এই পরিস্থিতির কারণে প্রায় তিন হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ঢাকায় আটকা পড়েছেন।

সঙ্কট মোকাবিলায় সৌদি আরব এখন আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহযোগিতা খুঁজছে। মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এবং ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি সেই প্রচেষ্টারই অংশ। পাশাপাশি, গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা কাজ করছেন এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে থাকবে, তা নিয়েও রিয়াদের মূল্যায়নে ভুল ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত সোমবার রিয়াদে আয়োজিত জরুরি বৈঠকের পর সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারে সম্মত হয়েছে। তবে ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের উপদেষ্টা হিশাম আল-ওমাইসির মতে, কেবল বাইরের সামরিক সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। জোটের অভ্যন্তরীণ কমান্ড ব্যবস্থাকে একীভূত করা এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন না করলে কোনো সামরিক সাফল্যই শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বিরোধের ছায়া ইয়েমেন সংকটে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে। সৌদি আরবের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কীভাবে তারা নিজ দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে সুরক্ষিত রেখে আঞ্চলিক এই জটিল সমীকরণ সমাধান করবে, কারণ সামরিক অভিযান এবং কূটনৈতিক চাপ—কোনোটিই বর্তমানে স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।