ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

রবিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা জানান। এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ১৮ ও ১৯ জুলাই দেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত দিন। এই দু’দিনে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হটস্পট ছিল মোহাম্মদপুর এলাকা। এখানে ৯ জনকে হত্যা করা হয়। আহত হন অসংখ্য মানুষ। আত্মত্যাগকারী ৯ শহীদ হলেন ফারহান ফাইয়াজ, মাহমুদুর রহমান সৈকত, রাজু আহমেদ, মাহিন, মোহাম্মদ রনি, আল শাহরিয়ার রোকন, ইসমাইল হোসেন, জসিম উদ্দীন ও জুবাইদ হোসেন ইমন।

তিনি বলেন, এসব শহীদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই বাংলাদেশ। আমাদের অঙ্গীকার ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, যারা রাজপথে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে সংগঠনের ভূমিকা পালন করেছে, যারা পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা বা মাস্টারমাইন্ড ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে আমরা বিচারের মুখোমুখি করব। সেই অঙ্গীকারের ফলশ্রুতিতে আমাদের তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। এসব অপরাধীর ব্যাপারে তারা তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করেছেন। আগামী ২৯ জানুয়ারির পর পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।

শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকত প্রসঙ্গে তাজুল বলেন, খুবই প্রাণবন্ত ছেলে ছিল সৈকত। ফারহান ফাইয়াজও অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ছিল। আমাদের প্রত্যেক শহীদের একটা নিজস্ব গল্প বা নিজস্ব মহাকাব্যিক উপাখ্যান রয়েছে। সৈকতের উচ্চতা ছয় ফুটের মতো ছিল। ১৯ জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে মা-কে না জানিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে গিয়েছিল ছেলেটি। চায়না রাইফেল থেকে পুলিশের একটা দল যখন গুলিবর্ষণ শুরু করে, গুলিটা তখন সরাসরি তার কপাল ভেদ করে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে শাহাদাত বরণ করেন সৈকত।

তাজুল ইসলাম বলেন, ফাইয়াজ ও সৈকতের শাহাদাতের ঘটনা ওই সময় ব্যাপক আলোচিত ও আবেগ সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনকে মারাত্মকভাবে উদ্বেলিত করেছিল। এসব ঘটনা আমরা এখানে বিচারের জন্য উপস্থাপন করেছি। বাংলাদেশের মাটিতে এই নিষ্ঠুরতম হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম

আপডেট সময় ০৩:৫৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

রবিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা জানান। এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ১৮ ও ১৯ জুলাই দেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত দিন। এই দু’দিনে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হটস্পট ছিল মোহাম্মদপুর এলাকা। এখানে ৯ জনকে হত্যা করা হয়। আহত হন অসংখ্য মানুষ। আত্মত্যাগকারী ৯ শহীদ হলেন ফারহান ফাইয়াজ, মাহমুদুর রহমান সৈকত, রাজু আহমেদ, মাহিন, মোহাম্মদ রনি, আল শাহরিয়ার রোকন, ইসমাইল হোসেন, জসিম উদ্দীন ও জুবাইদ হোসেন ইমন।

তিনি বলেন, এসব শহীদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই বাংলাদেশ। আমাদের অঙ্গীকার ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, যারা রাজপথে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে সংগঠনের ভূমিকা পালন করেছে, যারা পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা বা মাস্টারমাইন্ড ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে আমরা বিচারের মুখোমুখি করব। সেই অঙ্গীকারের ফলশ্রুতিতে আমাদের তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। এসব অপরাধীর ব্যাপারে তারা তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করেছেন। আগামী ২৯ জানুয়ারির পর পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।

শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকত প্রসঙ্গে তাজুল বলেন, খুবই প্রাণবন্ত ছেলে ছিল সৈকত। ফারহান ফাইয়াজও অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ছিল। আমাদের প্রত্যেক শহীদের একটা নিজস্ব গল্প বা নিজস্ব মহাকাব্যিক উপাখ্যান রয়েছে। সৈকতের উচ্চতা ছয় ফুটের মতো ছিল। ১৯ জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে মা-কে না জানিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে গিয়েছিল ছেলেটি। চায়না রাইফেল থেকে পুলিশের একটা দল যখন গুলিবর্ষণ শুরু করে, গুলিটা তখন সরাসরি তার কপাল ভেদ করে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে শাহাদাত বরণ করেন সৈকত।

তাজুল ইসলাম বলেন, ফাইয়াজ ও সৈকতের শাহাদাতের ঘটনা ওই সময় ব্যাপক আলোচিত ও আবেগ সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনকে মারাত্মকভাবে উদ্বেলিত করেছিল। এসব ঘটনা আমরা এখানে বিচারের জন্য উপস্থাপন করেছি। বাংলাদেশের মাটিতে এই নিষ্ঠুরতম হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।