ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

ভারত মহাসাগরে মিলল ১৪ পায়ের নতুন প্রাণী!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

তেলাপোকাও যে এমন অদ্ভুত চেহারা নিতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল। মহাসাগরের বুক থেকে উঠে এসেছে এই বিশালাকার তেলাপোকা।

ভারত মহাসাগরের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে এমন নতুন প্রজাতির প্রাণিটিকে খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।

প্রথমে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা এলাকায় এই প্রাণিটিকে প্রথম পাওয়া গিয়েছিল। দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল, জীবটি যেন মাথায় হেলমেট পরে রয়েছে। যেন স্টার ওয়ারের চরিত্র ডার্থ ভাদার।
এ মাসে প্রায় দু’বছরের গবেষণার পর সিঙ্গাপুরের গবেষকেরা এই প্রাণিটিকে একটি নতুন প্রাণির আবিষ্কার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘বাথিনোমাস রাক্ষস’। একটি বিশালাকার সমুদ্র তেলাপোকা।

গত ৮ জুলাই বিজ্ঞানী-গবেষকেরা এই নতুন প্রজাতি সম্পর্কে তাদের রিপোর্ট পেশ করেছেন। বায়োডাইভারসিটি রিসার্চ জার্নাল ‘জুকিজ’-এ এটি প্রকাশিত হয়েছে। এই জার্নাল যে কেউ পড়তে পারেন। পেপারের লেখক কোন্নি এম সিদাবালক, হেলেন পি এস উওং এবং পিটার কে এল এনজি লিখেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার শব্দ রাক্ষস ব্যবহার করা হয়েছে এর রূপের জন্য।’ যারাই এই নতুন প্রজাতির তেলাপোকাটিকে দেখেছেন, তারাই একে রাতের ভয়ানক স্বপ্নের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

কতটা ভয়ংকর এই সমুদ্র তেলাপোকা?

বাথিনোমাস রাক্ষসা এক ধরনের বিশালাকার জীব। বাথিনোমাস প্রজাতির এই জীবের শরীরে প্রায় ২০ ধরনের প্রজাতি রয়েছে। কাঁকড়া, লবস্টার এবং স্রিম্প জাতীয় প্রাণির সঙ্গে এর মিল রয়েছে। এগুলি এক ধরনের মাংসাশী জলের পোকা। খুব শীতল স্থানে মহাসাগরের বুকে এগুলির বাস। পাওয়া যায় প্রশান্ত, অ্যাটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরে। এই সমুদ্র তেলাপোকার ১৪টি পা রয়েছে। সমুদ্রের গর্ভে এই পা চালিয়েই খাবারের খোঁজ চালায় এরা। তেলাপোকার মতোই এদের মাথায় হেলমেটের মতো বস্তু থাকে, সেখানেই থাকে একাধিক চোখ।

৫০ সেন্টিমিটার (১.৬ ফুট) আকারের এই সমুদ্র তেলাপোকা সাধারণত সবচেয়ে বেশি বড় হয় ৩৩ সেন্টিমিটার। একটা পায়ের পাতার মাপের। ৫০ সেন্টিমিটারেরগুলি বিশাল আকারের। সেগুলির পরিমাণ কম। পশ্চিম অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে ৩৩ সেন্টিমিটারের সমুদ্র তেলাপোকা অসংখ্য রয়েছে।

এই গোটা প্রজেক্টটিতে কাজ করেছেন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর, রিসার্চ সেন্টার ফৎ ওশানোগ্রাফি এবং ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেসের গবেষকরা। দু-সপ্তাহ ধরে প্রায় ৬৩টি জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তারা। ১২ হাজার নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সমুদ্রের গভীরে গিয়ে জেলিফিশ, স্পঞ্জ, কেঁচো, শামুক, স্টারফিশ, কাঁকড়ার মতো অসংখ্য ৮০০ ধরনের প্রজাতি এনেছেন তারা। এর মধ্যে ১২ ধরনের প্রজাতি একেবারেই অজানা গবেষকদের কাছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

ভারত মহাসাগরে মিলল ১৪ পায়ের নতুন প্রাণী!

আপডেট সময় ১০:৩০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

তেলাপোকাও যে এমন অদ্ভুত চেহারা নিতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল। মহাসাগরের বুক থেকে উঠে এসেছে এই বিশালাকার তেলাপোকা।

ভারত মহাসাগরের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে এমন নতুন প্রজাতির প্রাণিটিকে খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।

প্রথমে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা এলাকায় এই প্রাণিটিকে প্রথম পাওয়া গিয়েছিল। দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল, জীবটি যেন মাথায় হেলমেট পরে রয়েছে। যেন স্টার ওয়ারের চরিত্র ডার্থ ভাদার।
এ মাসে প্রায় দু’বছরের গবেষণার পর সিঙ্গাপুরের গবেষকেরা এই প্রাণিটিকে একটি নতুন প্রাণির আবিষ্কার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘বাথিনোমাস রাক্ষস’। একটি বিশালাকার সমুদ্র তেলাপোকা।

গত ৮ জুলাই বিজ্ঞানী-গবেষকেরা এই নতুন প্রজাতি সম্পর্কে তাদের রিপোর্ট পেশ করেছেন। বায়োডাইভারসিটি রিসার্চ জার্নাল ‘জুকিজ’-এ এটি প্রকাশিত হয়েছে। এই জার্নাল যে কেউ পড়তে পারেন। পেপারের লেখক কোন্নি এম সিদাবালক, হেলেন পি এস উওং এবং পিটার কে এল এনজি লিখেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার শব্দ রাক্ষস ব্যবহার করা হয়েছে এর রূপের জন্য।’ যারাই এই নতুন প্রজাতির তেলাপোকাটিকে দেখেছেন, তারাই একে রাতের ভয়ানক স্বপ্নের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

কতটা ভয়ংকর এই সমুদ্র তেলাপোকা?

বাথিনোমাস রাক্ষসা এক ধরনের বিশালাকার জীব। বাথিনোমাস প্রজাতির এই জীবের শরীরে প্রায় ২০ ধরনের প্রজাতি রয়েছে। কাঁকড়া, লবস্টার এবং স্রিম্প জাতীয় প্রাণির সঙ্গে এর মিল রয়েছে। এগুলি এক ধরনের মাংসাশী জলের পোকা। খুব শীতল স্থানে মহাসাগরের বুকে এগুলির বাস। পাওয়া যায় প্রশান্ত, অ্যাটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরে। এই সমুদ্র তেলাপোকার ১৪টি পা রয়েছে। সমুদ্রের গর্ভে এই পা চালিয়েই খাবারের খোঁজ চালায় এরা। তেলাপোকার মতোই এদের মাথায় হেলমেটের মতো বস্তু থাকে, সেখানেই থাকে একাধিক চোখ।

৫০ সেন্টিমিটার (১.৬ ফুট) আকারের এই সমুদ্র তেলাপোকা সাধারণত সবচেয়ে বেশি বড় হয় ৩৩ সেন্টিমিটার। একটা পায়ের পাতার মাপের। ৫০ সেন্টিমিটারেরগুলি বিশাল আকারের। সেগুলির পরিমাণ কম। পশ্চিম অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে ৩৩ সেন্টিমিটারের সমুদ্র তেলাপোকা অসংখ্য রয়েছে।

এই গোটা প্রজেক্টটিতে কাজ করেছেন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর, রিসার্চ সেন্টার ফৎ ওশানোগ্রাফি এবং ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেসের গবেষকরা। দু-সপ্তাহ ধরে প্রায় ৬৩টি জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তারা। ১২ হাজার নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সমুদ্রের গভীরে গিয়ে জেলিফিশ, স্পঞ্জ, কেঁচো, শামুক, স্টারফিশ, কাঁকড়ার মতো অসংখ্য ৮০০ ধরনের প্রজাতি এনেছেন তারা। এর মধ্যে ১২ ধরনের প্রজাতি একেবারেই অজানা গবেষকদের কাছে।