আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
বলিউড অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাউত অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান দাবি করেন, বলিউডের অন্দরে থাকা কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিভাজনের কারণে গত আট বছরে তিনি বহু কাজ হারিয়েছেন। সেই সূত্রেই এবার এ অভিনেত্রীর তোপের মুখে পড়লেন এই সংগীতজ্ঞ।
কঙ্গনা অভিযোগ করেছেন, এর আগে রহমান তার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং তার ছবি ‘ইমারজেন্সি’-তে কাজ করতে চাননি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, এ আর রহমান এটিকে একটি ‘প্রোপাগান্ডা ধরনের ছবি’ বলে মনে করেছিলেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কঙ্গনা তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কে দেওয়া রহমানের একটি সাক্ষাৎকারের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি সুরকারকে সরাসরি উল্লেখ করে লেখেন, ‘প্রিয় রহমানজি, আমি একটি গেরুয়া দলকে সমর্থন করি বলে চলচ্চিত্র জগতে বহু কুসংস্কার ও পক্ষপাতের মুখে পড়েছি। কিন্তু আপনার মতো এতটা পক্ষপাতদুষ্ট ও ঘৃণ্য মানুষ আমি আর দেখিনি।’
কঙ্গনা জানান, তিনি রহমানের সঙ্গে তার পরিচালিত ছবি ‘ইমারজেন্সি’ নিয়ে আলোচনা করতে এবং ছবির গল্প শোনাতে আগ্রহী ছিলেন। ‘আমি আপনাকে ইমারজেন্সি ছবির গল্প বলতে চেয়েছিলাম। গল্প শোনা তো দূরের কথা, আপনি আমার সঙ্গে দেখা করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আমাকে বলা হয়েছিল, আপনি প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্যে নির্মিত কোনো ছবির অংশ হতে চান না,’ আরও লেখেন তিনি।
উল্লেখ্য, ‘ইমারজেন্সি’ ছবিতে কঙ্গনা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি ১৯৭৫–৭৭ সালের ভারতের জরুরি অবস্থার সময়কালকে কেন্দ্র করে নির্মিত। মুক্তির পর থেকেই এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ছবিটিতে অনুপম খের, শ্রেয়স তালপাড়ে এবং মিলিন্দ সোমানের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতারাও অভিনয় করেছেন।
তবে ছবিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কঙ্গনার দাবি, বহু সমালোচক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এর প্রশংসাও করেছেন। কঙ্গনা বলেন, ‘বিদ্রূপাত্মকভাবে ইমারজেন্সি অনেক সমালোচকের কাছেই একটি মাস্টারপিস হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এমনকি বিরোধী দলের নেতারাও ছবিটির ভারসাম্যপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির জন্য আমাকে প্রশংসাসূচক চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনি আপনার ঘৃণায় অন্ধ। আপনার জন্য আমার দুঃখ হয়।’
প্রসঙ্গত, ভিকি কৌশলের ঐতিহাসিক সিনেমা ‘ছাওয়া’ নিয়ে এ আর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। রহমান ছবিটিকে ‘বিভাজন সৃষ্টিকারী’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও একই সঙ্গে তিনি ছবির মূল বিষয়বস্তুর সাহসিকতার কথাও স্বীকার করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























