ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার বেলা ২টার দিকে মেডিকেল কলেজের সামনে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন চিকিৎসকরা।

এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর দাবি পূরণের আশ্বাস পান তারা। গত শুক্রবার রাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার পর তারা কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দেন। আগামীকাল সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাদিক।

বৈঠকে চিকিৎসকরা আট দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- হাসপাতালে প্রতিটি অ্যাডমিশন ইউনিটে ২ জন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড ও একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত রাখা এবং সকালের এক ঘণ্টা পর পর টহল টিম থাকা, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে। রাতে অন কল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকা। রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ জন এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিসিটিং টাইম চালু করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থায় একজন রোগীর সঙ্গে ২ জনের বেশি এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে না। পরিচালকের সঙ্গে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে সর্বদা মিডলেভেল ডাক্তার থাকতে হবে, বিশেষ করে এডমিশনের দিন।

অধিকাংশ সহকারী রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় শিখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, এ বিষয়ে তাদেরকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে তাদেরকে হাসপাতালের নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে। নিয়মিত ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে এবং হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে নির্ধারিত ভিসিটিং আওয়ার-এর ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে হাসপাতালে অপ্রীতির ঘটনার পর বিভিন্ন ওয়ার্ডে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা অনুপস্থিত থাকায় অন্য চিকিৎসক ও স্টাফ সেবা দিচ্ছেন। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। তারা জানান, চিকিৎসা সেবায় ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। তবে ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানিয়েছেন, সেবা যাতে বিঘ্নিত না হয় তারা সে চেষ্টাও করছেন। তিনি জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার চার নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ছাতক থেকে এক নারী ব্যথার কারণে ভর্তি হন। ওই সময় শিক্ষানবিশ চিকিৎসক অন্য ওয়ার্ডে অন্য রোগী দেখছিলেন। দেরি হওয়া নিয়ে ওই নারী রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রোগীর স্বজনরা মারমুখী হয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা ও আরেক নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে হেনস্তা করছেন। আরেক রোগীর এক স্বজন তাদের সামলানোর চেষ্টা করছেন। হাতে একটি ক্রাস নিয়ে রোগীর ওই স্বজন মারধর ও ভাঙচুরের চেষ্টা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার কৈতক গ্রামের শিমুল আহমদ, তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা ও দৌলতপুর গ্রামের জাবেদ মিয়াকে আটক করে। ওই সময় তাদেরকে মারধরও করেন চিকিৎসক ও স্টাফরা। গতকাল শনিবার বিকেলে তাদেরকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির। তিনি জানান, কেউ মামলা না করায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০৫:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার বেলা ২টার দিকে মেডিকেল কলেজের সামনে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন চিকিৎসকরা।

এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর দাবি পূরণের আশ্বাস পান তারা। গত শুক্রবার রাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার পর তারা কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দেন। আগামীকাল সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাদিক।

বৈঠকে চিকিৎসকরা আট দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- হাসপাতালে প্রতিটি অ্যাডমিশন ইউনিটে ২ জন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড ও একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত রাখা এবং সকালের এক ঘণ্টা পর পর টহল টিম থাকা, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে। রাতে অন কল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকা। রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ জন এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিসিটিং টাইম চালু করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থায় একজন রোগীর সঙ্গে ২ জনের বেশি এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে না। পরিচালকের সঙ্গে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে সর্বদা মিডলেভেল ডাক্তার থাকতে হবে, বিশেষ করে এডমিশনের দিন।

অধিকাংশ সহকারী রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় শিখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, এ বিষয়ে তাদেরকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে তাদেরকে হাসপাতালের নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে। নিয়মিত ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে এবং হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে নির্ধারিত ভিসিটিং আওয়ার-এর ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে হাসপাতালে অপ্রীতির ঘটনার পর বিভিন্ন ওয়ার্ডে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা অনুপস্থিত থাকায় অন্য চিকিৎসক ও স্টাফ সেবা দিচ্ছেন। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। তারা জানান, চিকিৎসা সেবায় ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। তবে ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানিয়েছেন, সেবা যাতে বিঘ্নিত না হয় তারা সে চেষ্টাও করছেন। তিনি জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার চার নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ছাতক থেকে এক নারী ব্যথার কারণে ভর্তি হন। ওই সময় শিক্ষানবিশ চিকিৎসক অন্য ওয়ার্ডে অন্য রোগী দেখছিলেন। দেরি হওয়া নিয়ে ওই নারী রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রোগীর স্বজনরা মারমুখী হয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা ও আরেক নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে হেনস্তা করছেন। আরেক রোগীর এক স্বজন তাদের সামলানোর চেষ্টা করছেন। হাতে একটি ক্রাস নিয়ে রোগীর ওই স্বজন মারধর ও ভাঙচুরের চেষ্টা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার কৈতক গ্রামের শিমুল আহমদ, তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা ও দৌলতপুর গ্রামের জাবেদ মিয়াকে আটক করে। ওই সময় তাদেরকে মারধরও করেন চিকিৎসক ও স্টাফরা। গতকাল শনিবার বিকেলে তাদেরকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির। তিনি জানান, কেউ মামলা না করায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।