নিয়ম মেনে থাকুন, ক্লান্তি আসবে না লকডাউনে

37

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ঘরের কাজ, অফিসের কাজের চাপ আর অনিশ্চয়তায় অনেকটাই একঘেয়ে হয়ে পড়েছে লকডাউনে ঘরবন্দি দিন। এসব মিলে ক্লান্ত করে তুলছে প্রায় প্রতিটি মানুষকে। অফুরান বিশ্রামেও এই ক্লান্তি কাটার নয়। এসময় চাই এমন কিছু, যা ভিতর থেকে চনমনে করে তুলবে দেহমন। ক্লান্তি ভুলে সুস্থ থাকতে চাইলে জোর দিতে হবে সময়ে খাওয়া, ভাল খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়ামে।

খাবারের নিয়ম :

>>সময় মতো খাওয়াদাওয়া করুন। বহুসময় খালিপেটে থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গিয়ে ক্লান্ত লাগতে পারে।

>>আধ ঘণ্টা অন্তর কয়েক চুমুক করে পানি খান। সারা দিনে যেন আড়াই-তিন লিটার পানি খাওয়া হয়। কারণ ঠিকঠাক পানি না খেলে পানিশূন্যতার হাত ধরে দেখা দিতে পারে ক্লান্তি।

>>কফি-কোলা-মদ বেশি খেলে জলশূন্যতার আশঙ্কা বাড়ে। ক্লান্ত শরীরে মুড সুইং হতে থাকে ঘন ঘন। আবার বিকালের দিকে চা-কফি বেশি খেলে ঘুম কমে যায়। সে কারণেও ক্লান্ত লাগতে পারে। কাজেই দিনে ২-৩ কাপের বেশি চা-কফি খাবেন না। ঘুমের সমস্যা থাকলে বিকালের পর আর খাবেন না, বিশেষ করে কফি।

>>দিনের প্রতিটি খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন খান। ডিম, দুধ, দই, মাছ, মাংসের পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনও খান সমান তালে। যেমন, ডাল, ছোলা, রাজমা, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, বিনস, বীজ ইত্যাদি। এসবে পুষ্টি যেমন হবে, ক্লান্তিও কমবে। অল্প খাবারে পেট ভরবে ও বেশি ক্ষণ ভরা থাকবে বলে ওজনও বাড়তে পারবে না চট করে। তবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বেশি খেলে যদি পেটের সমস্যা হয়, রয়েসয়ে খাবেন। নয়তো গ্যাস-অম্বল-বদহজম হলেও ক্লান্তি বাড়বে।

>>ক্লান্তির একটা বড় কারণ রক্তাল্পতা। সে বিপদ ঠেকাতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান। সব রকম আমিষ খাবারেই আয়রন থাকে। থাকে সবুজ শাক-সব্জিতে। ভাতের পাতে লেবু তথা ভিটামিন সি খেলে সেই আয়রন ভালভাবে শোষিত হয়। খাওয়ার পর ফ্রুট স্যলাড খেলেও একই কাজ হবে। চা-কফি-কোলা আয়রন শোষণে বাধা দেয়। কাজেই খাওয়ার এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে এ সব খাবেন না।

>>ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে ক্লান্তি বাড়তে পারে। এই বিপদ এড়াতে কলা, বাদাম, ছোলা, সবুজ শাক-সবজি খান ঘুরিয়ে ফিরিয়ে।

>>মিষ্টি বেশি খেলে এক ধাক্কায় অনেকটা সুগার চলে আসে বলে সাময়িক ভাবে তরতাজা লাগে। বেশি সুগার এলে তাকে প্রশমিত করতে শরীরে ক্ষরিত হয় বেশি ইনসুলিন। এর খানিক ক্ষণের মধ্যে সুগার একদম কমে যায়, যাকে বলে সুগার ক্রাশ। তখন খুব ক্লান্ত লাগে। কাজেই চিনি, মিষ্টি যত কম খাওয়া যায় তত ভাল। এর কোনও গুণ নেই। ক্ষতিই করে কেবল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে।

>>ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খান পর্যাপ্ত। যেকোনও ফলেই সে আছে। বেশি আছে আমলকি, সবেদা, পেয়ারা, লেবু ও যে কোনও টক ফলে।

নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করুন :

অনিয়মিত, অগোছালো জীবনে ক্লান্তি বেশি আসে। কাজেই নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করুন। সকালে নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে উঠুন। হালকা ব্যায়াম করুন। ব্যায়ামে শরীরে ভাল লাগার হরমোন ক্ষরিত হয়। ক্লান্তি কমাতে যার বিরাট ভূমিকা। স্ট্রেস কমিয়ে মন ভাল রাখতেও সে অদ্বিতীয়। তার পাশাপাশি চেষ্টা করুন ভাল করে ঘুমোতেও।